১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চমেকে চলছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি

চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক)সহ দেশের সব মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি তাদের। একইসঙ্গে বন্ধ রয়েছে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম।
এদিকে, আগের দিন রবিবার থেকে শুরু হওয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসা নিতে আসা ভর্তি রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চমেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার তসলিম উদ্দিন খান।
তিনি সিভয়েস২৪’কে বলেন, ‘আজকেও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাদের কর্মবিরতির কারণে আমাদের হাসপাতালে সেবার কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে। কারণ ইন্টার্ন চিকিৎসক ছাড়াও আমাদের এখানে ৬০০ জন পোস্ট গ্রাজুয়েট ডাক্তার ডাক্তার আছেন। তাদের শিফট করে ডিউটি পালন করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও প্রফেসর আছেন, আবাসিক চিকিৎসক আছেন, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রারও আছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সবাইকে কড়াকড়ি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ওয়ার্ড খালি না থাকে। কোনো ওয়ার্ডে রোগীরা সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।’

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হলো
১. এমবিবিএস/বিডিএস ব্যতীত কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে নাÑবাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) এ আইনের বিরুদ্ধে করা রিট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে ও বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে। ২০১০ সালে হাসিনা সরকার ডিপ্লোমা অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ইন মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং কোর্স-ম্যাটসদেরকে বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করেছে, এই ম্যাটসদের বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওভার-দ্য-কাউন্টার (ওটিসি) তালিকা নবায়ন করতে হবে। এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া অন্য কেউ ওটিসি তালিকার বাইরে ওষুধ পেসক্রিপশন করতে পারবে না। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিগুলো ওটিসি তালিকার বাইরে কোনো ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।
৩. স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সংকট নিরসনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। যথাÑ
ক. দ্রুত ১০,০০০ জন ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে সকল শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। আলাদা স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের পূর্বের মতো সপ্তম গ্রেডে নিয়োগ দিতে হবে।
খ. প্রতিবছর ৪,০০০-৫,০০০ ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যখাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে ও
গ. ডাক্তারদের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে।
৪. ম্যাটস ও মানহীন সরকারি ও বেসরকারি কলেজসমূহ বন্ধ করে দিতে হবে। ইতিমধ্যে পাস করা ম্যাটস শিক্ষার্থীদের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) পদবী রহিত করে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে এবং
৫. চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

চমেকে চলছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি

আপডেট সময় : ০৮:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক)সহ দেশের সব মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি তাদের। একইসঙ্গে বন্ধ রয়েছে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম।
এদিকে, আগের দিন রবিবার থেকে শুরু হওয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসা নিতে আসা ভর্তি রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চমেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার তসলিম উদ্দিন খান।
তিনি সিভয়েস২৪’কে বলেন, ‘আজকেও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাদের কর্মবিরতির কারণে আমাদের হাসপাতালে সেবার কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে। কারণ ইন্টার্ন চিকিৎসক ছাড়াও আমাদের এখানে ৬০০ জন পোস্ট গ্রাজুয়েট ডাক্তার ডাক্তার আছেন। তাদের শিফট করে ডিউটি পালন করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও প্রফেসর আছেন, আবাসিক চিকিৎসক আছেন, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রারও আছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সবাইকে কড়াকড়ি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ওয়ার্ড খালি না থাকে। কোনো ওয়ার্ডে রোগীরা সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।’

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হলো
১. এমবিবিএস/বিডিএস ব্যতীত কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে নাÑবাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) এ আইনের বিরুদ্ধে করা রিট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে ও বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে। ২০১০ সালে হাসিনা সরকার ডিপ্লোমা অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ইন মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং কোর্স-ম্যাটসদেরকে বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করেছে, এই ম্যাটসদের বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওভার-দ্য-কাউন্টার (ওটিসি) তালিকা নবায়ন করতে হবে। এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া অন্য কেউ ওটিসি তালিকার বাইরে ওষুধ পেসক্রিপশন করতে পারবে না। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিগুলো ওটিসি তালিকার বাইরে কোনো ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।
৩. স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সংকট নিরসনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। যথাÑ
ক. দ্রুত ১০,০০০ জন ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে সকল শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। আলাদা স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের পূর্বের মতো সপ্তম গ্রেডে নিয়োগ দিতে হবে।
খ. প্রতিবছর ৪,০০০-৫,০০০ ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যখাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে ও
গ. ডাক্তারদের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে।
৪. ম্যাটস ও মানহীন সরকারি ও বেসরকারি কলেজসমূহ বন্ধ করে দিতে হবে। ইতিমধ্যে পাস করা ম্যাটস শিক্ষার্থীদের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) পদবী রহিত করে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে এবং
৫. চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।