০৭:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধ্বংসস্তূপে পরিণত আল-শিফা হাসপাতাল

◉গাজায় বিমান হামলায় নিহত ৫ ত্রাণকর্মী

 

 

বেশ কিছুদিন ধরে গাজার আল-শিফা হাসপাতালে অভিযানের পর সেখান থেকে ট্যাংক, সাঁজোয়া যানসহ সেনাসদস্যদের সরিয়ে নিয়েছে দখলাদর ইসরায়েল; কিন্তু ওই এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, আল-শিফা হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে জীবনের সব অনুভূতি ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। সেখান থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের মরদেহ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পড়ে ছিল। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হাসপাতালের ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থান পুড়ে কালো হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কংক্রিটের আস্তরণ। অন্ধকার করিডরে পড়ে রয়েছেন কয়েকজন রোগী।

 

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, আল-শিফায় অভিযান চালিয়ে কয়েকশ’ বন্দুকধারীকে তারা আটক করেছে। সেখান থেকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য উদ্ধার করেছে। এ সময় বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি করা হয়নি। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ইসরায়েলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেছেন, এখানে কোনো বন্দুকধারী ছিলেন না।

 

 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, হাসপাতাল থেকে ১২ জনের বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এএফপি সাংবাদিকরা সেখান থেকে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান সরে যেতে দেখেছেন। ইসরায়েলি বাহিনী অবশ্য সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আজ হাসপাতাল ভবনে বেশ কয়েকবার বিমান ও গোলা হামলার ঘটনা ঘটে। হামাসের মিডিয়া অফিস বলেছে, বিমান হামলার মধ্য দিয়ে তারা সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।

 

গত ১৮ মার্চ আল-শিফা হাসপাতালে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল সেনাবাহিনী। তারা অভিযোগ করে, ওই হাসপাতালে হামাসের সদস্যরা লুকিয়ে আছেন। তাদের নির্মূল করতে এ হামলা। এর আগে তারা দাবি করে, আল-শিফা এলাকায় তারা ২০০ হামাস সদস্যকে হত্যা করেছে। তারা ভিডিও উন্মুক্ত করেছে, যেখানে আল-শিফা থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও অর্থ দেখানো হয়েছে। এ অর্থ হামাস ও আরেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ ব্যবহার করতো। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হামাস বলেছে, হাসপাতালের ভেতরে ও ভবনের ওপর ইসরায়েলি সেনারা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন। হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেছেন, ২০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু মরদেহের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েলি হামলার আগে ওই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আশ্রয়হীন অনেকেই অবস্থান করছিলেন। ইসরায়েলি সেনারা গত নভেম্বরে আল-শিফায় প্রথম অভিযান চালান; কিন্তু পরে নাকি সেখানে হামাস আবার ফিরে এসেছে। ভোরে আল-শিফায় বিমান হামলার পাশাপাশি আরো কয়েক এলাকায় হামলা হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৬৩ জন মারা গেছেন। গত রবিবার গাজার আল-আকসা মসজিদে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

 

 

এদিকে গাজা উপত্যকার দেইর এল-বালাহ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ত্রাণসহায়তা হিসেবে খাবার বিতরণের পর ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় পাঁচজন সাহায্যকর্মী নিহত হয়েছেন। গাজার হামাস সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড ও ফিলিস্তিনের সাহায্যকর্মী রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের ‘কয়েকজন’ কর্মী নিহত হয়েছেন। গাজায় এমন নির্বিচার হত্যা বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডব্লিউসিকের প্রতিষ্ঠাতা জোসে আন্দ্রেজ বলেন, এ ঘটনায় তার হৃদয় ভেঙে গেছে। তিনি শোকাহত। গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার উদ্যোগ বন্ধ হওয়া দরকার। বেসামরিক নাগরিক ও সহায়তাকর্মীদের হত্যা বন্ধ করা দরকার। খাবারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা দরকার। ইসরায়েলি বিমান হামলায় সহায়তাকর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি এ ঘটনায় নিহত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের (সহায়তাকর্মী) পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় ‘পূর্ণ জবাবদিহি’ চেয়েছেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ধ্বংসস্তূপে পরিণত আল-শিফা হাসপাতাল

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪

◉গাজায় বিমান হামলায় নিহত ৫ ত্রাণকর্মী

 

 

বেশ কিছুদিন ধরে গাজার আল-শিফা হাসপাতালে অভিযানের পর সেখান থেকে ট্যাংক, সাঁজোয়া যানসহ সেনাসদস্যদের সরিয়ে নিয়েছে দখলাদর ইসরায়েল; কিন্তু ওই এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, আল-শিফা হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে জীবনের সব অনুভূতি ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। সেখান থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের মরদেহ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পড়ে ছিল। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হাসপাতালের ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থান পুড়ে কালো হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কংক্রিটের আস্তরণ। অন্ধকার করিডরে পড়ে রয়েছেন কয়েকজন রোগী।

 

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, আল-শিফায় অভিযান চালিয়ে কয়েকশ’ বন্দুকধারীকে তারা আটক করেছে। সেখান থেকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য উদ্ধার করেছে। এ সময় বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি করা হয়নি। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ইসরায়েলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেছেন, এখানে কোনো বন্দুকধারী ছিলেন না।

 

 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, হাসপাতাল থেকে ১২ জনের বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এএফপি সাংবাদিকরা সেখান থেকে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান সরে যেতে দেখেছেন। ইসরায়েলি বাহিনী অবশ্য সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আজ হাসপাতাল ভবনে বেশ কয়েকবার বিমান ও গোলা হামলার ঘটনা ঘটে। হামাসের মিডিয়া অফিস বলেছে, বিমান হামলার মধ্য দিয়ে তারা সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।

 

গত ১৮ মার্চ আল-শিফা হাসপাতালে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল সেনাবাহিনী। তারা অভিযোগ করে, ওই হাসপাতালে হামাসের সদস্যরা লুকিয়ে আছেন। তাদের নির্মূল করতে এ হামলা। এর আগে তারা দাবি করে, আল-শিফা এলাকায় তারা ২০০ হামাস সদস্যকে হত্যা করেছে। তারা ভিডিও উন্মুক্ত করেছে, যেখানে আল-শিফা থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও অর্থ দেখানো হয়েছে। এ অর্থ হামাস ও আরেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ ব্যবহার করতো। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হামাস বলেছে, হাসপাতালের ভেতরে ও ভবনের ওপর ইসরায়েলি সেনারা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন। হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেছেন, ২০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু মরদেহের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েলি হামলার আগে ওই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আশ্রয়হীন অনেকেই অবস্থান করছিলেন। ইসরায়েলি সেনারা গত নভেম্বরে আল-শিফায় প্রথম অভিযান চালান; কিন্তু পরে নাকি সেখানে হামাস আবার ফিরে এসেছে। ভোরে আল-শিফায় বিমান হামলার পাশাপাশি আরো কয়েক এলাকায় হামলা হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৬৩ জন মারা গেছেন। গত রবিবার গাজার আল-আকসা মসজিদে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

 

 

এদিকে গাজা উপত্যকার দেইর এল-বালাহ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ত্রাণসহায়তা হিসেবে খাবার বিতরণের পর ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় পাঁচজন সাহায্যকর্মী নিহত হয়েছেন। গাজার হামাস সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড ও ফিলিস্তিনের সাহায্যকর্মী রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের ‘কয়েকজন’ কর্মী নিহত হয়েছেন। গাজায় এমন নির্বিচার হত্যা বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডব্লিউসিকের প্রতিষ্ঠাতা জোসে আন্দ্রেজ বলেন, এ ঘটনায় তার হৃদয় ভেঙে গেছে। তিনি শোকাহত। গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার উদ্যোগ বন্ধ হওয়া দরকার। বেসামরিক নাগরিক ও সহায়তাকর্মীদের হত্যা বন্ধ করা দরকার। খাবারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা দরকার। ইসরায়েলি বিমান হামলায় সহায়তাকর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি এ ঘটনায় নিহত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের (সহায়তাকর্মী) পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় ‘পূর্ণ জবাবদিহি’ চেয়েছেন।