০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভুয়া ডিবি-দুদক কর্মকর্তা সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা : শ্যালক-দুলাভাইসহ ৭ জন আটক

ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশ, দুদক কর্মকর্তা ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো সংঘবদ্ধ দুটি প্রতারকচক্র। এসব চক্রের সক্রিয় হোতা শ্যালক-দুলাভাইসহ সাতজন অবশেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভুয়া আইডি ও ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলেন- মো. রিয়াজ, ফিরোজ খান, মো. হাসান মুন্না, মো. মিজানুর রহমান, মো. মনির হোসেন, শান্ত মিয়া ও মো. মহসীন আহমেদ। গতকাল সোমবার বিকালে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কেএন রায় নিয়তি।

 

তিনি বলেন, গত শনিবার গোপন সংবাদে দিনভর রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালায় ডিএমপির লালবাগ বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এ সময় এই প্রতারকচক্রের সন্ধান পেয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অপারেটের ২৯টি সিম কার্ড, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টারের ৩টি আইডি কার্ড, দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালকের ২টি নকল আইডি কার্ড, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের নামের ৫০টি ভিজিটিং কার্ড ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের রিপোর্টারদের ১২টি ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়। গ্রেপ্তারকৃতরা সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই।

 

ডিএমপির গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মশিউর রহমান জানান, অনেক দিন ধরে কিছু লোক দুদকের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে রমনা মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলা তদন্তকালে গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সোস্যাল মিডিয়া, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারি, নির্বাচিত প্রতিনিধি যেমন- উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র ও ওয়ার্ড কমিশনার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত কোনো খবর ছাপা হলে তারা সে খবরের বিস্তারিত জেনে নিত। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হতে যার বিরুদ্ধে নিউজ হয়েছে ওই ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে অভিযোগটি প্রতারকদের কাছে তদন্তাধীন আছে বলে জানাত। বিষয়টি তারা সমাধান করে দিতে পারবে বলেও জানাত। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি অনিয়মের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের ভিতরে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করত। তারা প্রতারকদের কথা বিশ্বাস করে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে সমঝোতার চেষ্টা করত। প্রতারকরা এসব কাজের অর্থ ভুয়া নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত বিকাশ নম্বরে লেনদেন করত।

 

মশিউর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা একাধিক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কমিশনার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিরূপ কিছু পেলে নিউজ করবে না মর্মে টাকা দাবি করত। প্রতারকরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হঠাৎ ধনী হওয়া ব্যক্তিদের টার্গেট করে বাড়ি, খামার, গাড়ি ও জায়গা কেনার অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চেয়ে ভুয়া দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করত। জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা রমনা থানার মামলায় পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। যার তদন্তাধীন আছে।

 

এদিকে শ্যামপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, গত রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মাইক্রোবাসযোগে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলো মো. মিজানুর রহমান, মো. মনির হোসেন, শান্ত মিয়া ও মো. মহসীন আহমেদ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১টি মাইক্রোবাস, ১টি চাপাতি, ১টি দা, ডিবি পুলিশ এবং প্রেস লেখা স্টিকার, সাংবাদিকের আইডিকার্ড, দড়ি, গামছা, ৪টি মোবাইল, ১টি সুইচ গিয়ার চাকু, ১টি খেলনা পিস্তল ও এক জোড়া হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়।

 

এডিসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক ও তার সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স রবিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন কদমতলী থানার জনতাবাগ জোড়া খাম্বা স্ট্যান্ডার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে কয়েকজন লোক ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ডাকাতি করার জন্য অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন। তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাত দলের সদস্য। ঘটনার দিন রাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কদমতলী থানার জনতাবাগ জোড়াখাম্বা এলাকায় তারা ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কদমতলী থানার মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুয়া ডিবি-দুদক কর্মকর্তা সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা : শ্যালক-দুলাভাইসহ ৭ জন আটক

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪

ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশ, দুদক কর্মকর্তা ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো সংঘবদ্ধ দুটি প্রতারকচক্র। এসব চক্রের সক্রিয় হোতা শ্যালক-দুলাভাইসহ সাতজন অবশেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভুয়া আইডি ও ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলেন- মো. রিয়াজ, ফিরোজ খান, মো. হাসান মুন্না, মো. মিজানুর রহমান, মো. মনির হোসেন, শান্ত মিয়া ও মো. মহসীন আহমেদ। গতকাল সোমবার বিকালে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কেএন রায় নিয়তি।

 

তিনি বলেন, গত শনিবার গোপন সংবাদে দিনভর রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালায় ডিএমপির লালবাগ বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এ সময় এই প্রতারকচক্রের সন্ধান পেয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অপারেটের ২৯টি সিম কার্ড, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টারের ৩টি আইডি কার্ড, দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালকের ২টি নকল আইডি কার্ড, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের নামের ৫০টি ভিজিটিং কার্ড ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের রিপোর্টারদের ১২টি ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়। গ্রেপ্তারকৃতরা সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই।

 

ডিএমপির গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মশিউর রহমান জানান, অনেক দিন ধরে কিছু লোক দুদকের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে রমনা মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলা তদন্তকালে গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সোস্যাল মিডিয়া, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারি, নির্বাচিত প্রতিনিধি যেমন- উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র ও ওয়ার্ড কমিশনার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত কোনো খবর ছাপা হলে তারা সে খবরের বিস্তারিত জেনে নিত। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হতে যার বিরুদ্ধে নিউজ হয়েছে ওই ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে অভিযোগটি প্রতারকদের কাছে তদন্তাধীন আছে বলে জানাত। বিষয়টি তারা সমাধান করে দিতে পারবে বলেও জানাত। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি অনিয়মের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের ভিতরে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করত। তারা প্রতারকদের কথা বিশ্বাস করে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে সমঝোতার চেষ্টা করত। প্রতারকরা এসব কাজের অর্থ ভুয়া নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত বিকাশ নম্বরে লেনদেন করত।

 

মশিউর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা একাধিক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কমিশনার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিরূপ কিছু পেলে নিউজ করবে না মর্মে টাকা দাবি করত। প্রতারকরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হঠাৎ ধনী হওয়া ব্যক্তিদের টার্গেট করে বাড়ি, খামার, গাড়ি ও জায়গা কেনার অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চেয়ে ভুয়া দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করত। জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা রমনা থানার মামলায় পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। যার তদন্তাধীন আছে।

 

এদিকে শ্যামপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, গত রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মাইক্রোবাসযোগে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলো মো. মিজানুর রহমান, মো. মনির হোসেন, শান্ত মিয়া ও মো. মহসীন আহমেদ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১টি মাইক্রোবাস, ১টি চাপাতি, ১টি দা, ডিবি পুলিশ এবং প্রেস লেখা স্টিকার, সাংবাদিকের আইডিকার্ড, দড়ি, গামছা, ৪টি মোবাইল, ১টি সুইচ গিয়ার চাকু, ১টি খেলনা পিস্তল ও এক জোড়া হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়।

 

এডিসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক ও তার সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স রবিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন কদমতলী থানার জনতাবাগ জোড়া খাম্বা স্ট্যান্ডার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে কয়েকজন লোক ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ডাকাতি করার জন্য অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন। তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাত দলের সদস্য। ঘটনার দিন রাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কদমতলী থানার জনতাবাগ জোড়াখাম্বা এলাকায় তারা ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কদমতলী থানার মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।