০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অর্থাভাবে ওষুধ কিনতে না পেরে নিজের পেটে ছুরিকাঘাত ও ফাঁস নিয়ে মৃত্যু ৩

◉ মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু
◉ ধামরাইয়ে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের দগ্ধ ৪

 

 

রাজধানীতে অর্থাভাবে চিকিৎসার যন্ত্রণা ও ওষুধ কিনতে না পেরে নিজের পেটে নিজেই ছুরিকাঘাত করে প্রাণ হারিয়েছেন এক রিকশাচালক। এদিকে ঝগড়ার জেরে স্বামীর ওপর অভিমান করে নিজ গলায় ফাঁস লাগিয়ে পুলিশ সদস্যের এক স্ত্রীসহ দু’জন আত্মহত্যা করেছে। এদিকে ধামরাইয়ে সেহেরির জন্য রান্নাঘরে গিয়ে চুলা জ¦ালানোর সময় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- জয়নাল আবেদীন (৪৫), পিংকী সাহা (৩৫), আমিনুর রহমান (২৪), ফয়জুর রহমান (৫২), শিরি বেগম (৪৫), সামিয়া (১৬), সাবিনা (১৩) ও সায়েম উদ্দিন (৮)। দগ্ধরা হলেন- নুরুল ইসলাম নান্নু মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫০), মেয়ে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নিশরাত জাহান সাথী (২২) ও ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আল হাদী সোহাগ (১৮)। গতকাল বুধবার পুলিশ ও হতাহতের পারিবারিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 

জানা যায়, গত ২৬ মার্চ ছুটির দিনে রাত ৮টার দিকে রিকশাচালক জয়নাল আবেদীনকে রক্তাক্ত জখমি ও অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আনেন তার ভাতিজা মো. মোতালেব। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ভাতিজা মোতালেব বলেন, আমার চাচা জয়নাল আবেদীন মগবাজার মধুবাগ এলাকায় থাকতেন। তিনি পেশায় ছিলেন রিকশাচালক। প্রায় প্রায় তিন বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন। অভাব অনটনে থাকায় চিকিৎসার জন্য জরুরি প্রযোজনীয় ওষুধ কিনতে না পেরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নিজ কক্ষে সবার অজান্তে নিজের ওপর জিদ করে ধারালো একটি ছুরি নিজেই নিজের পেটে ঢুকিয়ে দেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে, অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিলে রাত ৮টায় চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার ইসলামপুরে।

 

এদিকে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ৮টার দিকে পিংকী সাহা (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আনেন তার স্বামী শিবু সাহা। এসময় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, নিহতের স্বামী শিবু সাহা পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত। তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে পরিবারকে নিয়ে থাকেন রাজধানীর কদমতলী থানার দীপ্ত গলি এলাকার ৯/১ নম্বরের একটি বাসায়। পাািরবারিক বিষয় নিয়ে সন্ধ্যার দিকে স্বামীর সাথে ঝগড়া হয় গৃহবধূ পিংকী সাহার। এর জের ধরে নিজ শয়ন কক্ষে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকেন পিংকী সাহা। পরে তার স্বামী তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার কমলগঞ্জ থানার চর গাজুলিয়া গ্রামে। তিনি নিবারন সাহার কন্যা ছিলেন পিংকী সাহা।

 

অপরদিকে একইদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন এলিফ্যান্ট রোডের মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে নিজ বাসায় পরিবারে অজান্তে ফাঁস দেয় আমিনুর রহমান। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত পৌনে ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমিনুর রহমান কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের মো. শামীম রহমানের ছেলে। তিনি এলিফ্যান্ট রোডের মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে ভাড়া থাকতেন।

 

আমিনুরের ভাই মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই পড়াশোনার পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং করত। রাতে আমরা একসঙ্গে খাবার খেয়ে সে তার রুমে চলে যায়। পরে দেখতে পাই তার রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আমার ভাই আমিনুর রহমান নিজ গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে রয়েছে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি থানা পুলিশকে জানাই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। কী কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারি না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে। পৃথক এসব মৃত্যুর ঘটনাগুলো সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

 

এদিকে গত ২৬ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার ধামরাইয়ে পৌরসভার মোকামটোলা এলাকায় ইব্রাহিম হোসেন লিয়াকতের ৪ তলা বাড়ির নিচ তলায় ভাড়া বাসার রান্না ঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধরা হলেন- নুরুল ইসলাম নান্নু মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫০), মেয়ে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নিশরাত জাহান সাথী (২২) ও ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আল হাদী সোহাগ (১৮)। দগ্ধ নুরুল ইসলাম নান্নু উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের খাগাইল গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বুধবার বিকেলে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধামরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সোহেল রানা। তিনি বলেন, তারা তিতাসের গ্যাসের পাশাপাশি সিলিন্ডার গ্যাসও ব্যবহার করতেন। গ্যাস সিলিন্ডার, নাকি আবাসিক গ্যাস সংযোগের গ্যাস থেকে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে। তবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।

 

জানা যায়, ঘটনার সময় সেহেরির রান্না করতে রান্নাঘরে যান সুফিয়া বেগম। গ্যাসের চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারের ৪ সদস্য দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ফ্ল্যাটের আসবাবসহ বেশ কিছু মালামাল পুড়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর রিফফাত আরা বলেন, অগ্নিদগ্ধ ৪ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউটে পাঠিয়ে দেই। পরিবারের ৪ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

অপরদিকে গত ২৬ মার্চ ভোর ৫টার দিকে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালবাড়ি গ্রামের মখলিছ মিয়ার বাড়িতে
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- ফয়জুর রহমান, শিরি বেগম, সামিয়া, সাবিনা ও সায়েম উদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভোরে ঝড়-বৃষ্টি চলাকালে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বসতঘরের ওপর পরলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সোনিয়া আক্তার (৬) নামে এক শিশু আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

জুড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মাইনুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে ওষুধ কিনতে না পেরে নিজের পেটে ছুরিকাঘাত ও ফাঁস নিয়ে মৃত্যু ৩

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

◉ মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু
◉ ধামরাইয়ে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের দগ্ধ ৪

 

 

রাজধানীতে অর্থাভাবে চিকিৎসার যন্ত্রণা ও ওষুধ কিনতে না পেরে নিজের পেটে নিজেই ছুরিকাঘাত করে প্রাণ হারিয়েছেন এক রিকশাচালক। এদিকে ঝগড়ার জেরে স্বামীর ওপর অভিমান করে নিজ গলায় ফাঁস লাগিয়ে পুলিশ সদস্যের এক স্ত্রীসহ দু’জন আত্মহত্যা করেছে। এদিকে ধামরাইয়ে সেহেরির জন্য রান্নাঘরে গিয়ে চুলা জ¦ালানোর সময় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- জয়নাল আবেদীন (৪৫), পিংকী সাহা (৩৫), আমিনুর রহমান (২৪), ফয়জুর রহমান (৫২), শিরি বেগম (৪৫), সামিয়া (১৬), সাবিনা (১৩) ও সায়েম উদ্দিন (৮)। দগ্ধরা হলেন- নুরুল ইসলাম নান্নু মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫০), মেয়ে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নিশরাত জাহান সাথী (২২) ও ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আল হাদী সোহাগ (১৮)। গতকাল বুধবার পুলিশ ও হতাহতের পারিবারিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 

জানা যায়, গত ২৬ মার্চ ছুটির দিনে রাত ৮টার দিকে রিকশাচালক জয়নাল আবেদীনকে রক্তাক্ত জখমি ও অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আনেন তার ভাতিজা মো. মোতালেব। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ভাতিজা মোতালেব বলেন, আমার চাচা জয়নাল আবেদীন মগবাজার মধুবাগ এলাকায় থাকতেন। তিনি পেশায় ছিলেন রিকশাচালক। প্রায় প্রায় তিন বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন। অভাব অনটনে থাকায় চিকিৎসার জন্য জরুরি প্রযোজনীয় ওষুধ কিনতে না পেরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নিজ কক্ষে সবার অজান্তে নিজের ওপর জিদ করে ধারালো একটি ছুরি নিজেই নিজের পেটে ঢুকিয়ে দেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে, অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিলে রাত ৮টায় চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার ইসলামপুরে।

 

এদিকে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ৮টার দিকে পিংকী সাহা (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আনেন তার স্বামী শিবু সাহা। এসময় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, নিহতের স্বামী শিবু সাহা পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত। তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে পরিবারকে নিয়ে থাকেন রাজধানীর কদমতলী থানার দীপ্ত গলি এলাকার ৯/১ নম্বরের একটি বাসায়। পাািরবারিক বিষয় নিয়ে সন্ধ্যার দিকে স্বামীর সাথে ঝগড়া হয় গৃহবধূ পিংকী সাহার। এর জের ধরে নিজ শয়ন কক্ষে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকেন পিংকী সাহা। পরে তার স্বামী তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার কমলগঞ্জ থানার চর গাজুলিয়া গ্রামে। তিনি নিবারন সাহার কন্যা ছিলেন পিংকী সাহা।

 

অপরদিকে একইদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন এলিফ্যান্ট রোডের মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে নিজ বাসায় পরিবারে অজান্তে ফাঁস দেয় আমিনুর রহমান। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত পৌনে ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমিনুর রহমান কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের মো. শামীম রহমানের ছেলে। তিনি এলিফ্যান্ট রোডের মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে ভাড়া থাকতেন।

 

আমিনুরের ভাই মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই পড়াশোনার পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং করত। রাতে আমরা একসঙ্গে খাবার খেয়ে সে তার রুমে চলে যায়। পরে দেখতে পাই তার রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আমার ভাই আমিনুর রহমান নিজ গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে রয়েছে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি থানা পুলিশকে জানাই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। কী কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারি না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে। পৃথক এসব মৃত্যুর ঘটনাগুলো সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

 

এদিকে গত ২৬ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার ধামরাইয়ে পৌরসভার মোকামটোলা এলাকায় ইব্রাহিম হোসেন লিয়াকতের ৪ তলা বাড়ির নিচ তলায় ভাড়া বাসার রান্না ঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধরা হলেন- নুরুল ইসলাম নান্নু মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫০), মেয়ে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নিশরাত জাহান সাথী (২২) ও ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আল হাদী সোহাগ (১৮)। দগ্ধ নুরুল ইসলাম নান্নু উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের খাগাইল গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বুধবার বিকেলে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধামরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সোহেল রানা। তিনি বলেন, তারা তিতাসের গ্যাসের পাশাপাশি সিলিন্ডার গ্যাসও ব্যবহার করতেন। গ্যাস সিলিন্ডার, নাকি আবাসিক গ্যাস সংযোগের গ্যাস থেকে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে। তবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।

 

জানা যায়, ঘটনার সময় সেহেরির রান্না করতে রান্নাঘরে যান সুফিয়া বেগম। গ্যাসের চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারের ৪ সদস্য দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ফ্ল্যাটের আসবাবসহ বেশ কিছু মালামাল পুড়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর রিফফাত আরা বলেন, অগ্নিদগ্ধ ৪ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউটে পাঠিয়ে দেই। পরিবারের ৪ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

অপরদিকে গত ২৬ মার্চ ভোর ৫টার দিকে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালবাড়ি গ্রামের মখলিছ মিয়ার বাড়িতে
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- ফয়জুর রহমান, শিরি বেগম, সামিয়া, সাবিনা ও সায়েম উদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভোরে ঝড়-বৃষ্টি চলাকালে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বসতঘরের ওপর পরলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সোনিয়া আক্তার (৬) নামে এক শিশু আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

জুড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মাইনুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।