রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আটককৃতরা জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক করছিল বলে দাবি পুলিশের। এছাড়া ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা কোনো উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, তারা কী উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন মর্মে পুলিশের কাছে কিছু তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া তারা আরও কোনো কর্মকাণ্ড করেছেন কিনা এবং কেন সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন, সেসব বিষয়ও যাচাই করা হবে।
ডিসি হারুন জানান, প্রাথমিকভাবে সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনের কাছাকাছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি সঠিক সংখ্যা বলতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পুরো ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করার স্বার্থে আমরা তাদের থানায় নিয়ে যাচ্ছি। যাচাই-বাছাই করে যার যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের নামে মামলা হবে বা আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের ক্ষেত্রে অন্য যে প্রক্রিয়া আছে, সে প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
সাংবাদিক বা অন্য কোনো পেশার মানুষ সেখানে আটক হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ডিসি হারুন বলেন, সেখানে সাংবাদিকসহ অন্য কোনো পেশার মানুষ আছেন কিনা, পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তাদের সেখানে জড়ো হওয়ার কোনো অনুমতি ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনাটি পল্টন থানার আওতাধীন হওয়ায় তদন্তের সুবিধার্থে প্রয়োজন হলে তাদের আশপাশের কোনো থানায় রাখা হতে পারে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধানমন্ডি থেকে তিনজনকে আটক করে। ধানমন্ডির ওই মিছিলে অংশ নেয়া অনেকে পরে গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। এর আগে ওই কার্যালয়ে শতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য জাসদ কার্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে বিকেল ৪টার দিকে জাসদের কার্যালয় থেকে একে একে অনেককে হাতকড়া পরিয়ে বের করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
পল্টন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিছু লোকজনকে থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া, রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডির বাটা শোরুমের সামনে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের ব্যানারে এই ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিল চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় চারজনকে আটক করে পুলিশ।
ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঝটিকা মিছিল বের করে এবং সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিছিল শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় একটি ব্যানারও উদ্ধার করা হয়।
এদিকে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, ধানমন্ডি এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে আটক করা হয়েছে।
জানা যায়, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব তারেকুজ্জামানের নেতৃত্বে মিছিলটি সাত মসজিদ রোড থেকে শুরু হয়। পরে সেটি ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতাল হয়ে বাটা শোরুমের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় মিছিলকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এছাড়া কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতা ও সমিতি এবং পাদুকা ব্যবসায়ী মো. জাবেদুল ইসলাম জাবেদ ওরফে ফার্মের মুরগি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিজ এলাকার ৬ তলা বাড়ি ও ফ্ল্যাটের শেয়ার প্রায় ৪ কোটি টাকায় বিক্রি করে রসুলপুর ছেড়ে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় অবস্থান করছেন। সেখানে একটি জমি ক্রয় করে বসতি গড়ে তুলেছেন। একই সঙ্গে দলীয় পরিচয় গোপন রেখে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধী ১১ দলীয় জোটের ছত্রছাঁয়ায় থেকে নিজেকে বিভিন্ন সময় বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে তুরাগ ও উত্তরা টঙ্গী ও গাজীপুর এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। সেখানে জিপসি মোটরসাইকেল যোগে মহড়া দিয়ে পলাতক নেতা লালচাঁন সুমন, তাইজুদ্দিন আহমেদ রনি, খাদ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিস্ট মামুন, ডিব্বা সাহাবুদ্দিনসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নৈরাজ্যের অপচেষ্টায় গোপন বৈঠকও করেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ বলছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।