০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সিলিন্ডারে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি -১৪ বছরে এলপিজির ব্যবহারকারী বেড়েছে ৩৮ লাখ

 

●২০২৩ সালে ২১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে
● সিলিন্ডার মান নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো সংস্থা
●চা, পান, মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি
●গাজীপুরের বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে ১৪

 

➢ ত্রুটিপূর্ণ গ্যাসের সিলিন্ডার বোমার চেয়েও বিপজ্জনক ছালেহ উদ্দিন আহমেদ, উপ-পরিচালক (ঢাকা), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর
➢ লিকেজ থেকে আগুনের ঘটনা ঘটছে, ব্যবহারকারীদের সচেতন হতে হবে মো. নূরুল আমিন, চেয়ারম্যান, বিইআরসি

 

রান্নার কাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলছে। ২০০৯ সালে পাইপলাইনে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো নতুন সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পর গাণিতিক হারে বেড়েছে এলপিজি-নির্ভরতা। তবে অসাবধানতা ও ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডারের কারণে একের পর এক ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যাও। এত দুর্ঘটনার পরও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের। দেশে গ্যাস সিলিন্ডারের মান নিয়ন্ত্রণ বা যাচাই-বাছাইয়ে নেই কোনো সংস্থা।

এদিকে আইনের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস। মহল্লার চা, পান, সিগারেট এমনকি মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে এসব গ্যাসের বোতল। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। সম্প্রতি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গ্যাসসিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪ জনে। এর আগে ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিচালা এলাকায় গ্যাসসিলিন্ডার লিকেজের আগুন থেকে দগ্ধ হয়ে নারী-শিশুসহ ৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজনসহ মোট ছয়জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। এভাবে প্রতিনিয়ত সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে কিংবা অসাবধানতার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৩০টি কোম্পানির অন্তত দুই কোটি সিলিন্ডার বাজারে রয়েছে। রান্না কাজে জনপ্রিয় এই গ্যাস এখন আতঙ্কের নাম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত এলপিজি গ্যাস ২ শতাংশ ও লাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস ৫ শতাংশ বাতাসের সংস্পর্শে এলেই তা ভাসতে থাকে। এক পর্যায়ে তা বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটাতে পারে। এখানে বিস্ফোরণ ঘটাতে হলে শূন্য দশমিক ২৫ জুল পরিমাণ শক্তিই যথেষ্ট। তবে আমাদের এখানে সরবরাহকৃত গ্যাস লাইনে প্রেশার বা চাপ ১০০ হলেও সিলিন্ডারে গ্যাসের চাপ থাকে মাত্র ৬-৭ ভাগ। এমন পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে ক্ষয়ক্ষতি খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। তবুও আমাদের এখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনাস্থল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে- বিস্ফোরণ হলেও সিলিন্ডার কিন্তু অক্ষত থাকছে। এর মানে আমাদের গৃহস্থালির বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটছে গ্যাস লিকেজ থেকে। মূলত সিলিন্ডার থেকে কানেকটিং পাইপ, চুলার রাবার কিংবা রেগুলেটরের ত্রুটি থেকে গ্যাস লিকেজ হচ্ছে। তা হয়ত বদ্ধ ঘরে জমা হচ্ছে। এক পর্যায়ে হিট বা স্পার্ক থেকে বিস্ফোরণ ঘটছে।

সূত্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে দেশে এলপি গ্যাসসিলিন্ডার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪০ লাখেরও বেশি। এই গ্যাসের ৮৪ শতাংশ ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে। কিন্তু ব্যবহারবিধি না মানায় এবং অসচেতনতায় বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে আসছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশে গ্যাসসিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৮৯৪টি। অর্থাৎ দিনে গড়ে দুটির বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র আরো জানায়, ২০২৩ সালে শুধু চুলার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ২১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। অধিকাংশ ঘটনাই ঘটছে গ্যাস লিকেজ থেকে। সিলিন্ডার সংশ্লিষ্ট উপকরণগুলো ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করা ও চুলা জ্বালানোর আগে সতর্ক না থাকায় এমন ঘটনা বাড়ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানায়, সিলিন্ডারের মধ্যে এলপি গ্যাস যে চাপ তৈরি করে, মানসম্পন্ন সিলিন্ডারে তারচেয়ে চারগুণ বেশি চাপ সহ্য করার সক্ষমতা রয়েছে। ফলে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় লিকেজ থেকে গ্যাস বেরিয়ে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটছে। গ্যাসসিলিন্ডার ব্যবহারে ‘রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন’ কঠোরভাবে মানার বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বলছে, ২০০৯ সালে দেশে এলপিজির চাহিদা ছিল ৬৫ হাজার টন। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৪ লাখ টন। ২০০৯ সালে এলপিজি ব্যবহারকারী ছিল দুই লাখ ২৫ হাজার, বর্তমানে তা ৪০ লাখ। এসব এলপিজির ৮৪ শতাংশ রান্নার কাজে, ১২ শতাংশ শিল্পে এবং চার শতাংশ গাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে তিন কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে চুলার (ইলেকট্রিক, গ্যাস ও মাটি) মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৮ হাজার ১৭৫টি। বিস্ফোরণের (সিলিন্ডার ও বয়লার) ঘটনা ঘটেছে ১২৫টি। এ ছাড়া অজ্ঞাত কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ৭৯৬টি।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক বছরে এলপিজি সিলিন্ডার আমদানি করা হয়েছে ৬ লাখের বেশি। এলপিজি ছাড়া অন্যান্য সিলিন্ডার আমদানি করা হয়েছে ৩ লাখের বেশি। পাশাপাশি দেশেও সিলিন্ডার নির্মাণের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বাজারজাত করেছে দেশে নির্মিত সিলিন্ডার। কিন্তু এসব সিলিন্ডারের মান পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত কোনো পরীক্ষা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ঢাকা) ছালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সিল্ডিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ড অনেক ভাবে হতে পারে। ব্যবহারকারীর অসাবধানতা, নিম্নমানের সংযোগ পাইপ ও রেগুলেটর সাধারণত দায়ী। ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার গ্যাসের চুলা বোমার চেয়েও বিপজ্জনক। এটা জেনেও আমরা নিয়মিত গ্যাস সিলিন্ডার পরীক্ষা করছি না। ফলস্বরূপ, আমরা ঝুঁকির মধ্যেই থেকে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান মো. নূরুল আমিন বলেন, এলপিজি গ্যাসসিলিন্ডার বিস্ফোরণ নয়, লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। এ জন্য ব্যবহারকারীদের সচেতন হতে হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস সিলিন্ডারে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি -১৪ বছরে এলপিজির ব্যবহারকারী বেড়েছে ৩৮ লাখ

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০২৪

 

●২০২৩ সালে ২১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে
● সিলিন্ডার মান নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো সংস্থা
●চা, পান, মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি
●গাজীপুরের বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে ১৪

 

➢ ত্রুটিপূর্ণ গ্যাসের সিলিন্ডার বোমার চেয়েও বিপজ্জনক ছালেহ উদ্দিন আহমেদ, উপ-পরিচালক (ঢাকা), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর
➢ লিকেজ থেকে আগুনের ঘটনা ঘটছে, ব্যবহারকারীদের সচেতন হতে হবে মো. নূরুল আমিন, চেয়ারম্যান, বিইআরসি

 

রান্নার কাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলছে। ২০০৯ সালে পাইপলাইনে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো নতুন সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পর গাণিতিক হারে বেড়েছে এলপিজি-নির্ভরতা। তবে অসাবধানতা ও ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডারের কারণে একের পর এক ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যাও। এত দুর্ঘটনার পরও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের। দেশে গ্যাস সিলিন্ডারের মান নিয়ন্ত্রণ বা যাচাই-বাছাইয়ে নেই কোনো সংস্থা।

এদিকে আইনের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস। মহল্লার চা, পান, সিগারেট এমনকি মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে এসব গ্যাসের বোতল। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। সম্প্রতি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গ্যাসসিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪ জনে। এর আগে ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিচালা এলাকায় গ্যাসসিলিন্ডার লিকেজের আগুন থেকে দগ্ধ হয়ে নারী-শিশুসহ ৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজনসহ মোট ছয়জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। এভাবে প্রতিনিয়ত সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে কিংবা অসাবধানতার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৩০টি কোম্পানির অন্তত দুই কোটি সিলিন্ডার বাজারে রয়েছে। রান্না কাজে জনপ্রিয় এই গ্যাস এখন আতঙ্কের নাম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত এলপিজি গ্যাস ২ শতাংশ ও লাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস ৫ শতাংশ বাতাসের সংস্পর্শে এলেই তা ভাসতে থাকে। এক পর্যায়ে তা বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটাতে পারে। এখানে বিস্ফোরণ ঘটাতে হলে শূন্য দশমিক ২৫ জুল পরিমাণ শক্তিই যথেষ্ট। তবে আমাদের এখানে সরবরাহকৃত গ্যাস লাইনে প্রেশার বা চাপ ১০০ হলেও সিলিন্ডারে গ্যাসের চাপ থাকে মাত্র ৬-৭ ভাগ। এমন পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে ক্ষয়ক্ষতি খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। তবুও আমাদের এখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনাস্থল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে- বিস্ফোরণ হলেও সিলিন্ডার কিন্তু অক্ষত থাকছে। এর মানে আমাদের গৃহস্থালির বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটছে গ্যাস লিকেজ থেকে। মূলত সিলিন্ডার থেকে কানেকটিং পাইপ, চুলার রাবার কিংবা রেগুলেটরের ত্রুটি থেকে গ্যাস লিকেজ হচ্ছে। তা হয়ত বদ্ধ ঘরে জমা হচ্ছে। এক পর্যায়ে হিট বা স্পার্ক থেকে বিস্ফোরণ ঘটছে।

সূত্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে দেশে এলপি গ্যাসসিলিন্ডার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪০ লাখেরও বেশি। এই গ্যাসের ৮৪ শতাংশ ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে। কিন্তু ব্যবহারবিধি না মানায় এবং অসচেতনতায় বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে আসছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশে গ্যাসসিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৮৯৪টি। অর্থাৎ দিনে গড়ে দুটির বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র আরো জানায়, ২০২৩ সালে শুধু চুলার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ২১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। অধিকাংশ ঘটনাই ঘটছে গ্যাস লিকেজ থেকে। সিলিন্ডার সংশ্লিষ্ট উপকরণগুলো ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করা ও চুলা জ্বালানোর আগে সতর্ক না থাকায় এমন ঘটনা বাড়ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানায়, সিলিন্ডারের মধ্যে এলপি গ্যাস যে চাপ তৈরি করে, মানসম্পন্ন সিলিন্ডারে তারচেয়ে চারগুণ বেশি চাপ সহ্য করার সক্ষমতা রয়েছে। ফলে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় লিকেজ থেকে গ্যাস বেরিয়ে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটছে। গ্যাসসিলিন্ডার ব্যবহারে ‘রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন’ কঠোরভাবে মানার বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বলছে, ২০০৯ সালে দেশে এলপিজির চাহিদা ছিল ৬৫ হাজার টন। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৪ লাখ টন। ২০০৯ সালে এলপিজি ব্যবহারকারী ছিল দুই লাখ ২৫ হাজার, বর্তমানে তা ৪০ লাখ। এসব এলপিজির ৮৪ শতাংশ রান্নার কাজে, ১২ শতাংশ শিল্পে এবং চার শতাংশ গাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে তিন কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে চুলার (ইলেকট্রিক, গ্যাস ও মাটি) মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৮ হাজার ১৭৫টি। বিস্ফোরণের (সিলিন্ডার ও বয়লার) ঘটনা ঘটেছে ১২৫টি। এ ছাড়া অজ্ঞাত কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ৭৯৬টি।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক বছরে এলপিজি সিলিন্ডার আমদানি করা হয়েছে ৬ লাখের বেশি। এলপিজি ছাড়া অন্যান্য সিলিন্ডার আমদানি করা হয়েছে ৩ লাখের বেশি। পাশাপাশি দেশেও সিলিন্ডার নির্মাণের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বাজারজাত করেছে দেশে নির্মিত সিলিন্ডার। কিন্তু এসব সিলিন্ডারের মান পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত কোনো পরীক্ষা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ঢাকা) ছালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সিল্ডিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ড অনেক ভাবে হতে পারে। ব্যবহারকারীর অসাবধানতা, নিম্নমানের সংযোগ পাইপ ও রেগুলেটর সাধারণত দায়ী। ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার গ্যাসের চুলা বোমার চেয়েও বিপজ্জনক। এটা জেনেও আমরা নিয়মিত গ্যাস সিলিন্ডার পরীক্ষা করছি না। ফলস্বরূপ, আমরা ঝুঁকির মধ্যেই থেকে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান মো. নূরুল আমিন বলেন, এলপিজি গ্যাসসিলিন্ডার বিস্ফোরণ নয়, লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। এ জন্য ব্যবহারকারীদের সচেতন হতে হবে।