8:19 pm, Tuesday, 26 May 2026

কক্সবাজারে শুরু হলো ২১ জাতিগোষ্ঠী বিচ ফেস্টিভ্যাল

‘কক্সবাজার আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন মানুষ আসেন বেড়াতে ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে।  কাজেই এই জায়গায় আমরা যদি এমন কিছু উপস্থাপন করতে পারি যাতে বাংলাদেশের মানুষ এতদিন যে কঠিন সময় পার করছে, সেই সময় নতুন স্বপ্নের বীজ বপন করতে পারি তাদের মাথায় তাহলে আমাদের কার্যক্রম স্বার্থক হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জনগণের মাঝে জনবান্ধব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে চাই’- কক্সবাজারে ২১ জাতিগোষ্ঠী বিচ ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধন করতে এসে এ কথা জানান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সেলের ব্যবস্থাপনায় আজ শুক্রবার থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত লাবনী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে  শুরু হলো ২ দিনব্যাপী এই উৎসবে অংশ নিচ্ছে চাকমা, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, লুসাই, খুমি, বম, খেয়াং, চাক, পাংখোয়া, তঞ্চঙ্গ্যা, মনিপুরী, বাংগালী, সাঁওতাল, মাহালী, ওরাওঁ, মালপাহাড়িয়া, গারো, হাজং, কোচ, রাখাইন প্রভৃতি সম্প্রদায়ের শিল্পীবৃন্দ। এছাড়াও কক্সবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমি, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের বাঙালি শিল্পীবৃন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্‌উদ্দিনের সভাপতিত্বে উৎসব উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠান সমন্বয়ক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম শামীম আকতার।

আলোচনা পর্ব শেষে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরবেশনা শুরু হয়। প্রথমেই বিভিন্ন ভাষায় ‘একুশের গান’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ গানটি। এরপর ‘মারমা পাখা নৃত্য’, ‘বম জীবন ধারা নৃত্য’ এবং ‘সংগীত’ পরিবেশিত হয়। পরিবেশনার এ পর্যায়ে পরিবেশিত হয় ‘খুমি মাছ ধরা নৃত্য’, ‘ময়ূর নৃত্য’ এবং ‘সংগীত’। এরপর ‘চাকমা গান’, ‘তঞ্চঙ্গা নৃত্য’ এবং ‘ম্রো জুম নৃত্য’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা। আবারও পরিবেশিত হয় ‘ত্রিপুরা গান’ এবং ‘চাকমা প্রদীপ নৃত্য’। এরপর পরিবেশিত হয় ‘লুসাই বাঁশ নৃত্য’, ‘সংগীত ও সম্প্রীতি নৃত্য।  দেশাত্ববোধক গান (মাহালী সাওতালী পাহাড়িয়া) পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সমতলের শিল্পীদের পরিবেশনা শুরু হয়। ‘দাসাই নৃত্য’ (সাওতালী), ‘পাহাড়িয়া নৃত্য’ এবং ‘কমেডি’ পরিবেশিত হয়। পরিবেশনার এ পর্যায়ে ‘ওরাও নৃত্য’ এবং ‘মাহালী নৃত্য’ পরিবেশন করে শিল্পীবৃন্দ। সবশেষে ‘মণিপুরী মৃদঙ্গ নৃত্য’ ও ‘মণিপুরী রাস নৃত্য’ পরিবেশিত হয়।

 

উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মূল প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বাংলা ভাষাসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষাকেও শ্রদ্ধা জানাতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ভাষাভাষীর ২১ টি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পরিবেশিত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

three + 16 =

About Author Information

Tipu Sultan

Popular Post

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলা

কক্সবাজারে শুরু হলো ২১ জাতিগোষ্ঠী বিচ ফেস্টিভ্যাল

Update Time : ০৮:৫৭:০৫ pm, Friday, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

‘কক্সবাজার আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন মানুষ আসেন বেড়াতে ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে।  কাজেই এই জায়গায় আমরা যদি এমন কিছু উপস্থাপন করতে পারি যাতে বাংলাদেশের মানুষ এতদিন যে কঠিন সময় পার করছে, সেই সময় নতুন স্বপ্নের বীজ বপন করতে পারি তাদের মাথায় তাহলে আমাদের কার্যক্রম স্বার্থক হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জনগণের মাঝে জনবান্ধব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে চাই’- কক্সবাজারে ২১ জাতিগোষ্ঠী বিচ ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধন করতে এসে এ কথা জানান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সেলের ব্যবস্থাপনায় আজ শুক্রবার থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত লাবনী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে  শুরু হলো ২ দিনব্যাপী এই উৎসবে অংশ নিচ্ছে চাকমা, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, লুসাই, খুমি, বম, খেয়াং, চাক, পাংখোয়া, তঞ্চঙ্গ্যা, মনিপুরী, বাংগালী, সাঁওতাল, মাহালী, ওরাওঁ, মালপাহাড়িয়া, গারো, হাজং, কোচ, রাখাইন প্রভৃতি সম্প্রদায়ের শিল্পীবৃন্দ। এছাড়াও কক্সবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমি, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের বাঙালি শিল্পীবৃন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্‌উদ্দিনের সভাপতিত্বে উৎসব উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠান সমন্বয়ক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম শামীম আকতার।

আলোচনা পর্ব শেষে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরবেশনা শুরু হয়। প্রথমেই বিভিন্ন ভাষায় ‘একুশের গান’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ গানটি। এরপর ‘মারমা পাখা নৃত্য’, ‘বম জীবন ধারা নৃত্য’ এবং ‘সংগীত’ পরিবেশিত হয়। পরিবেশনার এ পর্যায়ে পরিবেশিত হয় ‘খুমি মাছ ধরা নৃত্য’, ‘ময়ূর নৃত্য’ এবং ‘সংগীত’। এরপর ‘চাকমা গান’, ‘তঞ্চঙ্গা নৃত্য’ এবং ‘ম্রো জুম নৃত্য’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা। আবারও পরিবেশিত হয় ‘ত্রিপুরা গান’ এবং ‘চাকমা প্রদীপ নৃত্য’। এরপর পরিবেশিত হয় ‘লুসাই বাঁশ নৃত্য’, ‘সংগীত ও সম্প্রীতি নৃত্য।  দেশাত্ববোধক গান (মাহালী সাওতালী পাহাড়িয়া) পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সমতলের শিল্পীদের পরিবেশনা শুরু হয়। ‘দাসাই নৃত্য’ (সাওতালী), ‘পাহাড়িয়া নৃত্য’ এবং ‘কমেডি’ পরিবেশিত হয়। পরিবেশনার এ পর্যায়ে ‘ওরাও নৃত্য’ এবং ‘মাহালী নৃত্য’ পরিবেশন করে শিল্পীবৃন্দ। সবশেষে ‘মণিপুরী মৃদঙ্গ নৃত্য’ ও ‘মণিপুরী রাস নৃত্য’ পরিবেশিত হয়।

 

উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মূল প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বাংলা ভাষাসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষাকেও শ্রদ্ধা জানাতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ভাষাভাষীর ২১ টি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পরিবেশিত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।