ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি

এসএম দেলোয়ার হোসেন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

★ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারিরা আতঙ্কে 
★ থানায় জিডি, তদন্তে নেমেছে একাধিক সংস্থা

 

রাজধানীর বাড্ডায় অবস্থিত বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  গত রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটের দিকে অজ্ঞাত এক ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাসেজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারি ও তাদের স্বজন-পরিবার এবং অভিভাবকরা গভীল উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। তবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হুমকির এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা এর রহস্য উদ্ঘাটনে ও জড়িতদের শনাক্তে মাঠে নেমেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাসীরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ই-মেইল বার্তায় বলা হয়, ‘আমি বাংলাদেশের ঢাকা ১২১২, প্রগতি সরণি, খা ২২৪-এ অবস্থিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গণবোমা হামলা চালাব। তাই যদি আমার মুখ দেখতে পাও, তবে জেনে রেখো যে, যা ঘটতে চলেছে তা তোমাদের কেউই থামাতে পারবে না। মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর আনুমানিক সকাল ১১টায় এই হামলা করা হবে।’

এ ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাড্ডা থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) সাইবার ইউনিট তদন্ত করছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট ও থানা পুলিশ।

ই-মেইলের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, ‘টিপিক্যাল চাইনিজম্যান’ (ঞুঢ়রপধষঈযরহবংবসধহ@মসধরষ.পড়স) ই-মেইল আইডি থেকে পাঠানো ওই বার্তায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বোমা হামলা চালানোর হুমকি দেয়া হয়। গত রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে হুমকির ই-মেইলটি আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমেইলে হুমকি পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সতর্কতামূলক বার্তা পাঠিয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করে মেইলটি ফরোয়ার্ড করেছে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বোমা হামলায় হুমকির ঘটনায় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফাতিউস ফাহমিদ জানান, তারা অজ্ঞাত একটি উৎস থেকে ই-মেইল পেয়েছেন এবং বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি। এই মুহূর্তে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

এ বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়, এ ধরনের একটি অজ্ঞাত ই-মেইল আমরা পেয়েছি। বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ইতোমধ্যে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং আমরা তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা পাচ্ছি। এই মুহূর্তে আমরা আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি পরিবারের সকল সদস্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি।

বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমিন বলেন, ‘ইমেইলে মঙ্গলবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহারে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সেখানে আরও বলা হয়েছে, মনে রাখবেন, যা ঘটতে যাচ্ছে তা আপনাদের কেউই ঠেকাতে পারবেন না। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ওসি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বলেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। এটা পোটেনশিয়াল কোনো হুমকি না। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে বাড্ডা থানায়। বিষয়টি তদন্ত করছে ডিবির সাইবার টিম। তিনি আরও বলেন, ‎এ ঘটনায় আমাদের কাছে সংশ্লিষ্ট থানা এলটি জিডি ফরওয়ার্ড করেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।

ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অজ্ঞাত ই-মেইল বার্তায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশের একাধিক টিম। তাদের মতে, দেশে-বিদেশে থেকে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী ফায়দা হাসিলের স্বার্থে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ও জনমনে ভীতি ছড়াতে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তা শনাক্তকরণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিমের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে সিআইডি, পিবিআই, এসআরবিসহ সাইবার টিমের অন্যান্য সংস্থা।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL