- সম্ভাব্য প্রার্থীদের মেয়র নির্বাচনে মনোযোগের নির্দেশ বিএনপির
- বিএনপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলেন সমমনা দলের ১২ নেতা
- একজনের মনোনয়ন স্থগিত করলো বিএনপি
- খালেদা জিয়ার আসনে প্রার্থী দেবে না এনসিপি
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে কৌশলগত অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে বিএনপি। দলটি বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে তাদেরকে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে মনোযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ কয়েকটি বড় শহরের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ইতোমধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে। আসন্ন এয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত সোমবার বিএনপি ২৩৭টি আসনে তাদের প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তালিকা অনুযায়ী ফেনী-১, দিনাজপুর-৩ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে লড়বেন খালেদা জিয়া। বিএনপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার এক দিনের মাথায় এ তথ্য জানাল এনসিপি। যদিও ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল এনসিপি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা ঘোষণা করে বিএনপি। তবে একটি আসন থেকে ঘোষিত নাম স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় ২৩৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনেও মনোনয়নপ্রাপ্ত কামাল জামান মোল্লার নাম ঘোষণা করা হয়। অনিবার্য কারণবশত ঘোষিত মাদারীপুর-১ আসন ও দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম স্থগিত রাখা হলো। বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, দল এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে বিবেচনা করছে। এজন্য অভিজ্ঞ, জনপ্রিয় ও মাঠে সক্রিয় নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালের নাম আলোচনায় রয়েছে। ব্যবসায়ী পরিবার থেকে আসা এই তরুণ রাজনীতিক ২০১৫ ও ২০২০ সালের দুই দফা সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আফরোজা আব্বাস, যিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সভাপতি। সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং দক্ষিণ সিটিতে দলের নারী সংগঠনকে সক্রিয় ও সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। পেশায় চিকিৎসক ডা. শাহাদাত ১৯৯০-এর দশকে ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসেন। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতি এবং সংগঠনের প্রতি নিবেদনের কারণে তিনি চট্টগ্রামে দলীয়ভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
সিলেট সিটিতে দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি ২০১৩ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এই নেতা শহরের উন্নয়ন ও গণমানুষের ইস্যুতে সরব ছিলেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি, তবে স্থানীয় রাজনীতিতে এখনও দলের প্রভাবশালী মুখ হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম জানা যায়নি। দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় পর্যায়ের মতামত ও সাংগঠনিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বিএনপিযে ৬৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি, এর একটা বড় অংশ মিত্র দল ও জোটগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে দলটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা জানিয়েছেন, মিত্র দলগুলোর বাইরেও জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এবং ইসলামপন্থী কিছু দলের সঙ্গে তাদের আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে আলোচনা চলছে। এসব দলের জন্য আসন আসন ছেড়ে দিতে হতে পারে বিএনপিকে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সঙ্গে রাজপথে থাকা দলগুলোর ১২ শীর্ষ নেতাকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছেন- পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক, কুমিল্লা-৭ আসনে দলটির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, নড়াইল-২ আসনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং ঝিনাইদহ-২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। অন্যদিকে, প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর দেখা গেছে এই তালিকায় নেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং বেগম সেলিমা রহমানের নাম। প্রার্থী তালিকায় নেই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেল, সদ্য মনোনীত যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীরের নামও। নেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আমিনুর রশীদ ইয়াসিনের নাম। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপনও নেই প্রার্থী তালিকায়। বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনায় ছিলেন একাদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সদস্য রুমিন ফারহানার নাম। তবে মনোনয়ন তালিকায় এবার তার নাম দেখা যায়নি।






















