০৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদেশ যাওয়ার টাকা না দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • 40

স্বামীকে বিদেশ যাওয়ার টাকা না দেওয়ায় অনামিকা আক্তার আপন (১৮) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় নিহত গৃহবধূর লাশ তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে রবিবার বিকেলে শেরপুরের শ্রীবরদীর ঝগড়ারচর তিনআনীপাড়া গ্রামে স্বামী মামুন মিয়ার বাড়িতে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের শাশুড়ি রওশন আরা বেগমকে গ্রেফতার করেছে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, নিহত অনামিকা আক্তার আপন জামালপুরের বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের আকিবুর রহমান আকিবের মেয়ে। ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীবরদীর তিনআনীপাড়া গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে মামুন মিয়ার সাথে আপনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্যে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য মামুন তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিল। সম্প্রতি বিদেশে যাওয়ার জন্য মামুন তার শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। এই টাকা দিতে অস্বীকার করায় মামুন আপনের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
সবশেষ রবিবার দুপুরে আপনকে নির্যাতন করার একপর্যায়ে মুখে বিষ ঢেলে দেয় মামুন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে আপনকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এ সময় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় আপন। ওই সময় লাশ ফেলে তার স্বামীর বাড়ির লোকজন গা ঢাকা দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত আপনের মা আসনাত বেগম বাদী হয়ে নিহতের স্বামী মামুনসহ চারজনকে আসামিসহ অজ্ঞাত আরো ৩-৪ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আপনের শাশুড়ি রৌশনারা বেগমকে গ্রেফতার করে।
আপনের মা আসনাত বেগম বলেন, আমার মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী মামুন ও শাশুড়ি রৌশনারাসহ বাড়ির অন্য লোকজন তাকে নির্যাতন করে আসছে। ঘটনার কয়েকদিন আগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কমল দায়িত্ব নিয়ে আমার মেয়েকে নিয়ে যায়। রবিবার নির্যাতন করে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আপনকে হত্যা করা হয়। আমরা এর বিচার চাই।
অন্যদিকে সরেজমিনে আপনের স্বামীর বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
শ্রীবরদী থানার এসআই সাইফুল মালেক বলেন, আপনকে নির্যাতনের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু হয়েছে।

পঞ্চম দিনের মতো ট্রেন আটকে দিলেন বাকৃবি শিক্ষার্থীরা

বিদেশ যাওয়ার টাকা না দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

স্বামীকে বিদেশ যাওয়ার টাকা না দেওয়ায় অনামিকা আক্তার আপন (১৮) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় নিহত গৃহবধূর লাশ তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে রবিবার বিকেলে শেরপুরের শ্রীবরদীর ঝগড়ারচর তিনআনীপাড়া গ্রামে স্বামী মামুন মিয়ার বাড়িতে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের শাশুড়ি রওশন আরা বেগমকে গ্রেফতার করেছে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, নিহত অনামিকা আক্তার আপন জামালপুরের বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের আকিবুর রহমান আকিবের মেয়ে। ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীবরদীর তিনআনীপাড়া গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে মামুন মিয়ার সাথে আপনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্যে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য মামুন তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিল। সম্প্রতি বিদেশে যাওয়ার জন্য মামুন তার শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। এই টাকা দিতে অস্বীকার করায় মামুন আপনের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
সবশেষ রবিবার দুপুরে আপনকে নির্যাতন করার একপর্যায়ে মুখে বিষ ঢেলে দেয় মামুন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে আপনকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এ সময় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় আপন। ওই সময় লাশ ফেলে তার স্বামীর বাড়ির লোকজন গা ঢাকা দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত আপনের মা আসনাত বেগম বাদী হয়ে নিহতের স্বামী মামুনসহ চারজনকে আসামিসহ অজ্ঞাত আরো ৩-৪ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আপনের শাশুড়ি রৌশনারা বেগমকে গ্রেফতার করে।
আপনের মা আসনাত বেগম বলেন, আমার মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী মামুন ও শাশুড়ি রৌশনারাসহ বাড়ির অন্য লোকজন তাকে নির্যাতন করে আসছে। ঘটনার কয়েকদিন আগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কমল দায়িত্ব নিয়ে আমার মেয়েকে নিয়ে যায়। রবিবার নির্যাতন করে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আপনকে হত্যা করা হয়। আমরা এর বিচার চাই।
অন্যদিকে সরেজমিনে আপনের স্বামীর বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
শ্রীবরদী থানার এসআই সাইফুল মালেক বলেন, আপনকে নির্যাতনের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু হয়েছে।