০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্য চলছেই

প্রিন্ট

⦿ অকার্যকর মিটারে ভাড়া সিস্টেম
⦿ যেকোনো দূরত্বে গুণতে হচ্ছে ২-৩ গুণ বেশি ভাড়া
⦿ আইন থাকলেও নেই সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা
⦿ অ্যাপস সিস্টেমে চলছে কিছু সিএনজি

রাজধানীতে প্রাইভেট যাতায়াতের জন্য অন্যতম নির্ভরযোগ্য বাহন সিএনজি অটোরিকশা। প্রথম দুই কিলোমিটার ৪০ টাকা করে ও পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা ও যানজটে প্রতিমিনিট ২ টাকা করে নেওয়ার কথা থাকলেও তা মানছেন না চালকরা। মিটার থাকলেও নানান অজুহাতে যাত্রীদের বাধ্য করছেন চুক্তিতে ভাড়া দিতে। ফলে যেকোনো দূরত্বে যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে ২-৩ গুণ বেশি ভাড়া। প্রশাসনের নাকের ডগায় এহেন নৈরাজ্য হলেও সরকারের সংশ্লিষ্টদের নেই কোনো তৎপরতা। ফলে বছরের পর বছর ধরে যাত্রীদের জিম্মি করে চলেছেন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। আর এই অনিয়মই হয়ে উঠেছে যেন নিয়ম, নগরবাসীও ভুলতে বসেছেন মিটার ভাড়ার কথা।

জানা যায়, রাজধানীতে ২০০২ সালের শেষ দিক থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল শুরু হয়। সেসময় সরকার নির্ধারিত কিলোমিটার প্রতি ভাড়া বাড়িয়ে ৭ টাকা ৬৪ পয়সা এবং বিরতিকালীন চার্জ ১ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়। সবশেষ ২০১৫ সালে ভাড়া ও জমা বাড়ানো হয়। ২০১৫ সালে সিএনজির জমা ৯০০ টাকা। বাড়ানো হয় ভাড়াও। তবে কোনো সিএনজি অটোরিকশা চালকরা সরকার নির্ধারিত ভাড়া মানেন না।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি এক জরিপে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত অটোরিকশার ৯৮ শতাংশই চুক্তিতে চলে। যেসব চালক মিটারে চলতেন, তারা ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দিতে বলতেন। এখন মিটারে চলার ঘটনা একেবারেই বিরল। যাত্রীরাও অটোরিকশার মিটারে না চলাচলের বিষয়টিকে সাধারণ নিয়ম হিসেবে মেনে নিয়েছেন।

সড়ক পরিবহন আইনের ৩৫ (৩) ধারায় বলা আছে, অটোরিকশাচালক রুট পারমিট এলাকার ভেতরে যেকোনো গন্তব্যে মিটারে যেতে বাধ্য থাকবেন। মিটারে প্রদর্শিত ভাড়ার অতিরিক্ত দাবি বা আদায় করতে পারবেন না। আইনে এই ধারা লঙ্ঘন করলে শাস্তি হিসেবে অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে।
সিএনজি চালকরা বলছেন, সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯ বছর আগে। এরপর দ্রবমূল্যের বৃদ্ধি হয়েছে। মালিকরাও জমার টাকা বাড়িয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ট্র্যাফিক পুলিশের সদস্যদের টাকা দিতে হয়, আবার কিছু স্থানে সিটি কর্পোরেশনের নামে চাঁদা তোলা হয়। সব মিলিয়ে তাদের দৈনিক খরচ থাকে প্রায় ২০০০ টাকা। এরপর বাকি যা থাকে তাদের নিজেদের। কিছু সিএনজি অ্যাপসে চালালেও তাতে লাভ না হওয়ায় আগ্রহ হারিয়েছেন তারা। তবে ভোরে ও মধ্যরাতে যারা ভাড়া মারেন তারা অ্যাপস ব্যবহার করেন যাত্রী পেতে।

গুলিস্তানে কথা হয় সিএনজি চালক সাগরের সঙ্গে। তিনি বলেন, মালিককে জমা দিতে হয় ১ হাজার ২০০ টাকা, গ্যাস খরচ ৪০০ টাকা, এছাড়াও সড়কে ট্র্যাফিক পুলিশ, সিটি কর্পোরশেনের চাঁদা সবমিলিয়ে ১৮০০ থেকে ২০০০ খরচ থাকে। এরবাইরে নিজের খাওয়া দাওয়া আছে। এখন জিনিস পত্রের যে দাম সংসার চালানোই মুশকিল। মিটারে চালালে দিন শেষে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি থাকে না। বাধ্য হয়েই চুক্তিতে চালাতে হয়।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এখন ভাড়ায়চালিত ১৫ হাজার অনুমোদিত অটোরিকশা রয়েছে। আর ব্যক্তিগত অটোরিকশা আছে ৫ হাজার। এসব ব্যক্তিগত অটোরিকশাও ভাড়া মারছে নিয়মিত। পুলিশ ও বিআরটিএকে খুশি করে ভাড়া মারছে তারা অভিযোগ সাধারণ সিএনজি চালকদের।
ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বরকতুল্লাহ বলেন, ১ হাজার ১০০ টাকার নিচে জমা নিলে অটোরিকশা চালানো সম্ভব নয়। গাড়ির যন্ত্রাংশসহ জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে দুই-তিন গুণ।

মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান বলেন, মিটারে না গিয়ে চুক্তিতে যাওয়ার কোনো ঘটনা নজরে এলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মিটারচালিত সিএনজি অটোরিকশার কোনো ডাটা দেয়নি। যদি মিটারচালিত সিএনজি অটোরিকশাগুলোর ডাটা আমাদের কাছে থাকত, তাহলে অভিযান চালাতে সুবিধা হতো।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, সিএনজিচালকরা আইন মানতে চান না। আমরা তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। মিটারে না চালালে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করছে। সার্জেন্টরাও মামলা করছেন।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

রাজধানীতে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্য চলছেই

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪

⦿ অকার্যকর মিটারে ভাড়া সিস্টেম
⦿ যেকোনো দূরত্বে গুণতে হচ্ছে ২-৩ গুণ বেশি ভাড়া
⦿ আইন থাকলেও নেই সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা
⦿ অ্যাপস সিস্টেমে চলছে কিছু সিএনজি

রাজধানীতে প্রাইভেট যাতায়াতের জন্য অন্যতম নির্ভরযোগ্য বাহন সিএনজি অটোরিকশা। প্রথম দুই কিলোমিটার ৪০ টাকা করে ও পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা ও যানজটে প্রতিমিনিট ২ টাকা করে নেওয়ার কথা থাকলেও তা মানছেন না চালকরা। মিটার থাকলেও নানান অজুহাতে যাত্রীদের বাধ্য করছেন চুক্তিতে ভাড়া দিতে। ফলে যেকোনো দূরত্বে যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে ২-৩ গুণ বেশি ভাড়া। প্রশাসনের নাকের ডগায় এহেন নৈরাজ্য হলেও সরকারের সংশ্লিষ্টদের নেই কোনো তৎপরতা। ফলে বছরের পর বছর ধরে যাত্রীদের জিম্মি করে চলেছেন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। আর এই অনিয়মই হয়ে উঠেছে যেন নিয়ম, নগরবাসীও ভুলতে বসেছেন মিটার ভাড়ার কথা।

জানা যায়, রাজধানীতে ২০০২ সালের শেষ দিক থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল শুরু হয়। সেসময় সরকার নির্ধারিত কিলোমিটার প্রতি ভাড়া বাড়িয়ে ৭ টাকা ৬৪ পয়সা এবং বিরতিকালীন চার্জ ১ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়। সবশেষ ২০১৫ সালে ভাড়া ও জমা বাড়ানো হয়। ২০১৫ সালে সিএনজির জমা ৯০০ টাকা। বাড়ানো হয় ভাড়াও। তবে কোনো সিএনজি অটোরিকশা চালকরা সরকার নির্ধারিত ভাড়া মানেন না।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি এক জরিপে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত অটোরিকশার ৯৮ শতাংশই চুক্তিতে চলে। যেসব চালক মিটারে চলতেন, তারা ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দিতে বলতেন। এখন মিটারে চলার ঘটনা একেবারেই বিরল। যাত্রীরাও অটোরিকশার মিটারে না চলাচলের বিষয়টিকে সাধারণ নিয়ম হিসেবে মেনে নিয়েছেন।

সড়ক পরিবহন আইনের ৩৫ (৩) ধারায় বলা আছে, অটোরিকশাচালক রুট পারমিট এলাকার ভেতরে যেকোনো গন্তব্যে মিটারে যেতে বাধ্য থাকবেন। মিটারে প্রদর্শিত ভাড়ার অতিরিক্ত দাবি বা আদায় করতে পারবেন না। আইনে এই ধারা লঙ্ঘন করলে শাস্তি হিসেবে অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে।
সিএনজি চালকরা বলছেন, সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯ বছর আগে। এরপর দ্রবমূল্যের বৃদ্ধি হয়েছে। মালিকরাও জমার টাকা বাড়িয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ট্র্যাফিক পুলিশের সদস্যদের টাকা দিতে হয়, আবার কিছু স্থানে সিটি কর্পোরেশনের নামে চাঁদা তোলা হয়। সব মিলিয়ে তাদের দৈনিক খরচ থাকে প্রায় ২০০০ টাকা। এরপর বাকি যা থাকে তাদের নিজেদের। কিছু সিএনজি অ্যাপসে চালালেও তাতে লাভ না হওয়ায় আগ্রহ হারিয়েছেন তারা। তবে ভোরে ও মধ্যরাতে যারা ভাড়া মারেন তারা অ্যাপস ব্যবহার করেন যাত্রী পেতে।

গুলিস্তানে কথা হয় সিএনজি চালক সাগরের সঙ্গে। তিনি বলেন, মালিককে জমা দিতে হয় ১ হাজার ২০০ টাকা, গ্যাস খরচ ৪০০ টাকা, এছাড়াও সড়কে ট্র্যাফিক পুলিশ, সিটি কর্পোরশেনের চাঁদা সবমিলিয়ে ১৮০০ থেকে ২০০০ খরচ থাকে। এরবাইরে নিজের খাওয়া দাওয়া আছে। এখন জিনিস পত্রের যে দাম সংসার চালানোই মুশকিল। মিটারে চালালে দিন শেষে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি থাকে না। বাধ্য হয়েই চুক্তিতে চালাতে হয়।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এখন ভাড়ায়চালিত ১৫ হাজার অনুমোদিত অটোরিকশা রয়েছে। আর ব্যক্তিগত অটোরিকশা আছে ৫ হাজার। এসব ব্যক্তিগত অটোরিকশাও ভাড়া মারছে নিয়মিত। পুলিশ ও বিআরটিএকে খুশি করে ভাড়া মারছে তারা অভিযোগ সাধারণ সিএনজি চালকদের।
ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বরকতুল্লাহ বলেন, ১ হাজার ১০০ টাকার নিচে জমা নিলে অটোরিকশা চালানো সম্ভব নয়। গাড়ির যন্ত্রাংশসহ জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে দুই-তিন গুণ।

মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান বলেন, মিটারে না গিয়ে চুক্তিতে যাওয়ার কোনো ঘটনা নজরে এলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মিটারচালিত সিএনজি অটোরিকশার কোনো ডাটা দেয়নি। যদি মিটারচালিত সিএনজি অটোরিকশাগুলোর ডাটা আমাদের কাছে থাকত, তাহলে অভিযান চালাতে সুবিধা হতো।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, সিএনজিচালকরা আইন মানতে চান না। আমরা তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। মিটারে না চালালে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করছে। সার্জেন্টরাও মামলা করছেন।