নেত্রকোণায় মাদরাসার শিক্ষকের সঙ্গে এক নারীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হওয়ার পর ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষক একটি এমপিওভুক্ত মাদরাসায় প্রভাষক পদে কর্মরত থাকলেও তিনি নিজে সরকারি বেতনবহির্ভূত (নন-এমপিও) ছিলেন। তিনি মাদরাসার অনার্স বিভাগের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। তিন সন্তানের জনক এহসানুল হকের বাড়ি নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায়। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে কালো বোরকা ও নেকাব পরা এক নারী চেয়ারে বসে আছেন। ওই শিক্ষক কক্ষের দরজা-জানালা দিয়ে বাইরে নজর রাখেন এবং ওই নারীকে একাধিকবার স্পর্শ ও আলিঙ্গন করেন। প্রতিবারই নারী তাকে বাধা দেন। কিছুক্ষণ পর ওই নারী কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এহসানুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন জানান, গত ২০ আগস্ট শিক্ষকদের একটি সভা চলাকালে সিসিটিভি মনিটরে এক নারীর সঙ্গে শিক্ষক এহসানুল হককে দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় সহকর্মীদের। পরে ফুটেজ দেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন। অধ্যক্ষ আরও জানান, গত ২৬ আগস্ট অভিযুক্ত শিক্ষকের কক্ষের তালা পরিবর্তন করে ক্যাম্পাসে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীকালে ১ সেপ্টেম্বর এহসানুল হক পদত্যাগপত্র জমা দিলে জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তা গ্রহণ করে তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়। পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও মাদরাসার গভর্নিং বডিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
নেত্রকোণা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কেন এখনো পূর্ণাঙ্গ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে।