০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২৪ ঘণ্টায় তিন ছাত্রীর আত্মহত্যা

 

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজন ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনজন ছাত্রীই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার দুপুর থেকে গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত এই তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব, আত্মসম্মানবোধ অনেক বেশি থাকা ও বন্ধু মহলে হেয় হওয়ার কারণেই মূলত আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তাজুল ইসলাম বলেন, অনাকাক্সিক্ষত বিষয় নিজে নিজে মেনে নেওয়া এগুলো বাদ দিতে হবে। কোনো কিছু ঘটলে সবাইকে তা জানিয়ে দিতে হবে। এটি করতে পারলে অপরাধী আর অন্যায় করার সাহস পাবে না। আর নিজেও আত্মহতার করার কথা চিন্তা করবে না।

আত্মহত্যায় নিহত তিন শিক্ষার্থী হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আদ্রিতা বিনতে মোশারফ (২১), নাটোর এনএস সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান মারিয়া বৈশাখী (১৮) ও যশোরের মনিরামপুরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাবিহা (১৯)।

 

এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা আহত হয়ে দুই মাস সাত দিন চিকিৎসাধীন থেকে মৃত্যুবরণ করেছেন রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের (২০১৯-২০) ছাত্রী সানজিদা অর্নি (২২)। শনিবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সূত্রমতে, রোববার ভোরে রাজধানীর দক্ষিণ ফুলার রোডে ঢাবির আবাসিক কোয়ার্টারের ১৯ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আদ্রিতা বিনতে মোশারফের (২১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

আদ্রিতার বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম থানার মজলিশপুর গ্রামে। তার বাবা অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক। বাবা-মায়ের সঙ্গেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকতেন তিনি।

 

জানা যায়, রাত সাড়ে ৪টার দিকে সাহরি খেতে আদ্রিতার বাবা অধ্যাপক মোশারফ হোসেন তার কক্ষের সামনে গিয়ে ডাকছিলেন। কিন্তু তার কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে তিনি কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

 

এর আগে শনিবার দুপুরে ও রাতে আত্মহত্যা করেন দুই ছাত্রী। এর মধ্যে নাটোর শহরের একটি ছাত্রীনিবাস থেকে নাটোর এনএস সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান মারিয়া বৈশাখীর (১৮) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের উত্তর বরগাছা জোলারবাতা এলাকার হাফসা ছাত্রীনিবাস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সে জেলা ব্যাডমিন্টন দলের খেলোয়াড় ছিল বলেও জানা গেছে।

 

জানা যায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রীনিবাসের তৃতীয় তলার ছাত্রীরা বৈশাখীর রুমের দরজা বন্ধ দেখে তাকে ডাকলেও কোনো সাড়া পায়নি। এরপর তার পরিবার ও পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে বৈশাখীর রুমের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

এছাড়া যশোরের মনিরামপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাবিহা। পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চান তিনি। কিন্তু ক্ষমা না পেয়ে পরীক্ষার হল থেকে বাড়িতে এসে আত্মহত্যা করেন এই কলেজছাত্রী। আত্মহত্যার আগে একটি চিরকুট লিখে যান সাবিহা। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন ক্ষমা চাওয়ার পরও দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা তার খাতা ফেরত দেননি দায়িত্বে থাকা শিক্ষক, তাই লজ্জায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

 

শনিবার দুপুরে মনিরামপুরের বাগডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সাবিহা ওই দিন সকালে গ্রামের বাড়ি বাগডাঙ্গা থেকে গোপালপুর স্কুল এন্ড কলেজে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

আত্মহত্যা করার পেছনে বহুবিধ কারণ আছে উল্লেখ করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আত্মহত্যা যারা করছে তার প্রধান একটা অংশ তরুণ-তরুণী বা কিশোর-কিশোরী। এর প্রাথমিক কারণ হচ্ছে কিছু তরুণ-কিশোরের মানসিক গঠনেই দুর্বলতা থাকে। তারা অল্পতেই ভেঙে পড়ে। তারা খুব বেশি আবেগী হয়, জেদী হয়। তারা যা চায় তা না পেলে সেটা খুব চরমভাবে এটার প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে চেষ্টা করে। আর অন্যদিকটা হচ্ছে, পরিবারেও অনেক রকমের ব্যাপার স্যাপার থাকে। মা-বাবা এবং ভাই-বোনদের কাছ থেকে এক ধরনের দূরত্ব থাকে, যেটাকে আমরা জেনারেশন গ্যাপ বলি। যেটা মা-বাবা বুঝতে পারে না এবং সেটা সমাধানের কোনো চেষ্টা তারা নেয় না। আর সামাজিক থেকে তো বন্ধু-বান্ধব যারা আছে সেখানেও অনেক রকমের গোষ্ঠীতন্ত্র আছে। অনেক রকমের দলীয় ব্যাপার আছে। যারা এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে লাগিয়ে দেয়। আবার কেউ কেউ থাকে তারা পরিপূর্ণভাবে মানসিক রোগী হয়ে যায়। ডিপ্রেশনে চলে যায়। মেজর ডিপ্রেশন খুবই বড় ধরনের মানসিক রোগ। এক্ষেত্রে যেটা হয় সবকিছু থাকা সত্ত্বেও এত হতাশ লাগে, এত অশান্তি লাগে তখন মনে হয় জীবনটাকে দরকার নেই। মরে যাওয়ায় উত্তম। কিশোর বয়সে বেশি নাজুক কেন থাকে? এই বয়সে তারা তীব্র সেনসিটিভ থাকে। তারা মান-সম্মানের ব্যাপারে খুব সচেতন থাকে। কোনো দিক থেকে সম্মানহানি হলো বা ব্যক্তিগত মর্যাদাহানি হলো এ নিয়ে তারা খুবই সচেতন থাকে। পান থেকে চুন খসলে যেমন একটা কিছু করে তারাও খুব অল্প কিছুতেই টনটনে মান-মর্যাদা থাকে এবং তারা নিজেকে অপমানিত মনে করে। তারা নিজেকে বঞ্চিত মনে করে। তারা হেয় হলো এটা মনে করে। যখনই মানুষ নিজেকে হেয় ও অপমানিত মনে করে তখন গ্লানিবোধ তৈরি হয়। সেই গ্লানিবোধ থেকে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হয়।

 

আত্মহত্যা প্রতিরোধে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে নজর দিতে হবে। তারা যেন সবকিছুকে সহজভাবে নিতে পারে, মেনে নিতে পারে, মানিয়ে নিতে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকবেই। তথাকথিত মান-সম্মান, অপমান হওয়া, ব্যর্থ হওয়া, এগুলো জীবনের অংশ, এগুলোকে সহজভাবে নিতে হবে। আহারে আমি অপমানিত হয়ে গেলাম। ব্যর্থ হয়ে গেলাম। আমার পরীক্ষায় ফেল। আমি ব্যর্থ। এ ধরনে ব্যাপার-স্যাপার না করে জীবনে অনেককিছুই ঘটবে, এগুলোকে সহজভাবে নিতে হবে। নিজের জীবনে ঘটা অনুচিত, অন্যায্য, অনাকাক্সিক্ষত বিষয় নিজে নিজে মেনে নেওয়া এগুলো বাদ দিতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। অনাকাক্সিক্ষত ব্যাপারগুলোকে সব লেভেলে জানিয়ে দিতে হবে। এটি হলে অপরাধীরা প্রতিরোধের মুখে পড়বে। তারা আর অন্যায় করার সাহস পাবে না। আর পরিবারকেও খোঁজ নিতে হবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে কারা একটু ঝুঁকিপূর্ণ আছে তাদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। আর খুব বেশি যদি না পারা যায় তাহলে আমাদের মতো লোকদের দিয়ে মানসিক রোগের চিকিৎসা আছে, সাইকো থেরাপি আছে সেটা দিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘণ্টায় তিন ছাত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ০৪:৪০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪

 

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজন ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনজন ছাত্রীই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার দুপুর থেকে গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত এই তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব, আত্মসম্মানবোধ অনেক বেশি থাকা ও বন্ধু মহলে হেয় হওয়ার কারণেই মূলত আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তাজুল ইসলাম বলেন, অনাকাক্সিক্ষত বিষয় নিজে নিজে মেনে নেওয়া এগুলো বাদ দিতে হবে। কোনো কিছু ঘটলে সবাইকে তা জানিয়ে দিতে হবে। এটি করতে পারলে অপরাধী আর অন্যায় করার সাহস পাবে না। আর নিজেও আত্মহতার করার কথা চিন্তা করবে না।

আত্মহত্যায় নিহত তিন শিক্ষার্থী হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আদ্রিতা বিনতে মোশারফ (২১), নাটোর এনএস সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান মারিয়া বৈশাখী (১৮) ও যশোরের মনিরামপুরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাবিহা (১৯)।

 

এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা আহত হয়ে দুই মাস সাত দিন চিকিৎসাধীন থেকে মৃত্যুবরণ করেছেন রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের (২০১৯-২০) ছাত্রী সানজিদা অর্নি (২২)। শনিবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সূত্রমতে, রোববার ভোরে রাজধানীর দক্ষিণ ফুলার রোডে ঢাবির আবাসিক কোয়ার্টারের ১৯ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আদ্রিতা বিনতে মোশারফের (২১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

আদ্রিতার বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম থানার মজলিশপুর গ্রামে। তার বাবা অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক। বাবা-মায়ের সঙ্গেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকতেন তিনি।

 

জানা যায়, রাত সাড়ে ৪টার দিকে সাহরি খেতে আদ্রিতার বাবা অধ্যাপক মোশারফ হোসেন তার কক্ষের সামনে গিয়ে ডাকছিলেন। কিন্তু তার কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে তিনি কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

 

এর আগে শনিবার দুপুরে ও রাতে আত্মহত্যা করেন দুই ছাত্রী। এর মধ্যে নাটোর শহরের একটি ছাত্রীনিবাস থেকে নাটোর এনএস সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান মারিয়া বৈশাখীর (১৮) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের উত্তর বরগাছা জোলারবাতা এলাকার হাফসা ছাত্রীনিবাস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সে জেলা ব্যাডমিন্টন দলের খেলোয়াড় ছিল বলেও জানা গেছে।

 

জানা যায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রীনিবাসের তৃতীয় তলার ছাত্রীরা বৈশাখীর রুমের দরজা বন্ধ দেখে তাকে ডাকলেও কোনো সাড়া পায়নি। এরপর তার পরিবার ও পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে বৈশাখীর রুমের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

এছাড়া যশোরের মনিরামপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাবিহা। পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চান তিনি। কিন্তু ক্ষমা না পেয়ে পরীক্ষার হল থেকে বাড়িতে এসে আত্মহত্যা করেন এই কলেজছাত্রী। আত্মহত্যার আগে একটি চিরকুট লিখে যান সাবিহা। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন ক্ষমা চাওয়ার পরও দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা তার খাতা ফেরত দেননি দায়িত্বে থাকা শিক্ষক, তাই লজ্জায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

 

শনিবার দুপুরে মনিরামপুরের বাগডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সাবিহা ওই দিন সকালে গ্রামের বাড়ি বাগডাঙ্গা থেকে গোপালপুর স্কুল এন্ড কলেজে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

আত্মহত্যা করার পেছনে বহুবিধ কারণ আছে উল্লেখ করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আত্মহত্যা যারা করছে তার প্রধান একটা অংশ তরুণ-তরুণী বা কিশোর-কিশোরী। এর প্রাথমিক কারণ হচ্ছে কিছু তরুণ-কিশোরের মানসিক গঠনেই দুর্বলতা থাকে। তারা অল্পতেই ভেঙে পড়ে। তারা খুব বেশি আবেগী হয়, জেদী হয়। তারা যা চায় তা না পেলে সেটা খুব চরমভাবে এটার প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে চেষ্টা করে। আর অন্যদিকটা হচ্ছে, পরিবারেও অনেক রকমের ব্যাপার স্যাপার থাকে। মা-বাবা এবং ভাই-বোনদের কাছ থেকে এক ধরনের দূরত্ব থাকে, যেটাকে আমরা জেনারেশন গ্যাপ বলি। যেটা মা-বাবা বুঝতে পারে না এবং সেটা সমাধানের কোনো চেষ্টা তারা নেয় না। আর সামাজিক থেকে তো বন্ধু-বান্ধব যারা আছে সেখানেও অনেক রকমের গোষ্ঠীতন্ত্র আছে। অনেক রকমের দলীয় ব্যাপার আছে। যারা এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে লাগিয়ে দেয়। আবার কেউ কেউ থাকে তারা পরিপূর্ণভাবে মানসিক রোগী হয়ে যায়। ডিপ্রেশনে চলে যায়। মেজর ডিপ্রেশন খুবই বড় ধরনের মানসিক রোগ। এক্ষেত্রে যেটা হয় সবকিছু থাকা সত্ত্বেও এত হতাশ লাগে, এত অশান্তি লাগে তখন মনে হয় জীবনটাকে দরকার নেই। মরে যাওয়ায় উত্তম। কিশোর বয়সে বেশি নাজুক কেন থাকে? এই বয়সে তারা তীব্র সেনসিটিভ থাকে। তারা মান-সম্মানের ব্যাপারে খুব সচেতন থাকে। কোনো দিক থেকে সম্মানহানি হলো বা ব্যক্তিগত মর্যাদাহানি হলো এ নিয়ে তারা খুবই সচেতন থাকে। পান থেকে চুন খসলে যেমন একটা কিছু করে তারাও খুব অল্প কিছুতেই টনটনে মান-মর্যাদা থাকে এবং তারা নিজেকে অপমানিত মনে করে। তারা নিজেকে বঞ্চিত মনে করে। তারা হেয় হলো এটা মনে করে। যখনই মানুষ নিজেকে হেয় ও অপমানিত মনে করে তখন গ্লানিবোধ তৈরি হয়। সেই গ্লানিবোধ থেকে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হয়।

 

আত্মহত্যা প্রতিরোধে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে নজর দিতে হবে। তারা যেন সবকিছুকে সহজভাবে নিতে পারে, মেনে নিতে পারে, মানিয়ে নিতে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকবেই। তথাকথিত মান-সম্মান, অপমান হওয়া, ব্যর্থ হওয়া, এগুলো জীবনের অংশ, এগুলোকে সহজভাবে নিতে হবে। আহারে আমি অপমানিত হয়ে গেলাম। ব্যর্থ হয়ে গেলাম। আমার পরীক্ষায় ফেল। আমি ব্যর্থ। এ ধরনে ব্যাপার-স্যাপার না করে জীবনে অনেককিছুই ঘটবে, এগুলোকে সহজভাবে নিতে হবে। নিজের জীবনে ঘটা অনুচিত, অন্যায্য, অনাকাক্সিক্ষত বিষয় নিজে নিজে মেনে নেওয়া এগুলো বাদ দিতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। অনাকাক্সিক্ষত ব্যাপারগুলোকে সব লেভেলে জানিয়ে দিতে হবে। এটি হলে অপরাধীরা প্রতিরোধের মুখে পড়বে। তারা আর অন্যায় করার সাহস পাবে না। আর পরিবারকেও খোঁজ নিতে হবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে কারা একটু ঝুঁকিপূর্ণ আছে তাদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। আর খুব বেশি যদি না পারা যায় তাহলে আমাদের মতো লোকদের দিয়ে মানসিক রোগের চিকিৎসা আছে, সাইকো থেরাপি আছে সেটা দিতে হবে।