০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নজর কাড়ছে খুলনার অনন্য নির্মাণ ‘কাঠমান্ডু’

সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে তৈরি তিন তলাবিশিষ্ট ভবনটি দেখতে যেন কাঠের প্রাসাদ। দেশীয় কারুকাজ আর নান্দনিকতায় নির্মিত এ অনন্য ভবনটির মালিক অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ। যা নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।
খুলনা মহানগরের আড়ংঘাটা থানার তেলিগাতী বাইপাস সড়কে দৃষ্টিনন্দন ও ব্যয়বহুল কাঠমান্ডু রেস্টুরেন্ট এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। রাতের আঁধারে বাইরের দৃশ্যকে ফুটিয়ে তুলতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে মরিচবাতির টিস্যুবক্সের আকর্ষণীয় আলোকসজ্জার কাজও করা হয়েছে।
গত বছরের প্রথম দিকে রেস্টুরেন্টটির কাজ শুরু করা হয়। স্থাপনাটি আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে শুরু থেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ১২ জন কাঠমিস্ত্রী, পরবর্তিতে ৬ জন মিস্ত্রী একাধারে প্রায় এক বছর চার মাস যাবত কাজ করে তিন শতাংশ জমির উপর এই কাঠমান্ডু রেস্টুরেন্টটি নির্মাণ করেছেন। এটি কাঠ ও বাঁশ দিয়ে সাদা ও লালের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিরবাড়ী এবং শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের কাঠের তৈরি স্থাপনা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে খানজাহান আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ বিশ্বাস প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয় করে দেশীয় কারুকাজে এই রেস্টুরেন্টটি তৈরি করেন। নান্দনিকতায় নির্মিত রেস্টুরেন্টটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শণার্থীরা এখানে ভিড় করছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর পলিশসহ ফিনিশিং এর কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৬ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় রেস্টুরেন্টটি উদ্বোধন করা হবে।
জানা গেছে, ফুলবাড়ী গেট-তেলিগাতী বাইপাস সড়কের শেষ প্রান্তে কাঠমান্ডু রেস্টুরেন্টটি নির্মাণে স্থানীয় খানজাহান আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ বিশ্বাস প্রায় ২১ লাখ টাকা দিয়ে ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। গত বছরের প্রথম দিকে এই কাঠমান্ডু রেস্টুরেন্টটির স্থাপনার কাজ শুরু করে। প্রায় এক বছর চার মাসের কাজ শেষে এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত ব্যতিক্রমী এই আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন রেস্টুরেন্টটি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। ২৫ ফুট উচ্চতার তিন তলাবিশিষ্ট এই স্থাপনাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ ও বাঁশ এবং এটিকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করতে চালে ব্যবহার করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ক্যাঙ্গার ব্রান্ডের লাটিন। রেস্টুরেন্টটি নির্মাণে ৫০০ সিএফটির বেশি কাঠ, ২০০ এর বেশি বাঁশ ব্যবহৃত হয়েছে। সম্পূর্ণ বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণশৈলী দৃষ্টিনন্দন এ স্থাপনাটির কারুকাজ ও নকশাসহ বিশেষভাবে তৈরিতে কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগর দ্বারা এটি নির্মিত হয়েছে।
ভোজনরসিকদের জন্য শুরুতে এখানে থাকছে খুলনার ঐতিহ্যবাহী চুইঝাঁলের গরুর মাংশ, হাঁসের মাংশ দিয়ে কালাই রুটি, চালের গুড়ার রুটি, কয়লার আগুনে মাটির হাঁড়িতে দেশীয় খাঁটি শরিষার তেল দিয়ে বিহারী মাটন হান্ডি, বিপ, ফাস্টফুড, হালিমসহ ভোজনবিলাসীদের জন্য থাকছে বাহারী খাবারের সমারহ। রেস্টুরেন্টটি উদ্বোধনের পর বাণিজ্যিকভাবে এটি চালু করা হবে।
কাঠমান্ডু রেস্টুরেন্টটির মালিক অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ বিশ্বাস জানান, বড়বড় কবি, সাহিত্যিকদের কাঠের তৈরি স্থাপনা দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যটকরা ভিড় জমায়। চেষ্টা করেছি তাদের সেই কাঠের তৈরি স্থাপনা করে সকলের নজরকাড়ার। অভ্যন্তরীণ কাজের আকর্ষণীয়তা শেষে রাতের আঁধারে দৃষ্টিনন্দন করতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে স্থানীয়ভাবে করা হয়েছে বিশেষ আলোকসজ্জা।
অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ জানান, নিজের ডিজাইনে নির্মিত স্থাপনাটি নির্মাণের এক পর্যায়ে আর্থিক সমস্যার কারণে যখন থেকে যায়। তখন বন্ধু হিসেবে কাছে দাঁড়ায় জনতা ব্যাংক কুয়েট শাখার ইনচার্জ মো. আব্দুল হামিদ শেখসহ কিছু গুণী ব্যক্তি। তাদের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হলে কাজটি আমার মনের মতো করে সম্পন্ন করি। রেস্টুরেন্টটিতে এক সঙ্গে ১৫০ জন সেবা গ্রহণ করতে পারবে। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যায় জমকালো উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে এটির বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হবে।

 

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল

নজর কাড়ছে খুলনার অনন্য নির্মাণ ‘কাঠমান্ডু’

আপডেট সময় : ১০:২০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩

সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে তৈরি তিন তলাবিশিষ্ট ভবনটি দেখতে যেন কাঠের প্রাসাদ। দেশীয় কারুকাজ আর নান্দনিকতায় নির্মিত এ অনন্য ভবনটির মালিক অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ। যা নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।
খুলনা মহানগরের আড়ংঘাটা থানার তেলিগাতী বাইপাস সড়কে দৃষ্টিনন্দন ও ব্যয়বহুল কাঠমান্ডু রেস্টুরেন্ট এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। রাতের আঁধারে বাইরের দৃশ্যকে ফুটিয়ে তুলতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে মরিচবাতির টিস্যুবক্সের আকর্ষণীয় আলোকসজ্জার কাজও করা হয়েছে।
গত বছরের প্রথম দিকে রেস্টুরেন্টটির কাজ শুরু করা হয়। স্থাপনাটি আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে শুরু থেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ১২ জন কাঠমিস্ত্রী, পরবর্তিতে ৬ জন মিস্ত্রী একাধারে প্রায় এক বছর চার মাস যাবত কাজ করে তিন শতাংশ জমির উপর এই কাঠমান্ডু রেস্টুরেন্টটি নির্মাণ করেছেন। এটি কাঠ ও বাঁশ দিয়ে সাদা ও লালের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিরবাড়ী এবং শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের কাঠের তৈরি স্থাপনা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে খানজাহান আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ বিশ্বাস প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয় করে দেশীয় কারুকাজে এই রেস্টুরেন্টটি তৈরি করেন। নান্দনিকতায় নির্মিত রেস্টুরেন্টটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শণার্থীরা এখানে ভিড় করছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর পলিশসহ ফিনিশিং এর কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৬ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় রেস্টুরেন্টটি উদ্বোধন করা হবে।
জানা গেছে, ফুলবাড়ী গেট-তেলিগাতী বাইপাস সড়কের শেষ প্রান্তে কাঠমান্ডু রেস্টুরেন্টটি নির্মাণে স্থানীয় খানজাহান আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ বিশ্বাস প্রায় ২১ লাখ টাকা দিয়ে ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। গত বছরের প্রথম দিকে এই কাঠমান্ডু রেস্টুরেন্টটির স্থাপনার কাজ শুরু করে। প্রায় এক বছর চার মাসের কাজ শেষে এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত ব্যতিক্রমী এই আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন রেস্টুরেন্টটি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। ২৫ ফুট উচ্চতার তিন তলাবিশিষ্ট এই স্থাপনাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ ও বাঁশ এবং এটিকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করতে চালে ব্যবহার করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ক্যাঙ্গার ব্রান্ডের লাটিন। রেস্টুরেন্টটি নির্মাণে ৫০০ সিএফটির বেশি কাঠ, ২০০ এর বেশি বাঁশ ব্যবহৃত হয়েছে। সম্পূর্ণ বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণশৈলী দৃষ্টিনন্দন এ স্থাপনাটির কারুকাজ ও নকশাসহ বিশেষভাবে তৈরিতে কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগর দ্বারা এটি নির্মিত হয়েছে।
ভোজনরসিকদের জন্য শুরুতে এখানে থাকছে খুলনার ঐতিহ্যবাহী চুইঝাঁলের গরুর মাংশ, হাঁসের মাংশ দিয়ে কালাই রুটি, চালের গুড়ার রুটি, কয়লার আগুনে মাটির হাঁড়িতে দেশীয় খাঁটি শরিষার তেল দিয়ে বিহারী মাটন হান্ডি, বিপ, ফাস্টফুড, হালিমসহ ভোজনবিলাসীদের জন্য থাকছে বাহারী খাবারের সমারহ। রেস্টুরেন্টটি উদ্বোধনের পর বাণিজ্যিকভাবে এটি চালু করা হবে।
কাঠমান্ডু রেস্টুরেন্টটির মালিক অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ বিশ্বাস জানান, বড়বড় কবি, সাহিত্যিকদের কাঠের তৈরি স্থাপনা দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যটকরা ভিড় জমায়। চেষ্টা করেছি তাদের সেই কাঠের তৈরি স্থাপনা করে সকলের নজরকাড়ার। অভ্যন্তরীণ কাজের আকর্ষণীয়তা শেষে রাতের আঁধারে দৃষ্টিনন্দন করতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে স্থানীয়ভাবে করা হয়েছে বিশেষ আলোকসজ্জা।
অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ জানান, নিজের ডিজাইনে নির্মিত স্থাপনাটি নির্মাণের এক পর্যায়ে আর্থিক সমস্যার কারণে যখন থেকে যায়। তখন বন্ধু হিসেবে কাছে দাঁড়ায় জনতা ব্যাংক কুয়েট শাখার ইনচার্জ মো. আব্দুল হামিদ শেখসহ কিছু গুণী ব্যক্তি। তাদের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হলে কাজটি আমার মনের মতো করে সম্পন্ন করি। রেস্টুরেন্টটিতে এক সঙ্গে ১৫০ জন সেবা গ্রহণ করতে পারবে। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যায় জমকালো উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে এটির বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হবে।