০৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শ্রীপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন যুগেও মেলেনি বিদ্যুৎ,দুর্ধর্ষ চুরি

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন  যুগেও মেলেনি বিদ্যুৎ চার বছরে ক্লিনিকটিতে তিন বার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকটিতে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যাগ পেতে হচ্ছে।চোররা ক্লিনিকটির ফ্যান, সৌর প্যানেলের ব্যাটারি, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রীসহ নগদ অর্থ,আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।মঙ্গলবার দিবাগত  রাতে শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকে এ চুরির ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকটি প্রায় দুই যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা দুই যুগ  ধরে সেখানে কাজ করছেন। সেবা পাচ্ছে এলাকার হাজারো মানুষ। কিন্তু এখনো এ ক্লিনিক বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি।দুই যুগেও বিদ্যুৎ মেলেনি লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকে।জানা গেছে, ১৯৯০ সালে শ্রীপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড লোহাগাছ এলাকায়  একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়।

নানা অজুহাতে এ পর্যন্ত ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি  পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে। এ ছাড়া প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ক্লিনিকে বসে থাকতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রতিদিন ৬০-৭০ জন প্রসূতি মাসহ নানা ধরনের রোগী প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। প্রত্যাশিত সেবা পেলেও ক্লিনিকটিতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের গরমে কষ্ট পেতে হচ্ছে। লোহাগাছ  কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ফারজানা সুলতানা(৩৮)  বলেন, গত মঙ্গলবার বেলা ৩টা ২০মিনিটের দিকে  ক্লিনিকে তালা লাগিয়ে বের হই।বুধবার  সকাল ৯টায় অফিসে আসি। এ সময় বাইরে তালা দেখতে পাইনি। কক্ষের ভিতরের তালাগুলো ভাঙা এবং দরজা  খোলা ছিল।

ভিতরে প্রবেশ করে দেখি তিনটি ফ্যান, দুটি ব্যাটরি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ,এক মাসের রোগী দেখার সব টাকা ও রোগীদের জন্য বরাদ্দ পানির পাম্প  চুরি করে নিয়ে গেছে।এর আগে আরও দুই বার এ ক্লিনিকে  চুরির ঘটনা ঘটেছে।এর আগেও চুরির  ঘটনায় আমি থানা, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে অভিযোগ দেওয়ার পরও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে যাওয়ার কথা ভাবছি।  শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.প্রণয় ভূষণ দাস  বলেন, তালার আংটা কেটে এসব চুরি সংঘটিত হয়েছে। এ ধরনের চুরি সংঘটিত হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)শোভন রাংসা বলেন,চুরির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিছুই জানায়নি। চুরির অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন শ্রীপুরের ইউএনও শোভন রাংসা।

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন যুগেও মেলেনি বিদ্যুৎ,দুর্ধর্ষ চুরি

আপডেট সময় : ০৫:৩১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন  যুগেও মেলেনি বিদ্যুৎ চার বছরে ক্লিনিকটিতে তিন বার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকটিতে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যাগ পেতে হচ্ছে।চোররা ক্লিনিকটির ফ্যান, সৌর প্যানেলের ব্যাটারি, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রীসহ নগদ অর্থ,আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।মঙ্গলবার দিবাগত  রাতে শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকে এ চুরির ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকটি প্রায় দুই যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা দুই যুগ  ধরে সেখানে কাজ করছেন। সেবা পাচ্ছে এলাকার হাজারো মানুষ। কিন্তু এখনো এ ক্লিনিক বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি।দুই যুগেও বিদ্যুৎ মেলেনি লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকে।জানা গেছে, ১৯৯০ সালে শ্রীপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড লোহাগাছ এলাকায়  একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়।

নানা অজুহাতে এ পর্যন্ত ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি  পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে। এ ছাড়া প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ক্লিনিকে বসে থাকতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রতিদিন ৬০-৭০ জন প্রসূতি মাসহ নানা ধরনের রোগী প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। প্রত্যাশিত সেবা পেলেও ক্লিনিকটিতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের গরমে কষ্ট পেতে হচ্ছে। লোহাগাছ  কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ফারজানা সুলতানা(৩৮)  বলেন, গত মঙ্গলবার বেলা ৩টা ২০মিনিটের দিকে  ক্লিনিকে তালা লাগিয়ে বের হই।বুধবার  সকাল ৯টায় অফিসে আসি। এ সময় বাইরে তালা দেখতে পাইনি। কক্ষের ভিতরের তালাগুলো ভাঙা এবং দরজা  খোলা ছিল।

ভিতরে প্রবেশ করে দেখি তিনটি ফ্যান, দুটি ব্যাটরি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ,এক মাসের রোগী দেখার সব টাকা ও রোগীদের জন্য বরাদ্দ পানির পাম্প  চুরি করে নিয়ে গেছে।এর আগে আরও দুই বার এ ক্লিনিকে  চুরির ঘটনা ঘটেছে।এর আগেও চুরির  ঘটনায় আমি থানা, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে অভিযোগ দেওয়ার পরও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে যাওয়ার কথা ভাবছি।  শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.প্রণয় ভূষণ দাস  বলেন, তালার আংটা কেটে এসব চুরি সংঘটিত হয়েছে। এ ধরনের চুরি সংঘটিত হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)শোভন রাংসা বলেন,চুরির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিছুই জানায়নি। চুরির অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন শ্রীপুরের ইউএনও শোভন রাংসা।