০১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনা-ডেঙ্গু বাড়ছেই

  • ভয় নয় সতর্কতায় জোর চিকিৎসাবিদদের
  • ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশি সিলেট-চট্টগ্রামে
  • করোনা আক্রান্তে ঢাকার পরেই চট্টগ্রাম

তীব্র শীতের মধ্যে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা। সূচক এখন ঊর্ধ্বমুখী। তবে, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার ব্যাপারেই বেশি জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা।
সারাদেশে গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন। তবে এই সময়ে মশাবাহিত এই রোগটিতে কারো মৃত্যু হয়নি। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ জন রোগী। গত ৩১ জানুয়ারি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১০৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি হলেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৬১ জন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, বাকি ৬ জন ঢাকার বাইরে মারা গেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে সিলেট বিভাগে ১৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে ৭ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এদিকে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৪৯ জন। এই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন। তবে, এই সময়ের মধ্যে কারো মৃত্যু হয়নি। এই সময়ের মধ্যে ঢাকা বিভাগে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে ৪১ জন, চট্টগ্রামে ৭ জন, রংপুর বিভাগে ১ জন। সারাদেশে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৫শ ৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮শ ৩০ জন সুস্থ হয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ২৯ হাজার ৪শ ৩৩ জন।

তবে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট জেএন.১ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ যেমন হাসপাতাল/চিকিৎসাকেন্দ্র, এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদেরকে তাদেরকে সর্তকতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। একইসঙ্গে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণদের চতুর্থ ডোজ ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য বলা হলো। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত ছড়ায়। কিন্তু এটা থেকে প্রাণহানির শঙ্কা কম। এই ভ্যারিয়েন্টের বিপরীতে আমাদের যে ভ্যাকসিন আছে, সেটা কার্যকর এবং এটা দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি। করোনা প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মাস্ক পরতে বলছি। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলছি। আমরা ফ্রন্ট লাইনে যারা আছেন যেমন ডাক্তার .তাদের আমরা বলছি আমাদের টিকা আছে, আপনারা টিকা নিয়ে নেবেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গু বা করোনা ভাইরাস কোন রোগ নিয়েই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তারা দ্রুত করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করবে। আর যারা অল্প ঝুঁকিপূর্ণ তারা স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিষয়গুলো যেমন ঠিকমতো হাত ধোয়া, হাসপাতাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাস্ক পরিধান করার মাধ্যমে এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে পারে। অন্যদিকে, ডেঙ্গু থেকে রক্ষা থেকে শুধু নিজেকে মশা থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তারা বলছেন, যেহেতু ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ তাই, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেকে মশার কামড় থেকে রক্ষাই হতে পারে এই রোগ থেকে রক্ষার একমাত্র সমাধান।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিউশনের নামে প্রতারণার ফাঁদ

করোনা-ডেঙ্গু বাড়ছেই

আপডেট সময় : ০৮:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ভয় নয় সতর্কতায় জোর চিকিৎসাবিদদের
  • ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশি সিলেট-চট্টগ্রামে
  • করোনা আক্রান্তে ঢাকার পরেই চট্টগ্রাম

তীব্র শীতের মধ্যে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা। সূচক এখন ঊর্ধ্বমুখী। তবে, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার ব্যাপারেই বেশি জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা।
সারাদেশে গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন। তবে এই সময়ে মশাবাহিত এই রোগটিতে কারো মৃত্যু হয়নি। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ জন রোগী। গত ৩১ জানুয়ারি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১০৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি হলেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৬১ জন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, বাকি ৬ জন ঢাকার বাইরে মারা গেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে সিলেট বিভাগে ১৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে ৭ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এদিকে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৪৯ জন। এই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন। তবে, এই সময়ের মধ্যে কারো মৃত্যু হয়নি। এই সময়ের মধ্যে ঢাকা বিভাগে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে ৪১ জন, চট্টগ্রামে ৭ জন, রংপুর বিভাগে ১ জন। সারাদেশে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৫শ ৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮শ ৩০ জন সুস্থ হয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ২৯ হাজার ৪শ ৩৩ জন।

তবে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট জেএন.১ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ যেমন হাসপাতাল/চিকিৎসাকেন্দ্র, এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদেরকে তাদেরকে সর্তকতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। একইসঙ্গে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণদের চতুর্থ ডোজ ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য বলা হলো। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত ছড়ায়। কিন্তু এটা থেকে প্রাণহানির শঙ্কা কম। এই ভ্যারিয়েন্টের বিপরীতে আমাদের যে ভ্যাকসিন আছে, সেটা কার্যকর এবং এটা দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি। করোনা প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মাস্ক পরতে বলছি। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলছি। আমরা ফ্রন্ট লাইনে যারা আছেন যেমন ডাক্তার .তাদের আমরা বলছি আমাদের টিকা আছে, আপনারা টিকা নিয়ে নেবেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গু বা করোনা ভাইরাস কোন রোগ নিয়েই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তারা দ্রুত করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করবে। আর যারা অল্প ঝুঁকিপূর্ণ তারা স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিষয়গুলো যেমন ঠিকমতো হাত ধোয়া, হাসপাতাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাস্ক পরিধান করার মাধ্যমে এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে পারে। অন্যদিকে, ডেঙ্গু থেকে রক্ষা থেকে শুধু নিজেকে মশা থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তারা বলছেন, যেহেতু ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ তাই, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেকে মশার কামড় থেকে রক্ষাই হতে পারে এই রোগ থেকে রক্ষার একমাত্র সমাধান।