০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে যত মামলা নিষ্পত্তিতে গতিস ার

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • 50

রাজশাহী ব্যুরো

বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা এখন মামলা আর সাজার চাপে বিপাকে রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে সাম্প্রতিক সময়ে গতিস ার হয়েছে। দ্রæত ফেলা হচ্ছে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন। ফলে এ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন দলটির নেতাকর্মীরা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় মামলা তথ্য ও সংরক্ষণ সেল থেকে গত সোমবার মামলা ও আসামীর সংখ্যার তথ্য প্রকাশ করা হয়। তাতে জানানো হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত গত ১৪ বছরে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সব মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৯২।

এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১১ হাজার ৪৫২টি। এ সব মামলায় আসামী সংখ্যা ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৪৩৬। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় মামলা রয়েছে দেড় হাজারের উপরে। যেখানে আসামী রয়েছে ১ লাখের বেশী। নাশকতা, ভাঙচুর, অঘিœসংযোগ, সরকারি কাজে বাধা ও বিস্ফোরক আইনে অধিকাংশ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে সংখ্যা বাড়াতে ২০০৯ সালের আগে ১/১১ সময় ও তার আগের মামলাগুলো যুক্ত করা হয়েছে এই তালিকায় বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ১/১১ পর তত্ববাধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি ও জঙ্গী মদদদানের অভিযোগে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে সেগুলোও এই তালিকায় দেয়া হয়েছে।

রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশী মামলা রয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৪৬টি। তবে এসব মামলার মধ্যে ২০০৯ সালের আগে ২০০৭ সালের ১/১১ পর তত্ববধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জঙ্গী মদদদানের অভিযোগ দায়ের করা মামলাও রয়েছে। মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সাবেক এমপি।
এর পরের অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নাদিম মোস্তফা। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৪৫টি। নাদিম মোস্তফা রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাবেক এমপি ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।
এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ২৮টি। বুলবুল রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপর সাবেক সভাপতি।
অপরদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৩১টি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলার আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ৩৮টি। বিএনপির এই দুই নেতা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকতের বিরুদ্ধে ৮টি, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপুর বিরুদ্ধে ৩টি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ৬টি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবাশীস রায় মধুর বিরুদ্ধে রয়েছে ৫টি মামলা।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা বলেন, আমাদের এমন কোন নেতা নেই যার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা নেই। দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন-পুরাতন মামলাগুলো আবার সচল করা হচ্ছে। মামলাগুলো দ্রæত শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কারণ একটাই আন্দোলন দমন করা। কিন্তু এসব করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষে ২ জন নিহত

রাজশাহীতে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে যত মামলা নিষ্পত্তিতে গতিস ার

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রাজশাহী ব্যুরো

বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা এখন মামলা আর সাজার চাপে বিপাকে রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে সাম্প্রতিক সময়ে গতিস ার হয়েছে। দ্রæত ফেলা হচ্ছে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন। ফলে এ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন দলটির নেতাকর্মীরা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় মামলা তথ্য ও সংরক্ষণ সেল থেকে গত সোমবার মামলা ও আসামীর সংখ্যার তথ্য প্রকাশ করা হয়। তাতে জানানো হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত গত ১৪ বছরে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সব মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৯২।

এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১১ হাজার ৪৫২টি। এ সব মামলায় আসামী সংখ্যা ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৪৩৬। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় মামলা রয়েছে দেড় হাজারের উপরে। যেখানে আসামী রয়েছে ১ লাখের বেশী। নাশকতা, ভাঙচুর, অঘিœসংযোগ, সরকারি কাজে বাধা ও বিস্ফোরক আইনে অধিকাংশ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে সংখ্যা বাড়াতে ২০০৯ সালের আগে ১/১১ সময় ও তার আগের মামলাগুলো যুক্ত করা হয়েছে এই তালিকায় বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ১/১১ পর তত্ববাধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি ও জঙ্গী মদদদানের অভিযোগে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে সেগুলোও এই তালিকায় দেয়া হয়েছে।

রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশী মামলা রয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৪৬টি। তবে এসব মামলার মধ্যে ২০০৯ সালের আগে ২০০৭ সালের ১/১১ পর তত্ববধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জঙ্গী মদদদানের অভিযোগ দায়ের করা মামলাও রয়েছে। মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সাবেক এমপি।
এর পরের অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নাদিম মোস্তফা। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৪৫টি। নাদিম মোস্তফা রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাবেক এমপি ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।
এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ২৮টি। বুলবুল রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপর সাবেক সভাপতি।
অপরদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৩১টি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলার আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ৩৮টি। বিএনপির এই দুই নেতা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকতের বিরুদ্ধে ৮টি, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপুর বিরুদ্ধে ৩টি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ৬টি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবাশীস রায় মধুর বিরুদ্ধে রয়েছে ৫টি মামলা।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা বলেন, আমাদের এমন কোন নেতা নেই যার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা নেই। দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন-পুরাতন মামলাগুলো আবার সচল করা হচ্ছে। মামলাগুলো দ্রæত শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কারণ একটাই আন্দোলন দমন করা। কিন্তু এসব করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।