নিরাপত্তা বলয়ে কূটনৈতিক পাড়া

এসএম দেলোয়ার হোসেন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ঢাকার অভিজাত গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক এলাকায় কঠোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা । ছবি: সংগৃহীত ছবি:
ঢাকার অভিজাত গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক এলাকায় কঠোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা । ছবি: সংগৃহীত

ই-মেইলের মাধ্যমে রাজধানীর ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে হুমকির ঘটনায় পুরো কূটনৈতিক পাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিজাত বারিধারা ও গুলশানের বিভিন্ন দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়াও কূটনৈতিক পাড়ায় পোশাকধারীদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ই-মেইল বার্তায় হুমকির বিষয়টি তদন্তে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। সন্দেহভাজনদের ওপর শুরু হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে কুইক রেসপন্স টিমগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) ডিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের ঢাকাস্থ দূতাবাসে টাকা দাবি করে এবং আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উগ্রবাদী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কিছু হুমকি পূর্ণ ই-মেইল পাঠানো হয়। ওই ই-মেইল বার্তার হুমকির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্তসহ দূতাবাদের নিরাপত্তা সহায়তা চেয়ে সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থাকে অবহিত করে। এরপরই বিষয়টির তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। ওই ঘটনার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও প্রবেশপথ গুলোতে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও  চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

* হুমকির বিষয়টি তদন্তে সিটিটিসি, চেকপোস্টে চলছে তল্লাশি
* সন্দেহভাজনদের ওপর চলছে গোয়েন্দা নজরদারি
* প্রস্তুত কুইক রেসপন্স টিম 

ডিএমপি সূত্র জানায়, ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরের সবকটি প্রবেশপথে ২৪ ঘণ্টা বিশেষ চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি যাতে প্রবেশ করে রাজধানীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রতিটি প্রবেশদ্বারে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও নিটোল করতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটসমূহ। বর্তমানে ডিএমপির ১৮ হাজারেরও বেশি অফিসার ও ফোর্স মাঠে থেকে নিরলসভাবে এই চেকপোস্ট ডিউটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) এবং সিটিটিসি (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিট সার্বক্ষণিক মাঠে মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের আগাম নাশকতা, সহিংসতা কিংবা ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সাদা পোশাকে ব্যাপক গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং আইএডি (ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন)। এছাড়াও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত, নিখুঁত ও কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য মহানগরের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাজধানীর শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাধারণ নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা বজায় রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বদ্ধপরিকর। যেকোনো মূল্যে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

ডিএমপির কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আবু খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, হুমকি ও চাঁদা দাবির ঘটনায় কূটনৈতিক এলাকায় আগের চেয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সড়কে অতিরিক্ত চেকপোস্ট, টহল এবং দূতাবাসের সামনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে কুইক রেসপন্স টিমগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই অভিজাত গুলশান, বারিধারা, উত্তরা ও বনানী এলাকায় চলাচলকারী যানবাহন ও জনসাধারণকেও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে তাৎক্ষণিক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেও প্রস্তুত রয়েছে পোশাকে ও সাদা পোশাকে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ই-মেইলগুলো ভুয়া ও আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে। কূটনৈতিক এলাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট ও টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সাদা পোশাকে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকার কয়েকটি বিদেশি দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকি দেয় একটি গোষ্ঠী। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকও হয়েছে। হুমকির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিটিটিসি।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL