০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রঙিন মাছে স্বপ্ন বুনছেন শিক্ষিত যুবক

রুহুল আমিন সৌরভ,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

রঙিন মাছে স্বপ্ন বুনছেন অসুস্থ,শিক্ষিত এক বেকার যুবক। বানিজ্যিকভাবে রঙিন মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। নিজ বাড়ির পাশে লীজ নেওয়া একটি পুকুরে এই মাছ চাষ করছেন তিনি। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৮নং মালিয়াট ইউনিয়নের পাঁচকাহুনিয়া গ্রামের শিবু মন্ডলের ছেলে  বিশ্বজিৎ । বেকার জীবনের অভিশাপ কাটিয়ে তিনি এখন রঙিন মাছে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন।
বিশ্বজিৎ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে কর্মজীবন শুরু করেন একটি বেসরকারী কোম্পানীতে। সিলেটে কর্মরত অবস্থায় বিয়ে করেন। বিয়ের ২১ দিনের মাথায় ২০১২ সালে ব্রেইন স্ট্রোক হয়। এরপর শরীরের ডানপাশ অবস হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে চাকরী ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন। দুইবছর বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেননি। তিনভাই এক বোনের সবার ছোট বিশ^জিৎ। ভাইদের দেওয়া সহযোগীতায় চলতে থাকে চিকিৎসা। এখনো পুরোপুরি সুস্থ্য হননি। কিছুটা সুস্থ্য হলে একটি টোং দোকান দেন কিন্তু সেখান থেকে উপার্জন ভালো না হওয়ায় রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন। রঙিন মাছ চাষ করে বর্তমানে অনেকটাই ঘুরে দাড়িয়েছে। যারা বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অফিস আদালতের এ্যাকুউরিয়ামের মাছ চাষ করেন তারা তার কাছ থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বজিৎ জানান, তিনি অল্প পুঁজিতে স্বল্প সময়ে কিছু একটা করার কথা ভাবছিলেন। প্রথম দিকে বাড়িতে কয়েকটি ড্রামে এই মাছ চাষ শুরু করেন। সেখানে মাছ বড় হতে থাকে। কয়েক মাস পর বিক্রিও করেন। এরপর গত বছরের মে মাসে পুকুরে বিদেশী জাতের রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন। মাছগুলো আকারে ছোট হলেও বেশ সতেজ ও বাহারি নানা রঙের। গাপ্পি মলি, গোল্ডফিস, কমেন্ট, রেডটিকা, কইকাপ এবং প্লাটি জাতের মাছ রয়েছে। মাছগুলো অনেকে অর্নামেন্ট ফিসও বলে থাকেন।
বিশ^জিৎ আরো জানায়, তার বাবা একজন কৃষক। মাঠে তাদের চাষযোগ্য জমি নেই। তার আরো দুই ভাই ও এক বোন রয়েছে। অভাবের সংসার হলেও বাবা আমাদের লেখাপড়াা শেখাতে কার্পন্য করেননি। আমি মাস্টার্স শেষ করেছি। চাকরীও শুরু করেছিলাম। কিন্তু স্ট্রোক আমার জীবনে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। কিছুটা সুস্থ্য হলে গত বছরের মে মাসে যশোরের চৌগাাছা মাছ ব্যবসায়ী সালমান সর্দারের নিকট থেকে এ মাছ কিনে এনে চাষ শুরু করি। এ পর্যন্ত পরিচর্যা ও মাছ ক্রয় বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি। এরমধ্যে মা মাছগুলো ডিম ছেড়ে রেনু পোনার জন্ম দিচ্ছে। প্রথমমাসেই প্রায় ২০ হাজার টাকার মাাছ বিক্রি করেছিলাম। তার পর বছর ঘুরতেই কমপক্ষে এক লাখ টাকা বিক্রি করি। সৌখিন মানুষেরা যদি তার কাছ থেকে মাছ কেনেন তাহলে সে বেচে থাকার লড়াইয়ে সফল হবে।

কালীগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ হাসান সাজ্জাদ জানান, শিক্ষিত বেকার যুবক বিশ্বজিৎ বাড়িতে একটি পুকুরে রঙিন মাছের চাষ করছেন। তার মাছ চাষ পরিদর্শন করেছি। এলাকায় এ মাছ চাষ অনেকটা নতুন হওয়ায় মৎস অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সহযোাগীতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল

রঙিন মাছে স্বপ্ন বুনছেন শিক্ষিত যুবক

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০২৩

রুহুল আমিন সৌরভ,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

রঙিন মাছে স্বপ্ন বুনছেন অসুস্থ,শিক্ষিত এক বেকার যুবক। বানিজ্যিকভাবে রঙিন মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। নিজ বাড়ির পাশে লীজ নেওয়া একটি পুকুরে এই মাছ চাষ করছেন তিনি। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৮নং মালিয়াট ইউনিয়নের পাঁচকাহুনিয়া গ্রামের শিবু মন্ডলের ছেলে  বিশ্বজিৎ । বেকার জীবনের অভিশাপ কাটিয়ে তিনি এখন রঙিন মাছে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন।
বিশ্বজিৎ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে কর্মজীবন শুরু করেন একটি বেসরকারী কোম্পানীতে। সিলেটে কর্মরত অবস্থায় বিয়ে করেন। বিয়ের ২১ দিনের মাথায় ২০১২ সালে ব্রেইন স্ট্রোক হয়। এরপর শরীরের ডানপাশ অবস হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে চাকরী ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন। দুইবছর বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেননি। তিনভাই এক বোনের সবার ছোট বিশ^জিৎ। ভাইদের দেওয়া সহযোগীতায় চলতে থাকে চিকিৎসা। এখনো পুরোপুরি সুস্থ্য হননি। কিছুটা সুস্থ্য হলে একটি টোং দোকান দেন কিন্তু সেখান থেকে উপার্জন ভালো না হওয়ায় রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন। রঙিন মাছ চাষ করে বর্তমানে অনেকটাই ঘুরে দাড়িয়েছে। যারা বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অফিস আদালতের এ্যাকুউরিয়ামের মাছ চাষ করেন তারা তার কাছ থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বজিৎ জানান, তিনি অল্প পুঁজিতে স্বল্প সময়ে কিছু একটা করার কথা ভাবছিলেন। প্রথম দিকে বাড়িতে কয়েকটি ড্রামে এই মাছ চাষ শুরু করেন। সেখানে মাছ বড় হতে থাকে। কয়েক মাস পর বিক্রিও করেন। এরপর গত বছরের মে মাসে পুকুরে বিদেশী জাতের রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন। মাছগুলো আকারে ছোট হলেও বেশ সতেজ ও বাহারি নানা রঙের। গাপ্পি মলি, গোল্ডফিস, কমেন্ট, রেডটিকা, কইকাপ এবং প্লাটি জাতের মাছ রয়েছে। মাছগুলো অনেকে অর্নামেন্ট ফিসও বলে থাকেন।
বিশ^জিৎ আরো জানায়, তার বাবা একজন কৃষক। মাঠে তাদের চাষযোগ্য জমি নেই। তার আরো দুই ভাই ও এক বোন রয়েছে। অভাবের সংসার হলেও বাবা আমাদের লেখাপড়াা শেখাতে কার্পন্য করেননি। আমি মাস্টার্স শেষ করেছি। চাকরীও শুরু করেছিলাম। কিন্তু স্ট্রোক আমার জীবনে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। কিছুটা সুস্থ্য হলে গত বছরের মে মাসে যশোরের চৌগাাছা মাছ ব্যবসায়ী সালমান সর্দারের নিকট থেকে এ মাছ কিনে এনে চাষ শুরু করি। এ পর্যন্ত পরিচর্যা ও মাছ ক্রয় বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি। এরমধ্যে মা মাছগুলো ডিম ছেড়ে রেনু পোনার জন্ম দিচ্ছে। প্রথমমাসেই প্রায় ২০ হাজার টাকার মাাছ বিক্রি করেছিলাম। তার পর বছর ঘুরতেই কমপক্ষে এক লাখ টাকা বিক্রি করি। সৌখিন মানুষেরা যদি তার কাছ থেকে মাছ কেনেন তাহলে সে বেচে থাকার লড়াইয়ে সফল হবে।

কালীগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ হাসান সাজ্জাদ জানান, শিক্ষিত বেকার যুবক বিশ্বজিৎ বাড়িতে একটি পুকুরে রঙিন মাছের চাষ করছেন। তার মাছ চাষ পরিদর্শন করেছি। এলাকায় এ মাছ চাষ অনেকটা নতুন হওয়ায় মৎস অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সহযোাগীতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।