ইউএনএইচসিআর

দাতারা টাকা না দেয়ায় ঝুঁকিতে ৮৩ লাখ শরণার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

* কমছে অনুদানের পরিমাণ, বাড়ছে সংকট
* প্রয়োজন ৮.৫ বিলিয়ন ডলার, মিলেছে ২.৭ বিলিয়ন ডলার
* ঘাটতি ৫. ৮ বিলিয়ন ডলার, বন্ধের উপক্রম সেবা কার্যক্রম
 

 

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, দাতাদের ব্যাপক অর্থায়ন কাটছাঁটের কারণে তাদের সহায়তা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বছল না ঘুরতেই কমছে দাতা সংস্তাগুলোর অনুদানের পরিমাণ। এর ফলে বাড়ছে সংকট। শরণার্থীদের জরুরি প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতে যেখানে চাহিদা রয়েছে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, সেখানে মিলছে মাত্র ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে ঘাতটি রয়েছে ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এতে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষ জরুরি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্ধের উপক্রম হচ্ছে সেবা কার্যক্রমের। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদন এবং সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী ও বাংলাদেশে শরণার্থীর সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
ইউএনএইচসিআরের ম্যান্ডেটভুক্ত শরণার্থী: বিশ্বজুড়ে ইউএনএইচসিআরের সুরক্ষার আওতায় থাকা শরণার্থীর সংখ্যা ৩ কোটি ৫৬ লাখ। (এর বাইরে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য গঠিত জাতিসংঘের অন্য সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর অধীনে রয়েছে আরও প্রায় ৬০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী)। মোট জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ: যুদ্ধ, সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বিশ্বজুড়ে নিজ ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত (শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ও আশ্রয়প্রার্থীসহ) মোট মানুষের সংখ্যা ১১ কোটি ৭৮ লাখ। 

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮৫ হাজার (১,১৮৪,৮৬৪ জন), যারা মূলত মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এরা মূলত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও কুতুপালং ক্যাম্পে এবং বান্দরবানের নাইখ্যাংছড়ি ও নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় ৩৫,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছেন।

ইউএনএইচসিআর  জানায়, আর্থিক সহায়তায় দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান ঘাটতির কারণে শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেয়ার সক্ষমতা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে তারা ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অনুদান পেয়েছিল। ২০২৫ সালে সেই অর্থের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। অথচ বর্তমানে সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

সংস্থাটি আরও জানায়, চলতি বছর শরণার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের অন্তত ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু জুলাই পর্যন্ত তারা এর মাত্র ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। ঘাটতি রয়েছে ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে প্রায় ৮৩ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ ইউএনএইচসিআরের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, তহবিল কাটছাঁট অব্যাহত থাকায় বিশ্বের প্রধান শরণার্থী এলাকাগুলোতে সহায়তা ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সংস্কার ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে অর্থের ঘাটতি এতটাই বড় ও দীর্ঘস্থায়ী যে, এর প্রভাব এখন জরুরি কার্যক্রমেও পড়ছে।

ইউএনএইচসিআরের এক্সটারনাল রিলেশনস বিভাগের প্রধান ডমিনিক হাইড বলেন, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের নিচে নেমে গেলে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তখন শুধু কমসংখ্যক মানুষ সেবা পায় বিষয়টি এমন নয়; বরং সেবামূলক কার্যক্রমগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL