রূপালি পর্দার ব্যস্ততা ফেলে তারা নেমে এসেছিলেন রাজপথে। হাতে প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠে যুদ্ধবিরোধী স্লোগান। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আওয়াজ তুলতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী সুসান সার্যান্ডন এবং জনপ্রিয় কমেডি সিরিজ ‘হ্যাকস’ খ্যাত তারকা হান্নাহ আইনবাইন্ডারসহ শতাধিক সংস্কৃতি কর্মীরা।
মূলত, চলমান জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যোগ দেওয়ার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন তারা। দিয়েছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান। কিন্তু এ প্রতিবাদের বিনিময়ে হাতকড়া পরতে হলো দুই মার্কিন তারকাসহ বহু সংস্কৃতিক কর্মীদের। তাদেরকে প্রিজন ভ্যানে তোলে নিউইয়র্ক পুলিশ।
জাতিসংঘের সদর দপ্তরের মাত্র কয়েক ব্লক দূরে ফার্স্ট অ্যাভিনিউতে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন শত শত অধিকারকর্মী। এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’ খ্যাত অভিনেত্রী সিনথিয়া নিক্সন, প্রখ্যাত নাট্যকার টনি কুশনার, কমেডিয়ান ক্যালেব হিয়ারন ও লেখক গ্লেনন ডয়েলসহ বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের আরও অনেক পরিচিত মুখ। বিক্ষোভকারীদের পরনে ছিল ‘বোমায় নয়, মানুষের পেছনে অর্থ দিন’ লেখা টি-শার্ট। তাদের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো’ এবং ‘গণহত্যা থামাও’।
ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘জিউয়িশ ভয়েস ফর পিস’-এর ডাকে সাড়া দিয়ে এই তারকারা রাজপথে নেমেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে পুলিশ অ্যাকশনে যায় এবং ১০৩ জনকে আটক করে, যার মধ্যে সুসান ও হান্নাহও ছিলেন।গত বছর জাতিসংঘের এক স্বাধীন তদন্তে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। বিশ্বজুড়ে তার সমালোচনা থামেনি। জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের পরও নিউইয়র্কের রাস্তায় শত শত প্রতিবাদকারী মার্চ করেন, যাদের কণ্ঠে ছিল ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার জোর দাবি। যার মধ্যে বড় একটি অংশ রয়েছে সংস্কৃতি অঙ্গনের তারকারা।