০৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : আউয়াল কমিশনের চ্যালেঞ্জ

মো. আরিফুল ইসলাম

 

  • অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়
  • অবাধ ও নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশ্বাস
  • কমিশনকে একা সিদ্ধান্ত নিয়ে শক্ত অবস্থান নেয়ার পরামর্শ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এ নির্বাচন আয়োজনের আর মাত্র তিন মাসের মতো সময় পাবে কমিশন। সাংবাবিধানিকভাবে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নভেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা হবে। এরই মধ্যে সরগরম হতে শুরু করেছে নির্বাচনি মাঠ। দিন যত ঘনিয়ে আসছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের চ্যালেঞ্জ তত বাড়ছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাড়ছে নানামুখী চাপ। দেশি-বিদেশি শক্তিগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বেশ তৎপর। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। পর্দার আড়ালেও চলছে দৌড়ঝাঁপ। এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে বড় দুই দল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে টানাপড়েন চলছে। নিজেদের দাবি আদায়ে নিয়েছে কঠোর অবস্থান। বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নানামুখি বিপত্তি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ নির্বাচন উপহার দেওয়াই কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এমন অবস্থায় অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচনে যে সংকট রয়েছে সেটা আস্থার সংকট। অবাধ ও নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের (সংসদ নির্বাচন) চ্যালেঞ্জ নিতে চাই। কর্মশালায় সিইসি বলেন, আমরা আগামীতে যে নির্বাচন করতে যাব সেখানে যেন আস্থার সংকট না থাকে। আমরা যারা নির্বাচন পরিচালনা করব, নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আপনারা যারা আছেন আরপিও অনুযায়ী দায়িত্বটা ভালোভাবে নেবেন। যে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে সেই বক্তব্যগুলো মনোনিবেশ সহকারে শ্রবণ ও বোঝার চেষ্টা করবেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনো প্রশ্নের উদ্রেক হলে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। দায়িত্বটা কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। ইসি থেকেও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করব। জানার চেষ্টা করব কে কোথায় কী দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা সে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করব।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র। প্রজাতন্ত্র অর্থ প্রজারা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসন করেন। এই জিনিসটা একটু মাথায় রাখবেন। নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন তর্ক ও বিতর্ক হতে পারে। অতীতেও যে হয়নি তা নয়। অতীতেও হয়েছে। আমরা যদি ৫০, ৬০, ৭০ বছরের ইতিহাসও ঘাঁটি, ব্রিটিশ আমলে যে নির্বাচন হয়েছে তখন কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে… তবে মাত্রাটা কিছু কম ছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমানে যে নির্বাচনটা করতে চাচ্ছি সেটার একটা বিশেষ দিক হচ্ছে অভিযোগ বা বিতর্কের মাত্রাটা অতিরিক্ত। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের চাপটা এসে আমাদের ওপর পড়েছে। কাজেই আমরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি। তবে এগুলো সত্য হতে পারে। আবার মিথ্যাও হতে পারে, সেদিকে যাচ্ছি না। সিইসি বলেন, ক্রেডিবল বলে একটা শব্দ আছে। সব দেশের আইনেও আছে এটা। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বলা হয় নির্বাচন ক্রেডিবল হতে হবে। ক্রেডিবল তখনই হবে যখন আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতা আনতে পারি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে মিডিয়ার কর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রচার করতে পারে। ফ্রি, ফেয়ার একটা কথা বলা হয়। বাজারে যে কথা আছে। আমাদের ওপর, সরকারের ওপর আস্থা নেই। নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না। আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে চাই, আগামীর নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ হবে, একইসঙ্গে স্বচ্ছ হবে। স্বচ্ছতাটা আমরা দেখতে চাইব মিডিয়া এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

এদিকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, এই কমিশন অনেক কাজ করেছে যা তাদের ওপর আস্থা বাড়ানোর চেয়ে সংকট তৈরি করেছে। ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। সেখানে প্রার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের ঘটনায় রাঘববোয়লদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। চুনোপুঁটিদের (নির্বাচন কর্মকর্তা) ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নিলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া আরপিও সংশোধনসহ কয়েকটি পদক্ষেপে তাদের ওপর মানুষের আস্থাহীনতার পাল্লা ভারি হয়েছে। জাতীয় সংকট বাড়ছে। কমিশন আরেকটি একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন।

এর আগে নির্বাচন কমিশনারদের উদ্দেশে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে মালদ্বীপে ভোট হয়েছে, বড় বড় অবজারভার সেখানে ছিল। আপনাদের হাত পা বেঁধে সমুদ্রে ফেলে দেয়া হয়েছে। আপনারা একা সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনো পলিটিক্যাল পার্টির কথা শুনবেন না। অতীত ভুলগুলো শুধরাবেন। তিনি আরও বলেন, আমি বার বার বলছি ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়োগ নিয়ে। ঢাকায় দেখলাম, একটা প্রার্থীকে মারা হলো এটা কীভাবে হলো। পলিটিক্যাল পার্টি সেন্টার পাহারা দেয়। কার ভোটার কে এরা জানে? প্রত্যেক সেন্টারে পাহারা দেয়। এদের শনাক্ত করে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে সংবিধান অনুযায়ী সরকার দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জাপানের রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের জানান, জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রথম বৈঠক এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি জাপানের রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : আউয়াল কমিশনের চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ১০:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০২৩

মো. আরিফুল ইসলাম

 

  • অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়
  • অবাধ ও নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশ্বাস
  • কমিশনকে একা সিদ্ধান্ত নিয়ে শক্ত অবস্থান নেয়ার পরামর্শ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এ নির্বাচন আয়োজনের আর মাত্র তিন মাসের মতো সময় পাবে কমিশন। সাংবাবিধানিকভাবে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নভেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা হবে। এরই মধ্যে সরগরম হতে শুরু করেছে নির্বাচনি মাঠ। দিন যত ঘনিয়ে আসছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের চ্যালেঞ্জ তত বাড়ছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাড়ছে নানামুখী চাপ। দেশি-বিদেশি শক্তিগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বেশ তৎপর। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। পর্দার আড়ালেও চলছে দৌড়ঝাঁপ। এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে বড় দুই দল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে টানাপড়েন চলছে। নিজেদের দাবি আদায়ে নিয়েছে কঠোর অবস্থান। বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নানামুখি বিপত্তি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ নির্বাচন উপহার দেওয়াই কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এমন অবস্থায় অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচনে যে সংকট রয়েছে সেটা আস্থার সংকট। অবাধ ও নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের (সংসদ নির্বাচন) চ্যালেঞ্জ নিতে চাই। কর্মশালায় সিইসি বলেন, আমরা আগামীতে যে নির্বাচন করতে যাব সেখানে যেন আস্থার সংকট না থাকে। আমরা যারা নির্বাচন পরিচালনা করব, নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আপনারা যারা আছেন আরপিও অনুযায়ী দায়িত্বটা ভালোভাবে নেবেন। যে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে সেই বক্তব্যগুলো মনোনিবেশ সহকারে শ্রবণ ও বোঝার চেষ্টা করবেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনো প্রশ্নের উদ্রেক হলে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। দায়িত্বটা কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। ইসি থেকেও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করব। জানার চেষ্টা করব কে কোথায় কী দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা সে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করব।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র। প্রজাতন্ত্র অর্থ প্রজারা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসন করেন। এই জিনিসটা একটু মাথায় রাখবেন। নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন তর্ক ও বিতর্ক হতে পারে। অতীতেও যে হয়নি তা নয়। অতীতেও হয়েছে। আমরা যদি ৫০, ৬০, ৭০ বছরের ইতিহাসও ঘাঁটি, ব্রিটিশ আমলে যে নির্বাচন হয়েছে তখন কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে… তবে মাত্রাটা কিছু কম ছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমানে যে নির্বাচনটা করতে চাচ্ছি সেটার একটা বিশেষ দিক হচ্ছে অভিযোগ বা বিতর্কের মাত্রাটা অতিরিক্ত। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের চাপটা এসে আমাদের ওপর পড়েছে। কাজেই আমরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি। তবে এগুলো সত্য হতে পারে। আবার মিথ্যাও হতে পারে, সেদিকে যাচ্ছি না। সিইসি বলেন, ক্রেডিবল বলে একটা শব্দ আছে। সব দেশের আইনেও আছে এটা। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বলা হয় নির্বাচন ক্রেডিবল হতে হবে। ক্রেডিবল তখনই হবে যখন আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতা আনতে পারি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে মিডিয়ার কর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রচার করতে পারে। ফ্রি, ফেয়ার একটা কথা বলা হয়। বাজারে যে কথা আছে। আমাদের ওপর, সরকারের ওপর আস্থা নেই। নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না। আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে চাই, আগামীর নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ হবে, একইসঙ্গে স্বচ্ছ হবে। স্বচ্ছতাটা আমরা দেখতে চাইব মিডিয়া এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

এদিকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, এই কমিশন অনেক কাজ করেছে যা তাদের ওপর আস্থা বাড়ানোর চেয়ে সংকট তৈরি করেছে। ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। সেখানে প্রার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের ঘটনায় রাঘববোয়লদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। চুনোপুঁটিদের (নির্বাচন কর্মকর্তা) ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নিলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া আরপিও সংশোধনসহ কয়েকটি পদক্ষেপে তাদের ওপর মানুষের আস্থাহীনতার পাল্লা ভারি হয়েছে। জাতীয় সংকট বাড়ছে। কমিশন আরেকটি একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন।

এর আগে নির্বাচন কমিশনারদের উদ্দেশে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে মালদ্বীপে ভোট হয়েছে, বড় বড় অবজারভার সেখানে ছিল। আপনাদের হাত পা বেঁধে সমুদ্রে ফেলে দেয়া হয়েছে। আপনারা একা সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনো পলিটিক্যাল পার্টির কথা শুনবেন না। অতীত ভুলগুলো শুধরাবেন। তিনি আরও বলেন, আমি বার বার বলছি ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়োগ নিয়ে। ঢাকায় দেখলাম, একটা প্রার্থীকে মারা হলো এটা কীভাবে হলো। পলিটিক্যাল পার্টি সেন্টার পাহারা দেয়। কার ভোটার কে এরা জানে? প্রত্যেক সেন্টারে পাহারা দেয়। এদের শনাক্ত করে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে সংবিধান অনুযায়ী সরকার দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জাপানের রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের জানান, জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রথম বৈঠক এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি জাপানের রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।