০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে বিদ্যুৎ-পরিবহন খাত

বাজেট ২০২৪-২৫

◉৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ ৬ জুন
◉পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ
◉বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ প্রশ্নে বেশ চাপে আছে দেশের অর্থনীতি। ঋণ মেটাতে গিয়ে অর্থসংকটে রয়েছে সরকার। দেশে চলমান অর্থনৈতিক চাপের কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার তেমন বাড়াতে চাচ্ছে না সরকার। যদিও আসন্ন বাজেটে ৮ লাখ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা আগামী ৬ জুন পেশ করার কথা রয়েছে। আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতকে।

 

পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৭০ হাজার ৬৮৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪০ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাদি খাতে প্রায় ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, যা টাকার হিসাবে ২৮ হাজার ২ কোটি টাকা। এছাড়া শিক্ষা খাতে ৩১ হাজার ৫২৮ এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ২০ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এই বাজেটে বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করার পক্ষে মতামত দেন প্রধানমন্ত্রী। চলতি অর্থবছরের মতো এবারও আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

সূত্র জানায়, সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেটে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিফলন হয় কি না তা দেখতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা বাজেটে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এর আগে গত সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতার সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, বৈধ চ্যানেলে প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র থেকে জানা যায়, নতুন এডিপিতে সাধারণ সরকারি সেবা খাতে ২ লাখ ১৩৩ কোটি, প্রতিরক্ষা খাতে ৭১০ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা খাতে ৩ হাজার ৩০৮ কোটি এবং শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতে ১৩ হাজার ২২০ কোটি, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৭ হাজার ৯৮৬ কোটি; পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ খাতে ১১ হাজার ৮৯ কোটি, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে ২৪ হাজার ৬৮২ কোটি; ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতে ৩ হাজার ৪৯১ কোটি; বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

নতুন এডিপিতে সাধারণ সরকারি সেবা খাতে ২ লাখ ১৩৩ কোটি, প্রতিরক্ষা খাতে ৭১০ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা খাতে ৩ হাজার ৩০৮ কোটি এবং শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৬ হাজার ৪৯২ কোটি এবং কৃষি খাতে ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এদিকে বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। নতুন এডিপিতে স্থানীয় সরকার বিভাগে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৩৮ হাজার ৮০৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এরপরই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩২ হাজার ৪২ কোটি, বিদ্যুৎ খাতে ২৯ হাজার ১৭৬ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৬ হাজার ১৩৫ কোটি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ১৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এছাড়া রেলপথ বিভাগে ১৩ হাজার ৭২৫ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১২ হাজার ৮৮৬ কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ১১ হাজার ৩৮৭ কোটি, নৌপরিবহনে ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৮ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে প্রাপ্ত এক হাজার ৮৯৪টি অননুমোদিত নতুন প্রকল্প যাচাই-বাছাই করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এক হাজার ২২৩টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়। এসব অননুমোদিত নতুন প্রকল্প পরবর্তীসময়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদিত হলে বা চলমান প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সেসব প্রকল্পে এডিপি থেকে অর্থায়ন করা হয়। সে লক্ষ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপিতে বিভিন্ন খাতের আওতায় মন্ত্রণালয়/বিভাগভিত্তিক ‘থোক বরাদ্দ’ বাবদ ১৬ হাজার ৮৭২ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে বিদ্যুৎ-পরিবহন খাত

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

◉৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ ৬ জুন
◉পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ
◉বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ প্রশ্নে বেশ চাপে আছে দেশের অর্থনীতি। ঋণ মেটাতে গিয়ে অর্থসংকটে রয়েছে সরকার। দেশে চলমান অর্থনৈতিক চাপের কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার তেমন বাড়াতে চাচ্ছে না সরকার। যদিও আসন্ন বাজেটে ৮ লাখ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা আগামী ৬ জুন পেশ করার কথা রয়েছে। আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতকে।

 

পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৭০ হাজার ৬৮৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪০ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাদি খাতে প্রায় ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, যা টাকার হিসাবে ২৮ হাজার ২ কোটি টাকা। এছাড়া শিক্ষা খাতে ৩১ হাজার ৫২৮ এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ২০ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এই বাজেটে বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করার পক্ষে মতামত দেন প্রধানমন্ত্রী। চলতি অর্থবছরের মতো এবারও আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

সূত্র জানায়, সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেটে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিফলন হয় কি না তা দেখতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা বাজেটে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এর আগে গত সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতার সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, বৈধ চ্যানেলে প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র থেকে জানা যায়, নতুন এডিপিতে সাধারণ সরকারি সেবা খাতে ২ লাখ ১৩৩ কোটি, প্রতিরক্ষা খাতে ৭১০ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা খাতে ৩ হাজার ৩০৮ কোটি এবং শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতে ১৩ হাজার ২২০ কোটি, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৭ হাজার ৯৮৬ কোটি; পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ খাতে ১১ হাজার ৮৯ কোটি, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে ২৪ হাজার ৬৮২ কোটি; ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতে ৩ হাজার ৪৯১ কোটি; বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

নতুন এডিপিতে সাধারণ সরকারি সেবা খাতে ২ লাখ ১৩৩ কোটি, প্রতিরক্ষা খাতে ৭১০ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা খাতে ৩ হাজার ৩০৮ কোটি এবং শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৬ হাজার ৪৯২ কোটি এবং কৃষি খাতে ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এদিকে বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। নতুন এডিপিতে স্থানীয় সরকার বিভাগে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৩৮ হাজার ৮০৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এরপরই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩২ হাজার ৪২ কোটি, বিদ্যুৎ খাতে ২৯ হাজার ১৭৬ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৬ হাজার ১৩৫ কোটি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ১৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এছাড়া রেলপথ বিভাগে ১৩ হাজার ৭২৫ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১২ হাজার ৮৮৬ কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ১১ হাজার ৩৮৭ কোটি, নৌপরিবহনে ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৮ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে প্রাপ্ত এক হাজার ৮৯৪টি অননুমোদিত নতুন প্রকল্প যাচাই-বাছাই করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এক হাজার ২২৩টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়। এসব অননুমোদিত নতুন প্রকল্প পরবর্তীসময়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদিত হলে বা চলমান প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সেসব প্রকল্পে এডিপি থেকে অর্থায়ন করা হয়। সে লক্ষ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপিতে বিভিন্ন খাতের আওতায় মন্ত্রণালয়/বিভাগভিত্তিক ‘থোক বরাদ্দ’ বাবদ ১৬ হাজার ৮৭২ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।