০৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শেকলে বেঁধে রেখে তরুণীকে ধর্ষণ

গ্রেপ্তার চারজন রিমান্ডে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় শেকলে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় চার আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামিরা হলেন সান, হিমেল, রকি ও সালমা ওরফে ঝুমুর। গতকাল সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুকুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় শেকলে বেঁধে রেখে ২৫ দিন ধরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এক তরুণীকে। নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণের অভিযোগে গত ৩১ মার্চ রাতে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণী।

 

 

এর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিংয়ের একটি ভবন থেকে শেকলবন্দি অবস্থায় এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর ফোনকলে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে ব্যারিস্টার মাসুদ নামের এক আইনজীবীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাসুদের অনুপস্থিতিতে সান নামের এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোয় ক্ষিপ্ত হয় মাসুদ। প্রতিশোধ নিতে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সান ও তার বন্ধুদের দিয়ে ভুক্তভোগী তরুণীকে শেকলে বেঁধে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়। এতে সহযোগিতা করেন মোছা. সালমা ওরফে ঝুমুর নামের এক নারী। তিনি নির্যাতন ও বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও ধারণ করে ব্যারিস্টার মাসুদের কাছে পাঠাতেন। ২৩ বছর বয়সি এ তরুণীকে বন্দি অবস্থায় ধর্ষণ, নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- ভুক্তভোগী তরুণীর বর্তমান প্রেমিক সান ও তার দুই বন্ধু হিমেল, রকি এবং সালমা ওরফে ঝুমুর। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীর নিজ কার্যালয়ে এ কথা বলেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক।

 

তিনি বলেন, বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ এবং পরে তারা অন্যত্র বিয়ে করায় ভুক্তভোগী তরুণী তার বড় বোনের বাসায় থাকতেন। সে সময় ভগ্নিপতির মাধ্যমে ব্যারিস্টার মাসুদ নামের এক আইনজীবী সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। মাসুদের সঙ্গে লিভ-টুগেদার করতেন ওই তরুণী। মাসুদ বেশিরভাগ সময় বিদেশে থাকতেন। সে দেশে এলে ওই তরুণীর সঙ্গে থাকতেন। পরে মাসুদের মাধ্যমে এক প্রবাসীর স্ত্রী সালমা ওরফে ঝুমুরের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। একপর্যায়ে সালমার সঙ্গে মোহাম্মদপুরের নবীনগরের ভাড়া ফ্ল্যাটে ওঠেন ওই তরুণী। যার সব খরচ বহন করতেন মাসুদ। পরে ঝুমুরের মাধ্যমে সান নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মাসুদ। পরবর্তীতে মাসুদ ভুক্তভোগী তরুণীকে শায়েস্তা করতে তার বর্তমান প্রেমিক সানের সঙ্গে হাত মেলায়। সালমাকে দিয়ে তাদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মাসুদের নির্দেশনায় কাজ করায়। তরুণীর রুমে বসানো হয় গোপন ক্যামেরা। বিভিন্ন সময় সান ও তার বন্ধু হিমেল ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার দৃশ্য গোপনে ধারণ করে পাঠানো হতো মাসুদের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবে ভিডিও পাঠাতেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী তরুণী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বলেন, ভুক্তভোগী তরুণীকে নির্যাতনের বেশিরভাগ ভিডিও ও ছবি সালমার মোবাইলে ধারণ করা হয়। কিন্তু সেই মোবাইলটি লুকিয়ে ফেলা হয়েছে। মোবাইলটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় গত ৩১ মার্চ রাতভর টানা অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শেকলে বেঁধে রেখে তরুণীকে ধর্ষণ

আপডেট সময় : ০৫:২৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় শেকলে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় চার আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামিরা হলেন সান, হিমেল, রকি ও সালমা ওরফে ঝুমুর। গতকাল সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুকুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় শেকলে বেঁধে রেখে ২৫ দিন ধরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এক তরুণীকে। নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণের অভিযোগে গত ৩১ মার্চ রাতে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণী।

 

 

এর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিংয়ের একটি ভবন থেকে শেকলবন্দি অবস্থায় এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর ফোনকলে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে ব্যারিস্টার মাসুদ নামের এক আইনজীবীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাসুদের অনুপস্থিতিতে সান নামের এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোয় ক্ষিপ্ত হয় মাসুদ। প্রতিশোধ নিতে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সান ও তার বন্ধুদের দিয়ে ভুক্তভোগী তরুণীকে শেকলে বেঁধে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়। এতে সহযোগিতা করেন মোছা. সালমা ওরফে ঝুমুর নামের এক নারী। তিনি নির্যাতন ও বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও ধারণ করে ব্যারিস্টার মাসুদের কাছে পাঠাতেন। ২৩ বছর বয়সি এ তরুণীকে বন্দি অবস্থায় ধর্ষণ, নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- ভুক্তভোগী তরুণীর বর্তমান প্রেমিক সান ও তার দুই বন্ধু হিমেল, রকি এবং সালমা ওরফে ঝুমুর। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীর নিজ কার্যালয়ে এ কথা বলেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক।

 

তিনি বলেন, বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ এবং পরে তারা অন্যত্র বিয়ে করায় ভুক্তভোগী তরুণী তার বড় বোনের বাসায় থাকতেন। সে সময় ভগ্নিপতির মাধ্যমে ব্যারিস্টার মাসুদ নামের এক আইনজীবী সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। মাসুদের সঙ্গে লিভ-টুগেদার করতেন ওই তরুণী। মাসুদ বেশিরভাগ সময় বিদেশে থাকতেন। সে দেশে এলে ওই তরুণীর সঙ্গে থাকতেন। পরে মাসুদের মাধ্যমে এক প্রবাসীর স্ত্রী সালমা ওরফে ঝুমুরের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। একপর্যায়ে সালমার সঙ্গে মোহাম্মদপুরের নবীনগরের ভাড়া ফ্ল্যাটে ওঠেন ওই তরুণী। যার সব খরচ বহন করতেন মাসুদ। পরে ঝুমুরের মাধ্যমে সান নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মাসুদ। পরবর্তীতে মাসুদ ভুক্তভোগী তরুণীকে শায়েস্তা করতে তার বর্তমান প্রেমিক সানের সঙ্গে হাত মেলায়। সালমাকে দিয়ে তাদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মাসুদের নির্দেশনায় কাজ করায়। তরুণীর রুমে বসানো হয় গোপন ক্যামেরা। বিভিন্ন সময় সান ও তার বন্ধু হিমেল ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার দৃশ্য গোপনে ধারণ করে পাঠানো হতো মাসুদের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবে ভিডিও পাঠাতেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী তরুণী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বলেন, ভুক্তভোগী তরুণীকে নির্যাতনের বেশিরভাগ ভিডিও ও ছবি সালমার মোবাইলে ধারণ করা হয়। কিন্তু সেই মোবাইলটি লুকিয়ে ফেলা হয়েছে। মোবাইলটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় গত ৩১ মার্চ রাতভর টানা অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।