০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অগ্রিম ইস্তফা দিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট

আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অগ্রিম ইস্তফা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত। সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এম কুদ্দুসের এক বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ‘অগ্রিম ইস্তফা’ দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে মোহিত উর রহমান শান্ত লেখেন ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে আমি অগ্রিম ইস্তফা দিয়ে রাখলাম। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আপনি হয় আমার ইস্তফা গ্রহণ করবেন এবং জড়িত প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত করবেন, না হয় ব্যক্তি স্বার্থে বিরোধীদের হাতে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার খোরাক তুলে দেওয়ার জন্য এম এ কুদ্দুসের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করবেন।’
আজ সোমবার (১৩ মে) ভোর ৪টার দিকে ফেসবুকে এ পোস্ট দেন সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত।  পোস্টে এ সংসদ সদস্য আরও লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গোটা পৃথিবী যেখানে আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, একটি অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভের পর সবাই যখন আপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আপনার সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ তখন  ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সন্তানের রক্তের সঙ্গে আপোষ করা, সন্তানের খুনিদের সঙ্গে আপোষ করা এম এ কুদ্দুস সেই অবাধ, সুষ্ঠু আর নিরপেক্ষ নির্বাচনকে, আমাদের প্রাণপ্রিয় আপনাকে বিতর্কিত করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাকস্বাধীনতার অর্থ মিথ্যাচার হতে পারে না।’
এর পর তিনি প্রধামনমন্ত্রী, আইজিপিসহ নিম্নোক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের হ্যাসট্যাগ করেছেন- এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার ফেসবুক পোস্টটিতে রিয়েক্ট পড়েছে দেড় হাজারের বেশি, মন্তব্য করেছেন ৩৯৯ জন, আর পোস্টটি শেয়ার করেছেন ১৪৮ জন।
পোস্টে তিনি ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এম কুদ্দুস বলছেন, বিগত নির্বাচনে তিন মাস কাজ করে সদরের প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে আমিনুল হক শামীম নেতা হিসেবে পরিচয় লাভ করেছেন। গত নির্বাচনে আপনারা ‘ট্রাক’ মার্কাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। সেখানে আমিনুল সাহেব ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন কিন্তু অদৃশ্য হাতের ইশারায় তাকে ফেল করানো হয়েছে। এক লাখ তিন হাজার ভোট পেয়েছেন তিনি। ৫০ হাজার ভোট এদিক-সেদিক করে ফেলছে। তাইলে ৫০ হাজার ভোটে এই ভদ্রলোক (আমিনুল হক শামীম) পাস করে। এই অনুষ্ঠানে ট্রাক প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমিনুল হক শামীম, শওকত জাহান মুকুল, দপ্তর সম্পাদক দীন ইসলাম ফকরুল, ছাত্রলীগ সভাপতি আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক হুমাইয়ুন কবীর উপস্থিত ছিলেন।
মোহিতুরের পোস্ট এবং শেয়ার করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এ পোস্টকে ঘিরে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা  উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতিয় সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমিনুল হক শামীম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ময়মনসিংহ-৭ থেকে এসে  ময়মনসিংহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এম এ কুদ্দুস ট্রাক প্রতীকের নির্বাচন করেছেন। অন্যদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। সে নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

ময়মনসিংহের এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অগ্রিম ইস্তফা দিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট

আপডেট সময় : ০৫:২৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪
আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অগ্রিম ইস্তফা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত। সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এম কুদ্দুসের এক বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ‘অগ্রিম ইস্তফা’ দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে মোহিত উর রহমান শান্ত লেখেন ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে আমি অগ্রিম ইস্তফা দিয়ে রাখলাম। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আপনি হয় আমার ইস্তফা গ্রহণ করবেন এবং জড়িত প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত করবেন, না হয় ব্যক্তি স্বার্থে বিরোধীদের হাতে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার খোরাক তুলে দেওয়ার জন্য এম এ কুদ্দুসের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করবেন।’
আজ সোমবার (১৩ মে) ভোর ৪টার দিকে ফেসবুকে এ পোস্ট দেন সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্ত।  পোস্টে এ সংসদ সদস্য আরও লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গোটা পৃথিবী যেখানে আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, একটি অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভের পর সবাই যখন আপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আপনার সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ তখন  ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সন্তানের রক্তের সঙ্গে আপোষ করা, সন্তানের খুনিদের সঙ্গে আপোষ করা এম এ কুদ্দুস সেই অবাধ, সুষ্ঠু আর নিরপেক্ষ নির্বাচনকে, আমাদের প্রাণপ্রিয় আপনাকে বিতর্কিত করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাকস্বাধীনতার অর্থ মিথ্যাচার হতে পারে না।’
এর পর তিনি প্রধামনমন্ত্রী, আইজিপিসহ নিম্নোক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের হ্যাসট্যাগ করেছেন- এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার ফেসবুক পোস্টটিতে রিয়েক্ট পড়েছে দেড় হাজারের বেশি, মন্তব্য করেছেন ৩৯৯ জন, আর পোস্টটি শেয়ার করেছেন ১৪৮ জন।
পোস্টে তিনি ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এম কুদ্দুস বলছেন, বিগত নির্বাচনে তিন মাস কাজ করে সদরের প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে আমিনুল হক শামীম নেতা হিসেবে পরিচয় লাভ করেছেন। গত নির্বাচনে আপনারা ‘ট্রাক’ মার্কাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। সেখানে আমিনুল সাহেব ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন কিন্তু অদৃশ্য হাতের ইশারায় তাকে ফেল করানো হয়েছে। এক লাখ তিন হাজার ভোট পেয়েছেন তিনি। ৫০ হাজার ভোট এদিক-সেদিক করে ফেলছে। তাইলে ৫০ হাজার ভোটে এই ভদ্রলোক (আমিনুল হক শামীম) পাস করে। এই অনুষ্ঠানে ট্রাক প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমিনুল হক শামীম, শওকত জাহান মুকুল, দপ্তর সম্পাদক দীন ইসলাম ফকরুল, ছাত্রলীগ সভাপতি আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক হুমাইয়ুন কবীর উপস্থিত ছিলেন।
মোহিতুরের পোস্ট এবং শেয়ার করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এ পোস্টকে ঘিরে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা  উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতিয় সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমিনুল হক শামীম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ময়মনসিংহ-৭ থেকে এসে  ময়মনসিংহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এম এ কুদ্দুস ট্রাক প্রতীকের নির্বাচন করেছেন। অন্যদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। সে নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।