০৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গভীর রাতে ছাত্রনেতাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ, উত্তাল বুয়েট

 

একটি বিশেষ রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনায় ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। গতকাল দুপুর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

এসময় তারা ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ৩০ ও ৩১ মার্চের টার্ম ফাইনালসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, ২৮ মার্চ রাত ১টার দিকে বুয়েটে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের বেশ কজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। অথচ রাত সাড়ে ১০টার পর যেখানে নিরাপত্তার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরই ক্যাম্পাসে ঢোকার অনুমতি নেই, সেখানে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট বহিরাগতরা মধ্যরাতেই ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ করে।

 

সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরও বলছেন, ২৮ মার্চ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক বহিরাগত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ক্যাম্পাসের মেইন গেটের সামনে আসতে থাকে। বিপুল সংখ্যক বহিরাগত ক্যাম্পাসে অনায়াসে প্রবেশ করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেখতে পান, মিছিলের মতো করে বিশাল একটি জনবহর হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে রাত ২টার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, এই বিশাল জনবহরের সবাই বহিরাগত। তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সেসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ওই ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের চিনতে পারেন।

 

বুয়েট শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী রাজনীতি নিষিদ্ধ এমন একটি ক্যাম্পাসে রাতের আঁধারে রাজনৈতিক সমাগম এবং বহিরাগতদের আগমন ক্যাম্পাসের মর্যাদার প্রতি অপমানজনক। একই সঙ্গে এটি একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

 

ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রবেশের ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ ব্যাচের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ রাব্বী জড়িত বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ইমতিয়াজ রাব্বীকে বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।

 

এছাড়া ইমতিয়াজ রাব্বীর সঙ্গে বুয়েটের বাকি যে সব শিক্ষার্থী জড়িত ছিলেন তাদের বিভিন্ন মেয়াদে হল এবং টার্ম বহিষ্কার, বহিরাগত রাজনৈতিক ব্যক্তি যারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, তারা কীভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার অনুমতি পেল এ বিষয়ে বুয়েট প্রশাসনের বক্তব্য দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার দাবিও জানান।

 

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে আবরার হত্যার পর বুয়েট ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি। এর আগেও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গভীর রাতে ছাত্রনেতাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ, উত্তাল বুয়েট

আপডেট সময় : ০৭:১৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

 

একটি বিশেষ রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনায় ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। গতকাল দুপুর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

এসময় তারা ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ৩০ ও ৩১ মার্চের টার্ম ফাইনালসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, ২৮ মার্চ রাত ১টার দিকে বুয়েটে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের বেশ কজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। অথচ রাত সাড়ে ১০টার পর যেখানে নিরাপত্তার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরই ক্যাম্পাসে ঢোকার অনুমতি নেই, সেখানে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট বহিরাগতরা মধ্যরাতেই ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ করে।

 

সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরও বলছেন, ২৮ মার্চ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক বহিরাগত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ক্যাম্পাসের মেইন গেটের সামনে আসতে থাকে। বিপুল সংখ্যক বহিরাগত ক্যাম্পাসে অনায়াসে প্রবেশ করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেখতে পান, মিছিলের মতো করে বিশাল একটি জনবহর হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে রাত ২টার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, এই বিশাল জনবহরের সবাই বহিরাগত। তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সেসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ওই ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের চিনতে পারেন।

 

বুয়েট শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী রাজনীতি নিষিদ্ধ এমন একটি ক্যাম্পাসে রাতের আঁধারে রাজনৈতিক সমাগম এবং বহিরাগতদের আগমন ক্যাম্পাসের মর্যাদার প্রতি অপমানজনক। একই সঙ্গে এটি একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

 

ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রবেশের ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ ব্যাচের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ রাব্বী জড়িত বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ইমতিয়াজ রাব্বীকে বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।

 

এছাড়া ইমতিয়াজ রাব্বীর সঙ্গে বুয়েটের বাকি যে সব শিক্ষার্থী জড়িত ছিলেন তাদের বিভিন্ন মেয়াদে হল এবং টার্ম বহিষ্কার, বহিরাগত রাজনৈতিক ব্যক্তি যারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, তারা কীভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার অনুমতি পেল এ বিষয়ে বুয়েট প্রশাসনের বক্তব্য দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার দাবিও জানান।

 

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে আবরার হত্যার পর বুয়েট ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি। এর আগেও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন।