চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা মেরামতের ওয়ার্কশপের ভেতর আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ওই এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে মো. জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) এবং মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. কবির আহমদ (৪৭)। দুজনেরই বাড়ি হাটহাজারী উপজেলায়। জামাল পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং কবির অটোরিকশাচালক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তবে দুজন আড়ালে অস্ত্র বিক্রি করে আসছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ আগস্ট রাতে গোপন সংবাদে হাটহাজারী উপজেলার সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশার গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখানে ওয়ার্কশপের আড়ালে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির গোপন কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ। তখন ওই কারখানা থেকে দেশীয় একটি অত্যাধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরি, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বলেন, হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকার সরকারহাট বাজারে ওই অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে আগ্নেআস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল। ওয়ার্কশপটিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানে জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি এবং মো. কবিরকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি করে একটি অত্যাধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল, পেনগানের ১৮টি গুলি এবং পিস্তলের দুটি বুলেট উদ্ধার করা হয়। সবমিলিয়ে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন অস্ত্র তৈরির একটি আস্তানার বিষয়ে তথ্য দেন। সাধারণত অটোরিকশা ওয়ার্কশপ হিসেবে পরিচালিত হলেও এর আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হতো। পরে তৈরি করা অস্ত্র বিভিন্ন ব্যক্তি ও চক্রের কাছে সরবরাহ ও বিক্রি করা হতো।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-গুলি হাটহাজারীর সরকারহাটের একটি অটোরিকশার গ্যারেজে তৈরি হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন জামাল ও কবির। গ্যারেজের আড়ালে ওসমান নামে গ্যারেজের এক কর্মী এসব অস্ত্র তৈরি করেন। এরপর বিক্রির জন্য অস্ত্রগুলো জামাল ও কবিরকে দেন ওসমান। গ্যারেজের মালিক দেশের বাইরে থাকায় ওসমানই দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজেটি পরিচালনা করে আসছেন এবং আড়ালে অস্ত্র তৈরি করে আসছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওসমানকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, অস্ত্রের ক্রেতা সেজে জামাল ও কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় অস্ত্র বিক্রির কথা জানান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে। জামাল রাজমিস্ত্রি এবং কবির অটোরিকশার চালক পরিচয় ব্যবহার করে অস্ত্র বিক্রি করতেন, যাতে তাদের কেউ সন্দেহ না করে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে থানায় মামলা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার সরঞ্জাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওই স্থানে কী ধরনের অস্ত্র তৈরি করা হতো এবং চক্রটির কার্যক্রম কতদিন ধরে চলছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।