নগরজুড়ে বাড়ছে চাঁদাবাজি ও হামলা-ভাঙচুর

এসএম দেলোয়ার হোসেন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

* গত ৮ মাসে ৭২৩ চাঁদাবাজির মামলা
* তদন্তে ৮৫ শতাংশই প্রমাণিত, সত্যতা মেলেনি ১৫ শতাংশের

“চাঁদাবাজি সংক্রান্ত মামলাগুলোর ক্ষেত্রে তদন্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার। সেই সঙ্গে এসব মামলায় জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে বিচারকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন” 
— অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল
“মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধীই”
— মো. আলী হোসেন, আইজিপি

 

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বদলে গেছে দখল-চাঁদাবাজি ও হামলা-ভাঙচুরের দৃশ্যপট। অপরাধীরা ক্ষমতাসীন দলের 
লেবাসে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্ব শত্রুতা থেকে শুরু করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখল নিতে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছে। চাঁদার টাকা হাতে না পৌঁছালেই সেখানে ঘটানো হচ্ছে তাণ্ডব। কোথাও কোথাও প্রকাশ্যে আবার কোথাও রাতের আঁধারে চালানো হচ্ছে ভাঙচুর-লুটপাট। সাম্প্রতিক সময়ে নগরজুড়ে অনাকাঙ্খিতভাবেই বাড়ছে দখল-চাঁদাবাজি, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯- এ ফোন কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছার আগেই অপরাধীরা ধারালো ছোরা-চাপাতি ও অন্যান্য প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে বীর বাহাদূরের মতো নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগীরা। এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে টনক নড়ে প্রশাসনের। মাঝে মধ্যে কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও একই ধরনের অপকর্মে জড়াচ্ছেন অপরাধীরা। ডিএমপির তথ্য বলছে, গত ৮ মাসে রাজধানীর ৫০ থানার মধ্যে ৪৯টিতেই চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে ৭২৩টি। এসব মামলার তদন্তে ৮৫ শতাংশেই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তারা বলছেন, চাঁদাবাজি সংক্রান্ত মামলাগুলোর ক্ষেত্রে তদন্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার। সেই সঙ্গে এসব মামলায় জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে বিচারকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তবে পুলিশ বলছে, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধীই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া প্রায় ৫০ বছর পুরনো রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে তাণ্ডব চালিয়ে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। হামলার পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় হানিফ মিয়া নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া, অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা নগদ প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকাসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওই সময় শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছিলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। 
এ ঘটনার রেশ না কাটতেই গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজ এলাকায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কক্ষের আসবাবসহ নানা জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্টুডিওতে থাকা সিসি ক্যামেরাসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিজেই ফেসবুকে ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন সালমান। 
ওই হামলায় ঘটনার দিন দিবাগত রাত পৌনে ২টায় ব্রাউনফিশ স্টুডিওর ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে সালমান মুক্তাদির বলেন, একটু আগে এখানে হামলা হয়েছে এবং পুরো স্টুডিও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হয়তো ভবনের মালিক ছিলেন এবং তার কাছে হয়তো চাঁদা দাবি করা হয়ে থাকতে পারে।

ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, স্টুডিওর জমির মালিক নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং এলাকার অন্য জমি মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ছোরাসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওইদিন দুপুরের পর রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে করা মামলার এক নম্বর আসামি। এ ছাড়া গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- শাহ আলম অনিক, ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না। এর মধ্যে গ্রেপ্তার শাহ আলম অনিক ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এদিকে গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শেখেরটেকে বাড়ি দখলের ঘটনার পর আদাবর হাউজিং সংলগ্ন কাঁচাবাজারের কালভার্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আদাবর থানা পুলিশ। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে পরিচালিত এ অভিযানে আগে গ্রেপ্তার করা ছয়জনসহ এ ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত সবাই ‘কব্জিকাটা’ গ্রুপের সদস্য। অভিযানকালে পুলিশের ওপর হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে তাদের লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ।

আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাং নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। অপরাধ করলে বারবার গ্রেপ্তার করা হবে। পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা যায়, নগরজুড়ে চাঁদাবাজি হয়, মামলা হয়, তদন্ত শেষে চার্জশিটও জমা পড়ে। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক মামলার বিচার শুরু হয় না। সম্প্রতি ঢাকার ৫০টি থানার চাঁদাবাজি ও দখলসংক্রান্ত মামলার তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই চিত্র। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গেল আট মাসে ঢাকা মহানগরের ৫০টি থানার মধ্যে ৪৯টিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে ৭২৩টি। এসব মামলার প্রায় ৮৫ শতাংশেই তদন্তে চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ঢাকার সিএমএম কোর্টের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানায়। এরপর রয়েছে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা। ৭২৩টি মামলার মধ্যে ৪২৫টির তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এখনো তদন্তাধীন রয়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ মামলা। নথি পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গত ২০ মাসে মহানগরে চাঁদাবাজির ৩৬৫টি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ মামলায় আসামিদের অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়া হয়। আর ১৫ শতাংশ মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, চার্জশিট জমা পড়ার পরও এসব মামলার অনেকগুলোর বিচার এখনও শুরুই হয়নি। এরই মধ্যে কোনো কোনো আসামি জামিনে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আবার কিছু মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে।

রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ নতুন নয়। সরকার বা রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পরও বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। সম্প্রতি মিরপুরের রাাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে এবং আদাবরের শেখের টেকের একটি বাড়িতে হামলার ঘটনাতেও চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ পাওয়া যায়।

অন্যান্য মামলা ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় প্রায় ৪১ শতাংশ মামলা তখনও তদন্তাধীন ছিল। এছাড়া সম্প্রতি মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও গুলশান এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও দখলসংক্রান্ত কিছু বিক্ষিপ্ত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট মোট পরিসংখ্যান একসাথে পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, চাঁদাবাজি সংক্রান্ত মামলাগুলোর ক্ষেত্রে তদন্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার। সেই সঙ্গে এসব মামলায় জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে বিচারকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, যেসব পেটি অফেন্সের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে বিচারকরা তুলনামূলকভাবে নমনীয় ছিলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সে অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তদন্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার বলে আমি মনে করি। যেসব চাঁদাবাজির মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি জানান, ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ রাখার যেকোনো প্রক্রিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে, যাতে স্থগিতাদেশের বাধা দূর করে বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যায়।

বিজ্ঞ আইনজীবী মাহবুবুর রহমান খানের মতে, চাঁদাবাজির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে এ ধরনের অপরাধ কমানো কঠিন। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির মামলাগুলোতে চার্জশিট দেয়ার পরেও যেহেতু কোনো এভিডেন্স লাগে না, কোর্টে গিয়ে আর প্রমাণ করা যায় না এবং এই ঘটনাগুলোতে সাজাও হয় না, যে কারণে প্রকৃত যারা চাঁদাবাজ থাকে তারা সুযোগ নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। দেশের আইনে চাঁদাবাজির সাজা সর্বোচ্চ তিন বছর জেল, তবে মৃত্যুর হুমকি থাকলে তা বাড়তে পারে ১৪ বছর পর্যন্ত। চাঁদাবাজি সংক্রান্ত আইনের সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত মাসিক (আগস্ট ২০২৬) অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধীই। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান। 
মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স পুনর্ব্যক্ত করে পুলিশ প্রধান বলেন, মাদকদ্রব্য রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি এক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি গুজব ও অপপ্রচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বলেন, কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এদের পেছনে কোন প্রভাবশালী রয়েছে কি-না তা উদঘাটন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিটকে নিজ নিজ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। পূজাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার হতে পারে। এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। 
মো. সায়েদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
 

 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL