ঘুষকাণ্ডে দুদকের হাতে গ্রেপ্তার ভূমি’র সার্ভেয়ার আসাদুল কারাগারে

এসএম দেলোয়ার হোসেন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ঘুষের এক লাখ টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কাছে হাতেনাতে গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে তাকে কারাগার পাঠানোর আদেশ দেন। 

এর আগে, তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন

আবেদনে বলা হয়, আসাদুল ইসলাম লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত। এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে দুদক ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করে। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সার্ভেয়ারের নির্ধারিত কক্ষে আসাদুল ইসলামকে ওই টাকা দেন অভিযোগকারী। টাকা গ্রহণের পর আসাদুল ইসলাম তা তার ডান পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাকে রাখেন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুদকের ফাঁদ দলের সদস্যরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে আসাদুল ইসলাম তা স্বীকার করেন। পরে তার ব্যবহৃত সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাক থেকে খাকি রঙের খামে রাখা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা টাকার নম্বরের সঙ্গে আগের দিন অভিযোগকারীকে দেওয়া টাকার নম্বরের হুবহু মিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

দুদক জানায়, সাবেক সৈনিক মো. মনিরুল ইসলাম ঢাকা জেলার লালবাগ থানাধীন চর-কামরাঙ্গী মৌজার বিভিন্ন দাগে অবস্থিত মোট ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেন। জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি পৃথকীকরণ এবং স্কেচম্যাপ তৈরির জন্য তিনি গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। তবে প্রায় ছয় মাস লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে তাকে ওই কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরবর্তীতে আসাদুল ইসলাম কাজটি সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। বিষয়টি দুদককে জানালে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে ফাঁদ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে ১ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL