০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ কোনো দেশের প্রভুত্ব মানবে না : মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মির্জা ফখরুল

রক্তের দামে কেনা বাংলাদেশ কোনো দেশের প্রভুত্ব মানবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি মনে করে, আমাদের ওপরে প্রভুত্ব করবে, তাদের জেনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিন সেই প্রভুত্ব স্বীকার করেনি। মোগল আমলে করেনি, ব্রিটিশ আমলে করেনি, পাকিস্তান আমলে করেনি, এখনো করবে না।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা রক্তের দাম দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। কারো দয়ায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারো দানে নয়’, গানটি উদ্ধৃত করেন।

 

ছাত্র ও যুবসমাজকে সেই বোধ নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব নিশ্চয়ই বিষয়গুলো দেখবে, অতীতেও দেখেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশকে পরাধীন করার ক্ষমতা কারো নেই। এই ভয়াবহ শাসকগোষ্ঠী, যারা নানা নাটক করে, জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে, তাদের একদিন চলে যেতেই হবে।

এ জন্য জনগণকে নিয়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে ছাত্র-শ্রমিক, যুবক  সবাইকে মাঠে নামার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, যারা পুলিশের একটি হুইসেল (বাঁশি), একটি সাউন্ড গ্রেনেডের আওয়াজ শুনে পালাবে না  সেই ধরনের মানসিকতা তৈরি করতে হবে, সেই ধরনের সাহস তৈরি করে দাঁড়াতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা বিরোধী দলকে আসতে দেয়নি। অত্যন্ত সুকৌশলে ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করেছে। এবার আরো চমৎকার নাটক করে নিজেরা নিজেরা ডামি প্রার্থী খাড়া করে নির্বাচন করেছে। যারা বিরোধী দল (জাতীয় পার্টি) বলে দাবি করে, তাদের আসন বণ্টন করে নির্বাচন করেছে। সেই নির্বাচনকে কেউ গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশে মানুষ গ্রহণ করেনি, আন্তর্জাতিক বিশ্বও গ্রহণ করেনি।

 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তাঁর ঘোষণার মধ্য দিয়ে জনগণ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তিনি কারো নাম উল্লেখ করে বলেন, ২৫ মার্চ কালোরাত। আওয়ামী লীগ অস্বীকার করতে পারে, এই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করেছে পাকিস্তানের সঙ্গে একটা দফারফা করার জন্য। যখন ব্যর্থ হয়েছে, তখন আমাদের তৎকালীন রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ যারা ছিলেন, তারা কেউ দেশে থাকেননি। ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আর মূল নেতা আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে চলে গেছেন। পরে জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বলেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে।

২৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর সাড়ে তিন মাস কারাবন্দি ছিলেন মির্জা ফখরুল। মুক্তির পর এই প্রথম তিনি সমাবেশে বক্তব্য দিলেন। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

 

মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ঢাকা মহানগর নেতা ইশরাক হোসেন, রফিকুল আলম প্রমুখ।

 

সমাবেশ উদ্বোধন করেন বিএনপির স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, যুবদলের সুলতান সালাহ উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে পেছনে রেখে, ফুটপাতে চেয়ার পেতে এ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশের পেছনে একটি কাপড়ের ওপর বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘ভারতীয় পণ্য বর্জন করুন’। তবে বক্তাদের কেউ কেউ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও পণ্য বর্জনের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ কোনো দেশের প্রভুত্ব মানবে না : মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

রক্তের দামে কেনা বাংলাদেশ কোনো দেশের প্রভুত্ব মানবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি মনে করে, আমাদের ওপরে প্রভুত্ব করবে, তাদের জেনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিন সেই প্রভুত্ব স্বীকার করেনি। মোগল আমলে করেনি, ব্রিটিশ আমলে করেনি, পাকিস্তান আমলে করেনি, এখনো করবে না।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা রক্তের দাম দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। কারো দয়ায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারো দানে নয়’, গানটি উদ্ধৃত করেন।

 

ছাত্র ও যুবসমাজকে সেই বোধ নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব নিশ্চয়ই বিষয়গুলো দেখবে, অতীতেও দেখেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশকে পরাধীন করার ক্ষমতা কারো নেই। এই ভয়াবহ শাসকগোষ্ঠী, যারা নানা নাটক করে, জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে, তাদের একদিন চলে যেতেই হবে।

এ জন্য জনগণকে নিয়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে ছাত্র-শ্রমিক, যুবক  সবাইকে মাঠে নামার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, যারা পুলিশের একটি হুইসেল (বাঁশি), একটি সাউন্ড গ্রেনেডের আওয়াজ শুনে পালাবে না  সেই ধরনের মানসিকতা তৈরি করতে হবে, সেই ধরনের সাহস তৈরি করে দাঁড়াতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা বিরোধী দলকে আসতে দেয়নি। অত্যন্ত সুকৌশলে ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করেছে। এবার আরো চমৎকার নাটক করে নিজেরা নিজেরা ডামি প্রার্থী খাড়া করে নির্বাচন করেছে। যারা বিরোধী দল (জাতীয় পার্টি) বলে দাবি করে, তাদের আসন বণ্টন করে নির্বাচন করেছে। সেই নির্বাচনকে কেউ গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশে মানুষ গ্রহণ করেনি, আন্তর্জাতিক বিশ্বও গ্রহণ করেনি।

 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তাঁর ঘোষণার মধ্য দিয়ে জনগণ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তিনি কারো নাম উল্লেখ করে বলেন, ২৫ মার্চ কালোরাত। আওয়ামী লীগ অস্বীকার করতে পারে, এই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করেছে পাকিস্তানের সঙ্গে একটা দফারফা করার জন্য। যখন ব্যর্থ হয়েছে, তখন আমাদের তৎকালীন রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ যারা ছিলেন, তারা কেউ দেশে থাকেননি। ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আর মূল নেতা আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে চলে গেছেন। পরে জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বলেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে।

২৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর সাড়ে তিন মাস কারাবন্দি ছিলেন মির্জা ফখরুল। মুক্তির পর এই প্রথম তিনি সমাবেশে বক্তব্য দিলেন। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

 

মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ঢাকা মহানগর নেতা ইশরাক হোসেন, রফিকুল আলম প্রমুখ।

 

সমাবেশ উদ্বোধন করেন বিএনপির স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, যুবদলের সুলতান সালাহ উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে পেছনে রেখে, ফুটপাতে চেয়ার পেতে এ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশের পেছনে একটি কাপড়ের ওপর বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘ভারতীয় পণ্য বর্জন করুন’। তবে বক্তাদের কেউ কেউ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও পণ্য বর্জনের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।