০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৬৭ শতাংশ প্রাথমিক স্কুলে পাঠাগার সুবিধা নেই

  • রকীবুল হক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪
  • 38
  • ৩২.৮ শতাংশ প্রাথমিকে পাঠাগার থাকলেও তার ১৯ শতাংশ অকার্যকর
  • মাধ্যমিকের ৮১ শতাংশ স্কুলে এই সুবিধা থাকলেও দুই শতাংশ কার্যকর নয়
  • পাঠাগারগুলো কয়েকটি ক্যাবিনেট বা তাক সর্বস্ব
  • পাঠাগার সুবিধায় এগিয়ে সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুল

দেশের মাত্র এক তৃতীয়াংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার আছে, যা একটি বা দুটি তাক বা ক্যাবিনেট নিয়ে গঠিত। সেখানে বই সংরক্ষণ করা হয় এবং শিক্ষার্থীরা পড়ার জন্য বই নিতে পারে। মাধ্যমিক স্তরে ৮০ শতাংশের বেশি বিদ্যালয়ে পাঠাগার রয়েছে। তবে, এর বেশিরভাগই পড়া ও ব্রাউজিং সুবিধাসহ একটি পৃথক কক্ষের পরিবর্তে কয়েকটি ক্যাবিনেট বা তাক সর্বস্ব পাঠাগার। গ্রামীণ ও অন্যান্য শহুরে এলাকার তুলনায় পাঠাগার সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন এলাকা এগিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষা বিষয়ক বেসরকারি সংস্থাগুলোর মোর্চা গণসাক্ষরতা অভিযানের ‘এডুকেশন ওয়াচ প্রতিবেদন-২০২৩’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। সারা দেশের ৮ বিভাগের ১৬টি জেলার মধ্যে থেকে ২৬টি উপজেলা ও ৫টি সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন সূত্রমতে, দেশের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার সুবিধা থাকলেও তার ১৯ শতাংশ বর্তমানে কার্যকর নেই। অপরদিকে মাধ্যমিকের ৮১ দশমিক ৩ শতাংশ স্কুলে পাঠাগার সুবিধা আছে। যার ৯৮ দশমিক ১ শতাংশই কার্যকর আছে। এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথক বিজ্ঞানাগার থাকা প্রত্যাশিত নয়। তবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার অপরিহার্য বলে বিবেচিত। পরিদর্শনকৃত স্কুলগুলোর মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ (৬৭.২ শতাংশ) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষাগার রয়েছে। তবে, গ্রামীণ এলাকার মাত্র ২৮ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি বিজ্ঞানাগার সুবিধা রয়েছে, যেটি সাধারণত বিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা এবং পড়ালেখার উপকরণ দিয়ে সাজানো একটি কক্ষ।

(যথাক্রমে ৪৬ শতাংশ এবং ৫১ শতাংশ) শিক্ষকের ‘ভালো পাঠ ব্যবস্থাপনা’ লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় ২৮ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৩৩ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন সম্পূরক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে, প্রাথমিকের এক চতুর্থাংশ এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩০ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে কোনো সম্পূরক উপকরণ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। পরিদর্শনকৃত বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ প্রাথমিক স্তরের শ্রেণিকক্ষে আইসিটি সিস্টেম (মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ইন্টারনেট, প্রজেকশন স্ক্রিন) আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক-চতুর্থাংশ (২৫.৪ শতাংশ) শ্রেণিকক্ষে আইসিটি এবং এ সংক্রান্ত উপকরণ ছিল। এগুলো শহুরে (২২.২ শতাংশ) এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকার (২০.৮ শতাংশ) বিদ্যালয়ে বেশি ছিল আর গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে (১৩.৬ শতাংশ) কম ছিল (চিত্র-৭)। বিদ্যালয় ভবন: প্রায় তিন-চতুর্থাংশ (৭৩ শতাংশ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুধু বিল্ডিং ছিল এবং বাকি অংশের মধ্যে কিছু বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিল্ডিং ও টিনশেড শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। আর অল্প কিছু বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র টিনশেড শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। প্রায় ৫৮ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি করে ভবন রয়েছে। আর অবশিষ্টাংশের সাধারণত বিল্ডিং ও টিনশেড দুটোই রয়েছে। ৫৮ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৭৩ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। তবে শহুরে এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। অর্ধেকেরও কম প্রাথমিক বিদ্যালয় (৪৫ শতাংশ) এবং দুই-তৃতীয়াংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (৬৭ শতাংশ) শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশগম্য সুবিধা রয়েছে। তবে এই ধরনের সুবিধাযুক্ত বিদ্যালয়ের একটি ছোট অংশ (২৮ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৪৫ শতাংশ মাধ্যমিক) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্কুল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। বিদ্যালয়ে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন উভয় স্তরের (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) অন্তত তিন চতুর্থাংশ বিদ্যালয়ে ওয়াশরুম ছিল। এই ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকার তুলনায় শহর এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুবিধা বেশি ছিল। খেলার মাঠ ও খোলা জায়গা: সামগ্রিকভাবে, প্রাথমিক (প্রায় ৭২ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক (প্রায় ৮৮ শতাংশ) স্কুলগুলোর খেলার মাঠ বা খোলা জায়গা রয়েছে। তবে গ্রামীণ এলাকার (৮৯ শতাংশ) তুলনায় সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাত্র ৫৮ শতাংশ স্কুলে এই সুবিধা ছিল, যদিও গ্রামীণ এলাকার ১০ শতাংশের বেশি স্কুলের সামনে খোলা জায়গা বা খেলার মাঠ ছিল না।

কিছুক্ষেত্রে এই ধরনের খোলা জায়গা বা মাঠ থাকলেও তা শিশুদের খেলার জন্য উপযুক্ত ছিল না। প্রায় ৫৮ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬৯ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়াসামগ্রী সরবরাহ করে। এই ক্ষেত্রে শহুরে বিদ্যালয়গুলো গ্রাম ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ইউনিফর্ম: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম পরতে হয়। দেখা গেছে, পরিদর্শনকৃত দুই-তৃতীয়াংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম পরেছে। আর ৩০ শতাংশ স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম পরেছে। অবশিষ্ট স্কুলে বেশিরভাগ শিশুর ইউনিফর্ম ছিল না বা নিয়মটি প্রয়োগ করা হয়নি। মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৬০ শতাংশ স্কুলের সকল শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম পরেছে। অবশিষ্ট ভুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরা ঐচ্ছিক বলে মনে হয়েছে। স্কুল মিল: একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে অল্প কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল মিল চালু করা হয়েছিল। সরকার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই নিয়ম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও এখনো বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। পরিদর্শনকৃত স্কুলে দেখা গেছে, প্রায় ৫ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৮ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে মিড-ডে মিল বা মধ্যাহ্ন আহার চালু করেছে।

শ্রণিকক্ষে শিক্ষকদের হাতে বেত: যদিও শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি আইন দ্বারা নিষিদ্ধ, তথাপি ৯ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৬ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে বেত নিয়ে যেতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য বেতের প্রকৃত ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়নি, তবে শ্রণিকক্ষে শৃঙ্খলা সম্পর্কে পুরানো মনোভাব এবং অভ্যাস এখনো টিকে আছে। সমাবেশ দিয়ে স্কুলে দিন শুরু: প্রায় ৯৭ শতাংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণার সব ভৌগোলিক অঞ্চলজুড়েই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সমাবেশ দিয়ে স্কুলের দিনের সূচনা দেখা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৬৭ শতাংশ প্রাথমিক স্কুলে পাঠাগার সুবিধা নেই

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪
  • ৩২.৮ শতাংশ প্রাথমিকে পাঠাগার থাকলেও তার ১৯ শতাংশ অকার্যকর
  • মাধ্যমিকের ৮১ শতাংশ স্কুলে এই সুবিধা থাকলেও দুই শতাংশ কার্যকর নয়
  • পাঠাগারগুলো কয়েকটি ক্যাবিনেট বা তাক সর্বস্ব
  • পাঠাগার সুবিধায় এগিয়ে সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুল

দেশের মাত্র এক তৃতীয়াংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার আছে, যা একটি বা দুটি তাক বা ক্যাবিনেট নিয়ে গঠিত। সেখানে বই সংরক্ষণ করা হয় এবং শিক্ষার্থীরা পড়ার জন্য বই নিতে পারে। মাধ্যমিক স্তরে ৮০ শতাংশের বেশি বিদ্যালয়ে পাঠাগার রয়েছে। তবে, এর বেশিরভাগই পড়া ও ব্রাউজিং সুবিধাসহ একটি পৃথক কক্ষের পরিবর্তে কয়েকটি ক্যাবিনেট বা তাক সর্বস্ব পাঠাগার। গ্রামীণ ও অন্যান্য শহুরে এলাকার তুলনায় পাঠাগার সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন এলাকা এগিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষা বিষয়ক বেসরকারি সংস্থাগুলোর মোর্চা গণসাক্ষরতা অভিযানের ‘এডুকেশন ওয়াচ প্রতিবেদন-২০২৩’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। সারা দেশের ৮ বিভাগের ১৬টি জেলার মধ্যে থেকে ২৬টি উপজেলা ও ৫টি সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন সূত্রমতে, দেশের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার সুবিধা থাকলেও তার ১৯ শতাংশ বর্তমানে কার্যকর নেই। অপরদিকে মাধ্যমিকের ৮১ দশমিক ৩ শতাংশ স্কুলে পাঠাগার সুবিধা আছে। যার ৯৮ দশমিক ১ শতাংশই কার্যকর আছে। এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথক বিজ্ঞানাগার থাকা প্রত্যাশিত নয়। তবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার অপরিহার্য বলে বিবেচিত। পরিদর্শনকৃত স্কুলগুলোর মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ (৬৭.২ শতাংশ) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষাগার রয়েছে। তবে, গ্রামীণ এলাকার মাত্র ২৮ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি বিজ্ঞানাগার সুবিধা রয়েছে, যেটি সাধারণত বিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা এবং পড়ালেখার উপকরণ দিয়ে সাজানো একটি কক্ষ।

(যথাক্রমে ৪৬ শতাংশ এবং ৫১ শতাংশ) শিক্ষকের ‘ভালো পাঠ ব্যবস্থাপনা’ লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় ২৮ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৩৩ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন সম্পূরক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে, প্রাথমিকের এক চতুর্থাংশ এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩০ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে কোনো সম্পূরক উপকরণ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। পরিদর্শনকৃত বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ প্রাথমিক স্তরের শ্রেণিকক্ষে আইসিটি সিস্টেম (মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ইন্টারনেট, প্রজেকশন স্ক্রিন) আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক-চতুর্থাংশ (২৫.৪ শতাংশ) শ্রেণিকক্ষে আইসিটি এবং এ সংক্রান্ত উপকরণ ছিল। এগুলো শহুরে (২২.২ শতাংশ) এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকার (২০.৮ শতাংশ) বিদ্যালয়ে বেশি ছিল আর গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে (১৩.৬ শতাংশ) কম ছিল (চিত্র-৭)। বিদ্যালয় ভবন: প্রায় তিন-চতুর্থাংশ (৭৩ শতাংশ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুধু বিল্ডিং ছিল এবং বাকি অংশের মধ্যে কিছু বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিল্ডিং ও টিনশেড শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। আর অল্প কিছু বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র টিনশেড শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। প্রায় ৫৮ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি করে ভবন রয়েছে। আর অবশিষ্টাংশের সাধারণত বিল্ডিং ও টিনশেড দুটোই রয়েছে। ৫৮ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৭৩ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। তবে শহুরে এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। অর্ধেকেরও কম প্রাথমিক বিদ্যালয় (৪৫ শতাংশ) এবং দুই-তৃতীয়াংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (৬৭ শতাংশ) শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশগম্য সুবিধা রয়েছে। তবে এই ধরনের সুবিধাযুক্ত বিদ্যালয়ের একটি ছোট অংশ (২৮ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৪৫ শতাংশ মাধ্যমিক) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্কুল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। বিদ্যালয়ে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন উভয় স্তরের (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) অন্তত তিন চতুর্থাংশ বিদ্যালয়ে ওয়াশরুম ছিল। এই ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকার তুলনায় শহর এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুবিধা বেশি ছিল। খেলার মাঠ ও খোলা জায়গা: সামগ্রিকভাবে, প্রাথমিক (প্রায় ৭২ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক (প্রায় ৮৮ শতাংশ) স্কুলগুলোর খেলার মাঠ বা খোলা জায়গা রয়েছে। তবে গ্রামীণ এলাকার (৮৯ শতাংশ) তুলনায় সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাত্র ৫৮ শতাংশ স্কুলে এই সুবিধা ছিল, যদিও গ্রামীণ এলাকার ১০ শতাংশের বেশি স্কুলের সামনে খোলা জায়গা বা খেলার মাঠ ছিল না।

কিছুক্ষেত্রে এই ধরনের খোলা জায়গা বা মাঠ থাকলেও তা শিশুদের খেলার জন্য উপযুক্ত ছিল না। প্রায় ৫৮ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬৯ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়াসামগ্রী সরবরাহ করে। এই ক্ষেত্রে শহুরে বিদ্যালয়গুলো গ্রাম ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ইউনিফর্ম: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম পরতে হয়। দেখা গেছে, পরিদর্শনকৃত দুই-তৃতীয়াংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম পরেছে। আর ৩০ শতাংশ স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম পরেছে। অবশিষ্ট স্কুলে বেশিরভাগ শিশুর ইউনিফর্ম ছিল না বা নিয়মটি প্রয়োগ করা হয়নি। মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৬০ শতাংশ স্কুলের সকল শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম পরেছে। অবশিষ্ট ভুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরা ঐচ্ছিক বলে মনে হয়েছে। স্কুল মিল: একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে অল্প কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল মিল চালু করা হয়েছিল। সরকার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই নিয়ম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও এখনো বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। পরিদর্শনকৃত স্কুলে দেখা গেছে, প্রায় ৫ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৮ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে মিড-ডে মিল বা মধ্যাহ্ন আহার চালু করেছে।

শ্রণিকক্ষে শিক্ষকদের হাতে বেত: যদিও শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি আইন দ্বারা নিষিদ্ধ, তথাপি ৯ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৬ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে বেত নিয়ে যেতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য বেতের প্রকৃত ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়নি, তবে শ্রণিকক্ষে শৃঙ্খলা সম্পর্কে পুরানো মনোভাব এবং অভ্যাস এখনো টিকে আছে। সমাবেশ দিয়ে স্কুলে দিন শুরু: প্রায় ৯৭ শতাংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণার সব ভৌগোলিক অঞ্চলজুড়েই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সমাবেশ দিয়ে স্কুলের দিনের সূচনা দেখা গেছে।