ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ কারণে চুক্তি সংশ্লিষ্ট সাবেক মুখ্যসচিব ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে চলমান অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানের সঙ্গে আদানি চুক্তির অনিয়মের বিষয়টি যুক্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানান দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ড. আহমদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে ‘আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ’ যুক্ত করে অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে কমিশন।
গত বছরের ৩০ এপ্রিল বিদ্যুৎ আমদানিতে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের করা চুক্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পাশ কাটিয়ে শুল্ক ও কর অব্যাহতির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ফাঁকির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস-চুক্তির সময় যিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব ছিলেন- এবং তার নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নথিপত্রও তলব করা হয়। এদিকে, আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংস্থাটির তদন্তে চুক্তির সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাশ কাটিয়ে শুল্ক ও কর অব্যাহতি দেওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
২০২৩ সালের ৯ মার্চ ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় স্থাপিত আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। এরপর থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের বিপরীতে শুল্কসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তদন্তে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ প্রবেশ ও সঞ্চালনের ক্ষেত্রে আমদানির যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিলের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি না করার প্রমাণও মিলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর ফাঁকির বিপুল অর্থ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশ করেছে এনবিআরের তদন্ত কমিটি।
আদানি থেকে বিদ্যুৎ কেনার আলোচিত এ চুক্তিতে শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো কীভাবে সম্পাদন করা হয়েছে, এতে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, শুল্ক পরিহার বা প্রত্যাহারের সুযোগ ছিল কি না, এসব প্রশ্ন সামনে রেখে তদন্তে নামে এনবিআরের আট সদস্যের তদন্ত দল।
তদন্ত প্রতিবেদনে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই পর্যন্ত ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের বিপরীতে ৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৬৭ ডলারের শুল্ক-কর ‘ফাঁকি দেওয়া হয়েছে’ বলে তথ্য উঠে আসে।
এনবিআরের তদন্তে আরও দেখা যায়, ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে পিডিবি শুল্ক ও কর অব্যাহতি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।