স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে ঘিরে জাতীয় সংসদে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এদিন সংসদ অধিবেশন চলাকালে গত ৬ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন এমন প্রশ্নও তুলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’ সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কিনা, সেটি দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, ক্ষেত্রবিশেষ ৭ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢালাওভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে কিংবা এই সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি এগুলো পল্টনে বক্তৃতার মতো। এটি সংসদ, সংসদে তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে। এ সময় সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ যেকোনো ঘটনার ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ নিয়ে সংসদে তুমুল হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংসদের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ওমরকে প্রশ্ন করার অনুমতি দেন। পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে তার প্রশ্নের উত্তর দেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। এরপর এভাবে সংসদের কার্যক্রম এগিয়ে যেতে থাকে।
একপর্যায়ে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বক্তব্যকালে দেশে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সম্প্রতি সরকারদলীয় এমপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে মিথ্যা মামলা করে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ইস্যুতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চান।