০৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাশ এর দানকৃত মরদেহ হস্তান্তর

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধা কুমিল্লা নিবাসী শিব নারায়ণ দাশ (৭৫)-এর দানকৃত মরদেহ আজ রবিবার ২১ এপ্রিল ২০২৪ইং তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক-এর উপস্থিতিতে এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানুর কাছে হস্তান্তর করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাশ-এর মরদেহটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগে সংরক্ষণ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের আবেদনপত্রটি বিভাগীয় চেয়ারম্যানের  কাছে প্রদান করা হয়। মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক এর সদয় অনুমতি এবং উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এনাটমি বিভাগের প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব এন্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সে সম্পন্ন করা হয়। মরদেহের এমবামিং প্রক্রিয়ার প্রারম্ভে এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানুর পরিচালনায় এবং এনাটমি বিভাগের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও রেসিডেন্টের অংশগ্রহণে মরদেহের যথোচিত সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য শপথ গ্রহণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক আজ রবিবার প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব এন্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সে পৌঁছালে এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান ও জেনেটিক্স এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিষয়ক অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানুর উক্ত ল্যাবের কার্যক্রম তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব দেশে বিদেশে  গবেষণার ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তা তুলে ধরেন। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন কিডনী, হার্ট, লিভার, ব্রেন, হাড়সহ মানবদেহের নানা বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তা তুলে ধরা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক এই ধরণের মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা এবং মরণোত্তর দেহ দানকারীর ছেলে অর্ণব আদিত্য দাশসহ পরিবারের সকলকে এই ত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের সকল মানুষের প্রতি এই রকম মহতী কাজে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান। মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম ও মূল নকশাকার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধা কুমিল্লা নিবাসী শিব নারায়ণ দাশ তার চোখের দু’টি কর্ণিয়া দান করে গেছেন। ইতিমধ্যে সেই কর্ণিয়া দিয়ে দুই জন মানুষের চোখে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তিনি একজন মহান ব্যক্তিত্ব। তাঁর এই দানে আমি অভিভূত ও গর্বিত এবং সম্মানিত বোধ করছি। তাঁর মরদেহ প্ল্যাস্টিনেশন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাশের এই দেহ দানের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ জন বিদেশী ছাত্রছাত্রীসহ ৪ হাজার ৮ শত ৭ জন চিকিৎসা পেশায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী ছাত্রছাত্রী প্রশিক্ষণ গ্রহণের ক্ষেত্রে উপকৃত হবেন। তিনি মরণোত্তর দেহদানের মাধ্যমে মহত্বের অন্যন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন।

এ সময় জাসদ নেত্রী জনাব শিরীন আখতার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল, এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান ও জেনেটিক্স এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিষয়ক অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু, অধ্যাপক ডা. নাহিদ ফারহানা আমিন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. লতিফা নিশাত, ডা. শাফিনাজ গাজী, সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন আক্তার সুমি, ডা. মোঃ মহিউদ্দীন মাসুম, স্বর্গীয় শিব নারায়ণ দাশ-এর সহধর্মিনী গীতশ্রী চৌধুরী, পুত্র অর্ণব আদিত্য দাশ প্রমুখসহ এনাটমি বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান ও জেনেটিক্স এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিষয়ক অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু বলেন, ইতিমধ্যে ১৫০জন মানুষ মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করেছেন। মানুষ যেভাবে সাড়া দিচ্ছেন প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব এন্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সটি একটি আন্তর্জাতিক মানের সমৃদ্ধ ল্যাবে শীঘ্রই উন্নীত হবে।

অর্ণব আদিত্য বলেন, আমার বাবা শিব নারায়ণ দাশ আজীবন জ্ঞান অর্জনসহ দেশকে শিক্ষণীয় বিষয়ে সমৃদ্ধ দেখতে চেয়েছেন। সে লক্ষেই তিনি তাঁর জীবন দান করে গেছেন। আমি ও আমার মাও মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছি। আপনারা সবাই আমাদেরকে আশীর্বাদ করবেন।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমিল্লা নিবাসী শিব নারায়ণ দাশ গত ২১ এপ্রিল ২০২৪ইং তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন।
ছবি: মোঃ সোহেল গাজী। নিউজ: প্রশান্ত মজুমদার।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাশ এর দানকৃত মরদেহ হস্তান্তর

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধা কুমিল্লা নিবাসী শিব নারায়ণ দাশ (৭৫)-এর দানকৃত মরদেহ আজ রবিবার ২১ এপ্রিল ২০২৪ইং তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক-এর উপস্থিতিতে এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানুর কাছে হস্তান্তর করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাশ-এর মরদেহটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগে সংরক্ষণ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের আবেদনপত্রটি বিভাগীয় চেয়ারম্যানের  কাছে প্রদান করা হয়। মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক এর সদয় অনুমতি এবং উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এনাটমি বিভাগের প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব এন্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সে সম্পন্ন করা হয়। মরদেহের এমবামিং প্রক্রিয়ার প্রারম্ভে এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানুর পরিচালনায় এবং এনাটমি বিভাগের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও রেসিডেন্টের অংশগ্রহণে মরদেহের যথোচিত সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য শপথ গ্রহণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক আজ রবিবার প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব এন্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সে পৌঁছালে এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান ও জেনেটিক্স এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিষয়ক অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানুর উক্ত ল্যাবের কার্যক্রম তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব দেশে বিদেশে  গবেষণার ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তা তুলে ধরেন। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন কিডনী, হার্ট, লিভার, ব্রেন, হাড়সহ মানবদেহের নানা বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তা তুলে ধরা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক এই ধরণের মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা এবং মরণোত্তর দেহ দানকারীর ছেলে অর্ণব আদিত্য দাশসহ পরিবারের সকলকে এই ত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের সকল মানুষের প্রতি এই রকম মহতী কাজে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান। মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম ও মূল নকশাকার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধা কুমিল্লা নিবাসী শিব নারায়ণ দাশ তার চোখের দু’টি কর্ণিয়া দান করে গেছেন। ইতিমধ্যে সেই কর্ণিয়া দিয়ে দুই জন মানুষের চোখে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তিনি একজন মহান ব্যক্তিত্ব। তাঁর এই দানে আমি অভিভূত ও গর্বিত এবং সম্মানিত বোধ করছি। তাঁর মরদেহ প্ল্যাস্টিনেশন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাশের এই দেহ দানের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ জন বিদেশী ছাত্রছাত্রীসহ ৪ হাজার ৮ শত ৭ জন চিকিৎসা পেশায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী ছাত্রছাত্রী প্রশিক্ষণ গ্রহণের ক্ষেত্রে উপকৃত হবেন। তিনি মরণোত্তর দেহদানের মাধ্যমে মহত্বের অন্যন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন।

এ সময় জাসদ নেত্রী জনাব শিরীন আখতার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল, এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান ও জেনেটিক্স এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিষয়ক অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু, অধ্যাপক ডা. নাহিদ ফারহানা আমিন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. লতিফা নিশাত, ডা. শাফিনাজ গাজী, সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন আক্তার সুমি, ডা. মোঃ মহিউদ্দীন মাসুম, স্বর্গীয় শিব নারায়ণ দাশ-এর সহধর্মিনী গীতশ্রী চৌধুরী, পুত্র অর্ণব আদিত্য দাশ প্রমুখসহ এনাটমি বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান ও জেনেটিক্স এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিষয়ক অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু বলেন, ইতিমধ্যে ১৫০জন মানুষ মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করেছেন। মানুষ যেভাবে সাড়া দিচ্ছেন প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব এন্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সটি একটি আন্তর্জাতিক মানের সমৃদ্ধ ল্যাবে শীঘ্রই উন্নীত হবে।

অর্ণব আদিত্য বলেন, আমার বাবা শিব নারায়ণ দাশ আজীবন জ্ঞান অর্জনসহ দেশকে শিক্ষণীয় বিষয়ে সমৃদ্ধ দেখতে চেয়েছেন। সে লক্ষেই তিনি তাঁর জীবন দান করে গেছেন। আমি ও আমার মাও মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছি। আপনারা সবাই আমাদেরকে আশীর্বাদ করবেন।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমিল্লা নিবাসী শিব নারায়ণ দাশ গত ২১ এপ্রিল ২০২৪ইং তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন।
ছবি: মোঃ সোহেল গাজী। নিউজ: প্রশান্ত মজুমদার।