নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী স্কুলে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ভান্ডারপুর আলফা কেজি (কিন্ডারগার্টেন) স্কুলে ঘটনাটি ঘটে। সেদিন টানা বর্ষণের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলেও পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসে। ওই সময় স্কুলে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দিপু একাই উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। এ সুযোগে তিনি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি ফিরে শিক্ষার্থী ঘটনাটি তার অভিভাবকদের জানায়। পরে তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে এলাকায় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে।
এর জের ধরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা স্কুলের অফিসকক্ষে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় তাকে সতর্ক করা হলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি বলে তারা অভিযোগ করেন।
এছাড়া, স্থানীয়দের অভিযোগ, কোলা ইউনিয়নের কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অর্থের বিনিময়ে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করা এবং কাবিননামাসহ বিভিন্ন নথিতে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, "এ ধরনের ব্যক্তি শিক্ষকতার মতো পেশায় থাকার যোগ্য নন। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, "ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দিপুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি কোলা ইউনিয়নের লালুহা গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া তাকে আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে এ পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।