মিয়ানমারজুড়ে এখনও অনেক গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা (আইআইএমএম)। সংস্থাটি প্রচুর প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সব সম্প্রদায়ের জন্য পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক। চলমান সংঘাতের মধ্যে সাধারণ মানুষ প্রায়শই বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা, নির্বিচারে আটক, যৌন ও লিঙ্গ-ভিত্তিক অপরাধ, নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব রয়েছে। এমনকি মানবিক সহায়তা পৌঁছাতেও বাধা দেয়া হচ্ছে।
মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে অতীতে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাসহ অন্য জনগোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন বিষয়ে এই অঞ্চলের সরকারগুলোর সাম্প্রতিক বক্তব্য আমলে নিয়েছে আইআইএমএম। রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও অনুকূল নয় বলে মনে করে সংস্থাটি। এ ধরনের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মিয়ানমারজুড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ানো অপরাধ ও সহিংসতার অবসান ঘটানো আবশ্যক বলে মত তাদের।
প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে দেশটিতে ফের পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে মালয়েশিয়া। এদিকে গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু মিয়ানমারে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় নতুন করে মানুষ পালিয়ে আসছে। ফলে শিবিরগুলোতে প্রতিবছর নতুন প্রজন্ম যুক্ত হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরি, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।