অস্ত্রের মুখে ছেলেকে জিম্মি করে হামলা-লুটপাট ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ

গফরগাঁওয়ে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

জয়নাল আবেদীন, ময়মনসিংহ ব্যুরো
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পানি খাওয়ার কথা বলে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়িতে ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাজীব (২৩) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার বিকেলে গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।

পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শরীফ মিয়া (২৩), আরিফ মিয়া (২১)সহ পাঁচ যুবক ওই প্রবাসীর বাড়িতে যান। তারা প্রথমে পানি চান। ভুক্তভোগীর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে পানি দিতে দরজার কাছে এলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় বলে অভিযোগ।

এরপর অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। এ সময় বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। পরে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার সময় রাজীব মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রাতেই অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে আটক করা হয়। এ সময় অন্য চারজন পালিয়ে যান।

পুলিশের দাবি, আটকের সময় ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মুঠোফোনটি রাজীব পানিতে ফেলে দেন। পরে অভিযান চালিয়ে সেটি উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীর দেবর বলেন, বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তার ভাবি নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকতেন। দুর্বৃত্তরা তার ভাতিজাকে জিম্মি করে ভাবির ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস বলেন, ওই নারী পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে দুজন ধর্ষণে জড়িত ছিলেন এবং অন্যরা বাইরে অবস্থান করছিলেন। এ ছাড়া ছেলেকে জিম্মি করে রাখা, বাড়িতে ভাঙচুর ও টাকা-পয়সা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মেডিকেল রিপোর্টসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করা হবে। ভিডিও ধারণের অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি পলাতক অন্যদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL