০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বোরোর কাঙ্খিত ফলন না পাওয়ার শঙ্কা ভালুকাসহ ময়মনসিংহের কৃষকদের

প্রচন্ড গরম আর তাপমাত্রা উপেক্ষা করে ময়মনসিংহের কৃষকেরা থেমে নেই বোরো ধান কাটায়। দল বেঁধে বোরো ক্ষেতের পাকা ধান কাটছে কৃষকেরা।

 

 

 

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের কৃষক জহের আলী জানান, ৯ কাঠা জমিতে বোরো ধান করেন তিনি। জহের আলী নিজেই তার ক্ষেতে চাষাবাদ করেছেন। ফলে ক্ষেতে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগাতে হয়নি তার। তবে এক ধরনের পোকার আক্রমনের কারণে ক্ষেতের ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে তার। তিনি আরও জানান, এবার প্রচন্ড গরম, বৃষ্টি নাই, তার মাঝে বিদ্যুত থাকেনা। ঘন ঘন লোড শেডিংয়ে সময়মতো সেচ দেওয়া সম্ভব হয়নি তার। ফলে কাঙ্খিত ফসল না পাওয়ার শঙ্কা করছেন তিনি। কৃষক জহের আলীর মতো আরেক কৃষক ইব্রাহিম মিয়া ও সুরুজ মিয়ারা একই সমস্যার কথা জানান।

 

 

 

 

ভালুকা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কামরুল হাসান জানান, প্রথম দিকে বোরো ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের কিছুটা পাদুর্ভাব ছিল। এক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিস ও মাঠ পর্যায়ে তাদের উপ-সহকারী কর্মকর্তাবৃন্দ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। এতে ফলনের তেমন কোনো সমস্যা হবেনা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বোরো ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র অর্জন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

 

কৃষক ইব্রাহিম জানান, তিনি ব্রি-২৮ ধান করেছেন ৯ কাঠা জমিতে। এর ফলন ভালো হয়েছে তার। তবে অন্য জাতের ধানক্ষেতে সময় মতো সেচের মাধ্যমে পানি দিতে না পারায় ব্যাপক ক্ষতির কথা জানান তিনি।

 

 

 

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পরিচালক (উদ্ভিদ সংলক্ষণ) মাসুদুর রহমান জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে এবং অর্জিত হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে। এবার বোরোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৭৬৮ মেট্রিক টন চাল। তবে এ উপজেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়া ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো ক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় কৃষকেরা কিছুটা ফলন নিয়ে শঙ্কিত থাকলেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন প্রভাব পড়বেনা বলে আশা ওই কর্মকর্তার।

কিশোর গ্যাং এখন সামাজিক ব্যাধি

বোরোর কাঙ্খিত ফলন না পাওয়ার শঙ্কা ভালুকাসহ ময়মনসিংহের কৃষকদের

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪

প্রচন্ড গরম আর তাপমাত্রা উপেক্ষা করে ময়মনসিংহের কৃষকেরা থেমে নেই বোরো ধান কাটায়। দল বেঁধে বোরো ক্ষেতের পাকা ধান কাটছে কৃষকেরা।

 

 

 

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের কৃষক জহের আলী জানান, ৯ কাঠা জমিতে বোরো ধান করেন তিনি। জহের আলী নিজেই তার ক্ষেতে চাষাবাদ করেছেন। ফলে ক্ষেতে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগাতে হয়নি তার। তবে এক ধরনের পোকার আক্রমনের কারণে ক্ষেতের ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে তার। তিনি আরও জানান, এবার প্রচন্ড গরম, বৃষ্টি নাই, তার মাঝে বিদ্যুত থাকেনা। ঘন ঘন লোড শেডিংয়ে সময়মতো সেচ দেওয়া সম্ভব হয়নি তার। ফলে কাঙ্খিত ফসল না পাওয়ার শঙ্কা করছেন তিনি। কৃষক জহের আলীর মতো আরেক কৃষক ইব্রাহিম মিয়া ও সুরুজ মিয়ারা একই সমস্যার কথা জানান।

 

 

 

 

ভালুকা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কামরুল হাসান জানান, প্রথম দিকে বোরো ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের কিছুটা পাদুর্ভাব ছিল। এক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিস ও মাঠ পর্যায়ে তাদের উপ-সহকারী কর্মকর্তাবৃন্দ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। এতে ফলনের তেমন কোনো সমস্যা হবেনা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বোরো ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র অর্জন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

 

কৃষক ইব্রাহিম জানান, তিনি ব্রি-২৮ ধান করেছেন ৯ কাঠা জমিতে। এর ফলন ভালো হয়েছে তার। তবে অন্য জাতের ধানক্ষেতে সময় মতো সেচের মাধ্যমে পানি দিতে না পারায় ব্যাপক ক্ষতির কথা জানান তিনি।

 

 

 

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পরিচালক (উদ্ভিদ সংলক্ষণ) মাসুদুর রহমান জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে এবং অর্জিত হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে। এবার বোরোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৭৬৮ মেট্রিক টন চাল। তবে এ উপজেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়া ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো ক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় কৃষকেরা কিছুটা ফলন নিয়ে শঙ্কিত থাকলেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন প্রভাব পড়বেনা বলে আশা ওই কর্মকর্তার।