০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গোয়ালন্দে বেপরোয়া মাটি-বালি ব্যাবসায়ী চক্র, অভিযানেও থামছে না তারা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইঞ্জিন চালিত ড্রেজার দিয়ে কাটা অবৈধ মাটি ব্যাবসায়ী চক্র। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হলেও পুনরায় সবকিছু ম্যানেজ করে পুনরায় মাটি কাটা শুরু করে মাটি খেকোর দল।

 

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন, সামান্য জরিমানা করে চক্রকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহন করা জরুরী।

 

 

শনিবার (২৭ এপ্রিল) সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুন ব্রিজের ডানপাশে এক কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী হতে বালু তোলা হচ্ছে।  এর মধ্যে সদ্য বহিস্কৃত উজানচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মনা ও ইসমাইল হোসেন একটি ও সাদ্দাম হোসেন একটি এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রবিউল ইসলাম অপর একটি ড্রেজার পরিচালনা করছেন।

 

তারা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে দিনরাত দেদারছে মাটি তুলছেন। এ নিয়ে জমির মালিকরা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলেও তাতে তোয়াক্কা করছেন না। তাদের নানাভাবে ভয়ভীতিও দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে।

 

এদিকে গত ঈদুল ফিতরের আগে মরা পদ্মা নদীর ফৈজদ্দিন মাতুব্বর পাড়ায় ড্রেজার দিয়ে মাটি তোলার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা  মনোয়ার হোসেন মনার ফ্রেজার মেশিনটি উপজেলা প্রশাসন ভেঙে দিয়ে তাকে জরিমানা করেছিল। তবে জরিমানার পরিমান ছিল মাত্র দুই হাজার টাকা।

 

 

আলাপকালে যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম দাবি করেন , তিনি স্হানীয় লিপু মেম্বারের তত্বাবধানে কাবিখা প্রকল্পের একটি সরকারী রাস্তা নির্মানের জন্য মাটি তুলছেন। এতে প্রশাসনের অনুমতি আছে।

 

ইসমাইল হোসেন ও মনোয়ার হোসেন মনা দাবি করেন, তারা জমির মালিকদের সাথে সমন্বয় করেই মাটি তুলছেন। তবে প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই।

 

 

একইভাবে দেবগ্রাম পিয়ার আলীর মোড়ে লাল্টু, দৌলতদিয়া ক্যানালঘাটে কাদের ফকির, রফুর খেয়াঘাট এলাকায় শহীদসহ বিভিন্ন স্হানে নদী ও পুকুর খনন করে মাটি ব্যবসায়ীরা ড্রেজার ও ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি-বালি তুলছেন। উত্তোলিত বালি-মাটি বিভিন্ন ইটভাটা ও ব্যাক্তি-প্রতিষ্টানে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

 

তাছাড়া গ্রামীণ সড়কে এ সকল মাটি-বালি বহনকারী ট্রাক বেপরোয়া গতিতে চলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। জানা গেছে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ধারা ৫ এর ১ উপধারা অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা-৪ এর (খ) অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্য সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হলে অথবা আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে ১ কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

 

 

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, সরকারী বা বেসরকারী কোন কাজের জন্যই কাউকে নদী হতে মাটি-বালি উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ইতিপূর্বে এ ধরনের দুটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। ভেকু্ ও ড্রাম ট্রাকের চালককে জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

গোয়ালন্দে বেপরোয়া মাটি-বালি ব্যাবসায়ী চক্র, অভিযানেও থামছে না তারা

আপডেট সময় : ০৫:১৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইঞ্জিন চালিত ড্রেজার দিয়ে কাটা অবৈধ মাটি ব্যাবসায়ী চক্র। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হলেও পুনরায় সবকিছু ম্যানেজ করে পুনরায় মাটি কাটা শুরু করে মাটি খেকোর দল।

 

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন, সামান্য জরিমানা করে চক্রকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহন করা জরুরী।

 

 

শনিবার (২৭ এপ্রিল) সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুন ব্রিজের ডানপাশে এক কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী হতে বালু তোলা হচ্ছে।  এর মধ্যে সদ্য বহিস্কৃত উজানচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মনা ও ইসমাইল হোসেন একটি ও সাদ্দাম হোসেন একটি এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রবিউল ইসলাম অপর একটি ড্রেজার পরিচালনা করছেন।

 

তারা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে দিনরাত দেদারছে মাটি তুলছেন। এ নিয়ে জমির মালিকরা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলেও তাতে তোয়াক্কা করছেন না। তাদের নানাভাবে ভয়ভীতিও দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে।

 

এদিকে গত ঈদুল ফিতরের আগে মরা পদ্মা নদীর ফৈজদ্দিন মাতুব্বর পাড়ায় ড্রেজার দিয়ে মাটি তোলার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা  মনোয়ার হোসেন মনার ফ্রেজার মেশিনটি উপজেলা প্রশাসন ভেঙে দিয়ে তাকে জরিমানা করেছিল। তবে জরিমানার পরিমান ছিল মাত্র দুই হাজার টাকা।

 

 

আলাপকালে যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম দাবি করেন , তিনি স্হানীয় লিপু মেম্বারের তত্বাবধানে কাবিখা প্রকল্পের একটি সরকারী রাস্তা নির্মানের জন্য মাটি তুলছেন। এতে প্রশাসনের অনুমতি আছে।

 

ইসমাইল হোসেন ও মনোয়ার হোসেন মনা দাবি করেন, তারা জমির মালিকদের সাথে সমন্বয় করেই মাটি তুলছেন। তবে প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই।

 

 

একইভাবে দেবগ্রাম পিয়ার আলীর মোড়ে লাল্টু, দৌলতদিয়া ক্যানালঘাটে কাদের ফকির, রফুর খেয়াঘাট এলাকায় শহীদসহ বিভিন্ন স্হানে নদী ও পুকুর খনন করে মাটি ব্যবসায়ীরা ড্রেজার ও ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি-বালি তুলছেন। উত্তোলিত বালি-মাটি বিভিন্ন ইটভাটা ও ব্যাক্তি-প্রতিষ্টানে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

 

তাছাড়া গ্রামীণ সড়কে এ সকল মাটি-বালি বহনকারী ট্রাক বেপরোয়া গতিতে চলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। জানা গেছে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ধারা ৫ এর ১ উপধারা অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা-৪ এর (খ) অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্য সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হলে অথবা আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে ১ কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

 

 

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, সরকারী বা বেসরকারী কোন কাজের জন্যই কাউকে নদী হতে মাটি-বালি উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ইতিপূর্বে এ ধরনের দুটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। ভেকু্ ও ড্রাম ট্রাকের চালককে জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।