০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুর রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা: মাতৃজ্ঞানে নারী উপলব্ধির মহামুহূর্ত

শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে ভক্তদের আবেগ আর শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দিনাজপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শতবর্ষ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। ভক্ত-শিষ্য ও পূণ্যার্থীদের ঢল নামে আশ্রম প্রাঙ্গণে।

কুমারী পূজায় এ বছর দেবীরূপে পূজিত হন শহরের মেডিকেল কলেজ মোড় এলাকার ৬ বছর বয়সী শিশুকন্যা মধুশ্রী গাঙ্গুলী। জন্মদিনের দিনেই দেবীরূপে পূজা করায় আবেগে আপ্লুত মধুশ্রীর মা বলেন, “এটি আমাদের পরিবারের জন্য আশীর্বাদ ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত।”

পূজার আগে মধুশ্রীকে স্নান করিয়ে পরানো হয় নতুন বস্ত্র, সোনালি অলংকার, সিঁথিতে সিঁদুর আর পায়ে আলতা। ঢাক-ঢোলের বাজনা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধুর ধ্বনিতে তাকে বসানো হয় পূজার বেদীতে। পরিবেশ তখন ভক্তিময় আবেগে ভরে ওঠে।

পূজা পরিচালনা করেন রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী বিভাত্মানন্দ। তিনি বলেন, “কুমারী পূজার আসল মাহাত্ম্য হলো নিজের ভেতরের অসুর মনোভাব দূর করে মাতৃজ্ঞানে নারীকে উপলব্ধি করা।”

হিন্দু শাস্ত্রমতে, ১ থেকে ৭-৮ বছর বয়সী অজাতপুষ্পা ও অবিবাহিত কুমারীকেই দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রী রামকৃষ্ণের কথামৃতেও উল্লেখ আছে, “শুদ্ধাত্মা কুমারীতেই ভগবতীর রূপ সর্বাধিক প্রকাশ পায়।”

দিনাজপুরের কুমারী পূজার এ দৃশ্য ভক্ত-শিষ্যদের মনে নতুন করে জাগিয়ে তোলে মায়ের শক্তি, করুণা ও মাতৃজ্ঞানের বোধ।

এমআর/সবা

দিনাজপুর রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা: মাতৃজ্ঞানে নারী উপলব্ধির মহামুহূর্ত

আপডেট সময় : ০৫:১১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে ভক্তদের আবেগ আর শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দিনাজপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শতবর্ষ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। ভক্ত-শিষ্য ও পূণ্যার্থীদের ঢল নামে আশ্রম প্রাঙ্গণে।

কুমারী পূজায় এ বছর দেবীরূপে পূজিত হন শহরের মেডিকেল কলেজ মোড় এলাকার ৬ বছর বয়সী শিশুকন্যা মধুশ্রী গাঙ্গুলী। জন্মদিনের দিনেই দেবীরূপে পূজা করায় আবেগে আপ্লুত মধুশ্রীর মা বলেন, “এটি আমাদের পরিবারের জন্য আশীর্বাদ ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত।”

পূজার আগে মধুশ্রীকে স্নান করিয়ে পরানো হয় নতুন বস্ত্র, সোনালি অলংকার, সিঁথিতে সিঁদুর আর পায়ে আলতা। ঢাক-ঢোলের বাজনা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধুর ধ্বনিতে তাকে বসানো হয় পূজার বেদীতে। পরিবেশ তখন ভক্তিময় আবেগে ভরে ওঠে।

পূজা পরিচালনা করেন রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী বিভাত্মানন্দ। তিনি বলেন, “কুমারী পূজার আসল মাহাত্ম্য হলো নিজের ভেতরের অসুর মনোভাব দূর করে মাতৃজ্ঞানে নারীকে উপলব্ধি করা।”

হিন্দু শাস্ত্রমতে, ১ থেকে ৭-৮ বছর বয়সী অজাতপুষ্পা ও অবিবাহিত কুমারীকেই দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রী রামকৃষ্ণের কথামৃতেও উল্লেখ আছে, “শুদ্ধাত্মা কুমারীতেই ভগবতীর রূপ সর্বাধিক প্রকাশ পায়।”

দিনাজপুরের কুমারী পূজার এ দৃশ্য ভক্ত-শিষ্যদের মনে নতুন করে জাগিয়ে তোলে মায়ের শক্তি, করুণা ও মাতৃজ্ঞানের বোধ।

এমআর/সবা