০৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কূটনীতিতে শক্ত অবস্থানে দেশ

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১১:১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩
  • 122

বাংলাদেশ জন্মের পরপরই বঙ্গবন্ধু কূটনীতির নীতি নির্ধারণ করেন ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’ পররাষ্ট্রের এই নীতি গত ৫২ বছরে কূটনীতিকরা সাফল্যের সঙ্গে ধরে রেখেছেন।

 

তাসকিনা ইয়াসমিন
স্বাধীনতার ৫২ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কূটনীতির ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য এসেছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করা দেশটি এখন বিশে^ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য রেখে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশটির দক্ষ জনশক্তি এবং রাজনৈতিক নেতাদের দূরদর্শিতা এদেশকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশ দিন দিন অর্থনৈতিকভাবে খুব ভালো করছে। এ দেশের প্রবাসী নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া রেমিট্যান্স, গার্মেন্টস খাত থেকে আসা আয় এ দেশের অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছে। কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ খুব ভাল করছে। বাংলাদেশ জন্মের পরপরই বঙ্গবন্ধু কূটনীতির নীতি নিধারণ করেন ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’ পররাষ্ট্রের এই নীতি গত ৫২ বছরে কূটনীতিকরা সাফল্যের সঙ্গে ধরে রেখেছেন। যে কারণে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পথ পাড়ি দিয়ে উন্নত দেশের কাতারে যোগ দিতে এগিয়ে চলেছে। গত ৫২ বছরে বাংলাদেশের কূটনীতির পাল্লা দিনে দিনে ভারি হচ্ছে।
বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও ভুটান স্বীকৃতি দেয়। এরপর চীন, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ প্রথম দশকেই স্বীকৃতি দেয়। বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের কূটনীতিতে অনেকগুলো সাফল্যের পালক যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন (এমডিজি) অর্জন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত বিরোধ নিরোধসহ একাধিক অমীমাংসিত ইস্যুর নিষ্পত্তি করেছে। একাধিক বৈশি^ক ফোরামে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে, চীন-জাপানসহ একাধিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে এবং সর্বশেষ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তীর্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের ৬০টি দেশে বাংলাদেশের ৮১টি কূটনৈতিক মিশন চালু রয়েছে। আর বাংলাদেশে ৫২টি বিদেশি দূতাবাস আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
তবে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সাফল্য পেলেও এর কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণে নিজ দেশে ফিরতে পারছে না এমনটিই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে শরনার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা ভীষণ মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বন্ধু দেশকে কাছে পায়নি যারা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে সহযোগিতা করছে। প্রায়ই বাংলাদেশের কোনো না কোনো নাগরিক প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে সীমান্তরক্ষীর গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে। যা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রায়ই দেখা যায় বিশে^র বিভিন্ন দেশে অবৈধ নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশিরা সনাক্ত হচ্ছে। নির্ধারিত পাসপোর্ট এবং ভিসা না থাকার কারণে তাদের জরিমানা এবং জেল হচ্ছে। যা দেশের জন্য ভীষণ লজ্জাজনক। দালালের খপ্পরে বহু বাংলাদেশি নীল সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঢোকার চেষ্টা করছে এতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। কোনো কোনো দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে তথাকথিত জঙ্গীবাদের তকমা উঠছে কোনো কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উপর। যা ঐ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি করছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে দেশের মানুষের মধ্যে সীমান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক আইন সম্পর্কে জানাটা বেশি জরুরি বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেনের মতে, সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের কূটনীতি বেশ কিছু হতাশা আর সমস্যাও মোকাবিলা করেছে। কেননা এ সময়ে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক সত্ত্বেও সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি এবং পানি বণ্টনের স্থায়ী সুরাহা এখনো হয়নি। অন্যদিকে ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং আসামের নাগরিকপঞ্জি বাংলাদেশের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

 

কূটনীতিতে শক্ত অবস্থানে দেশ

আপডেট সময় : ১১:১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩

বাংলাদেশ জন্মের পরপরই বঙ্গবন্ধু কূটনীতির নীতি নির্ধারণ করেন ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’ পররাষ্ট্রের এই নীতি গত ৫২ বছরে কূটনীতিকরা সাফল্যের সঙ্গে ধরে রেখেছেন।

 

তাসকিনা ইয়াসমিন
স্বাধীনতার ৫২ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কূটনীতির ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য এসেছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করা দেশটি এখন বিশে^ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য রেখে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশটির দক্ষ জনশক্তি এবং রাজনৈতিক নেতাদের দূরদর্শিতা এদেশকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশ দিন দিন অর্থনৈতিকভাবে খুব ভালো করছে। এ দেশের প্রবাসী নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া রেমিট্যান্স, গার্মেন্টস খাত থেকে আসা আয় এ দেশের অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছে। কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ খুব ভাল করছে। বাংলাদেশ জন্মের পরপরই বঙ্গবন্ধু কূটনীতির নীতি নিধারণ করেন ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’ পররাষ্ট্রের এই নীতি গত ৫২ বছরে কূটনীতিকরা সাফল্যের সঙ্গে ধরে রেখেছেন। যে কারণে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পথ পাড়ি দিয়ে উন্নত দেশের কাতারে যোগ দিতে এগিয়ে চলেছে। গত ৫২ বছরে বাংলাদেশের কূটনীতির পাল্লা দিনে দিনে ভারি হচ্ছে।
বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও ভুটান স্বীকৃতি দেয়। এরপর চীন, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ প্রথম দশকেই স্বীকৃতি দেয়। বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের কূটনীতিতে অনেকগুলো সাফল্যের পালক যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন (এমডিজি) অর্জন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত বিরোধ নিরোধসহ একাধিক অমীমাংসিত ইস্যুর নিষ্পত্তি করেছে। একাধিক বৈশি^ক ফোরামে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে, চীন-জাপানসহ একাধিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে এবং সর্বশেষ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তীর্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের ৬০টি দেশে বাংলাদেশের ৮১টি কূটনৈতিক মিশন চালু রয়েছে। আর বাংলাদেশে ৫২টি বিদেশি দূতাবাস আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
তবে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সাফল্য পেলেও এর কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণে নিজ দেশে ফিরতে পারছে না এমনটিই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে শরনার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা ভীষণ মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বন্ধু দেশকে কাছে পায়নি যারা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে সহযোগিতা করছে। প্রায়ই বাংলাদেশের কোনো না কোনো নাগরিক প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে সীমান্তরক্ষীর গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে। যা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রায়ই দেখা যায় বিশে^র বিভিন্ন দেশে অবৈধ নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশিরা সনাক্ত হচ্ছে। নির্ধারিত পাসপোর্ট এবং ভিসা না থাকার কারণে তাদের জরিমানা এবং জেল হচ্ছে। যা দেশের জন্য ভীষণ লজ্জাজনক। দালালের খপ্পরে বহু বাংলাদেশি নীল সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঢোকার চেষ্টা করছে এতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। কোনো কোনো দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে তথাকথিত জঙ্গীবাদের তকমা উঠছে কোনো কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উপর। যা ঐ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি করছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে দেশের মানুষের মধ্যে সীমান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক আইন সম্পর্কে জানাটা বেশি জরুরি বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেনের মতে, সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের কূটনীতি বেশ কিছু হতাশা আর সমস্যাও মোকাবিলা করেছে। কেননা এ সময়ে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক সত্ত্বেও সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি এবং পানি বণ্টনের স্থায়ী সুরাহা এখনো হয়নি। অন্যদিকে ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং আসামের নাগরিকপঞ্জি বাংলাদেশের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।