রিপোর্টার :
রংপুর প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় এক বৃদ্ধকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ছোট মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার প্রায় আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করেছে পুলিশ।সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে তৈয়ব আলী সরকারের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলেও উন্নত পরীক্ষার প্রয়োজন হওয়ায় বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে মরদেহটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।নিহত তৈয়ব আলী সরকারের বাড়ি উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামে। গত ২৩ জুন তার বড় মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিরা হলেন—রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, তার স্বামী হামিদুল ইসলাম এবং নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সোহাগ মিয়া।মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তৈয়ব আলীর নামে ইসলামী ব্যাংকের নলডাঙ্গা শাখায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ছোট মেয়ে রহিমা বেগম বাবার চেকবই চুরি করেন। বিষয়টি টের পেয়ে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি তৈয়ব আলী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে চেকবই হারানোর বিষয়টি জানান এবং তার হিসাবে সন্দেহজনক কোনো লেনদেন না করার অনুরোধ করেন।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১৪ মার্চ চিকিৎসার কথা বলে রহিমা তার অসুস্থ বাবাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বড় মেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে রহিমা তাতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বাদীপক্ষের দাবি, পরে আসামিরা যোগসাজশ করে জোরপূর্বক তৈয়ব আলীর স্বাক্ষর নিয়ে দুটি চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে মোট ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করেন। অভিযোগে বলা হয়, অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত ১৯ মে রাতে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ওসি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, "ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"