০৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রোজার মাসে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শুরু, জনদুর্ভোগ চরমে

প্রতি বছর ঈদের আগে রাজশাহী শহরের যানজট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নেয় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এজন্য রোজার মাস জুড়েই তাদের বাড়তি তৎপরতা থাকে। এবারো রমজানে মানুষের দুর্ভোগ যাতে কম হয় সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। ঈদের আগ মুহুর্তে তাদের বাড়তি উদ্যোগ দৃশ্যমান হবে। কিন্তু রাজশাহী নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ কার্যক্রম নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

নগরীর রেলগেট এলাকায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিলো বেশ আগে থেকেই। নিউ মার্কেট থেকে রেলগেট শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর পার হয়ে ফ্লাইওভারটি পানি উন্ন্নয়ন বোর্ডের সামনে গিয়ে শেষ হবে। এতদিন এটি নির্মাণে কোন কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলেও রোজা শুরুর পরই এই ফ্লাইওভারটি নির্মাণ শুরু হয়। এটি নির্মাণের জন্য নিউ মার্কেট প্রান্তে পুলিশ ফাঁড়ির সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনের রাস্তাও বন্ধ করে চলছে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ। এর ফলে এই দুই এলাকায় রাস্তার একপাশ বন্ধ। এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় শুরু হয়েছে যানজট। দিন যত যাচ্ছে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ।

ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগে খুশি নগরীর সব স্তরের মানুষ। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায় সাধারণ মানুষ। তবে, রোজার মধ্যে এটির কাজ শুরু হওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না অনেকেই। এনিয়ে কথা হয় এই পথে চলা মানুষদের সাথে। পায়ে হাঁটা মানুষ, রিকশা চালক, প্রাইভেট কার চালক, মোটরসাইকেল আরোহী সকলেই এনিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, ঈদের আগে এমনিতেই রাস্তায় যানজট বেড়ে যায়। এরই মধ্যে রাস্তায় রিকশা, অটো রিকশা বেড়ে গেছে। আর এই সময়ে নগরীর ব্যস্ততম এই নিউ মার্কেট ও রেলগেট এলাকায় রাস্তার একপাশ বন্ধ রাখার কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পায়না।

একজন রিকশাচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, আমরাতো অশিক্ষিত মানুষ। আমাদের কথার কোন দাম নাই। আমাদের কষ্টেও কারো কিছু আসে যায় না। কিন্তু এইযে একদিকের রাস্তা বন্ধ করে মিস্ত্রি কাজ করছেন। এতেতো শুধু আমরা কষ্টে পড়ছি তাই নয়, সবাইতো কষ্টে পড়েছে। আর ঈদের সময়তো এই রাস্তা দিয়ে চলা আরো কষ্টকর হবে। এতদিন যেহেতু শুরু হয়ই নি এই কাজটা ঈদের পর শুরু করলে কি খুব ক্ষতি হয়ে যেতো ? এই রিকশা চালকের মত আরো অনেকেই এমন প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর ইসলাম বলেন, কাজ পেছানোর তো কিছু নেই। এটা তো সাময়িক একটি কাজ হচ্ছে। এটা তো দীর্ঘ দিন থাকবে না। শুধু কলম করার পরে ছেড়ে দিবে। জনগনের কোন ভোগান্তি হবে না। এমনিতে রমজান মাসে মানুষ কম রাস্তায় আসছে। আর ভোগন্তি যতটুকু হওয়ার সেটা কাজ না হলেও হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রোজার মাসে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শুরু, জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় : ০৬:০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

প্রতি বছর ঈদের আগে রাজশাহী শহরের যানজট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নেয় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এজন্য রোজার মাস জুড়েই তাদের বাড়তি তৎপরতা থাকে। এবারো রমজানে মানুষের দুর্ভোগ যাতে কম হয় সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। ঈদের আগ মুহুর্তে তাদের বাড়তি উদ্যোগ দৃশ্যমান হবে। কিন্তু রাজশাহী নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ কার্যক্রম নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

নগরীর রেলগেট এলাকায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিলো বেশ আগে থেকেই। নিউ মার্কেট থেকে রেলগেট শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর পার হয়ে ফ্লাইওভারটি পানি উন্ন্নয়ন বোর্ডের সামনে গিয়ে শেষ হবে। এতদিন এটি নির্মাণে কোন কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলেও রোজা শুরুর পরই এই ফ্লাইওভারটি নির্মাণ শুরু হয়। এটি নির্মাণের জন্য নিউ মার্কেট প্রান্তে পুলিশ ফাঁড়ির সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনের রাস্তাও বন্ধ করে চলছে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ। এর ফলে এই দুই এলাকায় রাস্তার একপাশ বন্ধ। এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় শুরু হয়েছে যানজট। দিন যত যাচ্ছে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ।

ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগে খুশি নগরীর সব স্তরের মানুষ। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায় সাধারণ মানুষ। তবে, রোজার মধ্যে এটির কাজ শুরু হওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না অনেকেই। এনিয়ে কথা হয় এই পথে চলা মানুষদের সাথে। পায়ে হাঁটা মানুষ, রিকশা চালক, প্রাইভেট কার চালক, মোটরসাইকেল আরোহী সকলেই এনিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, ঈদের আগে এমনিতেই রাস্তায় যানজট বেড়ে যায়। এরই মধ্যে রাস্তায় রিকশা, অটো রিকশা বেড়ে গেছে। আর এই সময়ে নগরীর ব্যস্ততম এই নিউ মার্কেট ও রেলগেট এলাকায় রাস্তার একপাশ বন্ধ রাখার কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পায়না।

একজন রিকশাচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, আমরাতো অশিক্ষিত মানুষ। আমাদের কথার কোন দাম নাই। আমাদের কষ্টেও কারো কিছু আসে যায় না। কিন্তু এইযে একদিকের রাস্তা বন্ধ করে মিস্ত্রি কাজ করছেন। এতেতো শুধু আমরা কষ্টে পড়ছি তাই নয়, সবাইতো কষ্টে পড়েছে। আর ঈদের সময়তো এই রাস্তা দিয়ে চলা আরো কষ্টকর হবে। এতদিন যেহেতু শুরু হয়ই নি এই কাজটা ঈদের পর শুরু করলে কি খুব ক্ষতি হয়ে যেতো ? এই রিকশা চালকের মত আরো অনেকেই এমন প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর ইসলাম বলেন, কাজ পেছানোর তো কিছু নেই। এটা তো সাময়িক একটি কাজ হচ্ছে। এটা তো দীর্ঘ দিন থাকবে না। শুধু কলম করার পরে ছেড়ে দিবে। জনগনের কোন ভোগান্তি হবে না। এমনিতে রমজান মাসে মানুষ কম রাস্তায় আসছে। আর ভোগন্তি যতটুকু হওয়ার সেটা কাজ না হলেও হবে।