১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশের অস্থিরতা নিয়ে বহির্বিশ্বে অপপ্রচাররোধে তৎপর সরকার

◉ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে সতর্কতা
◉ ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের দফায় দফায় ব্রিফিং

⮞নেট বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা দেশে যোগাযোগ করতে পারছে না : ম্যাথু মিলার
⮞গুজব ছড়ানোর অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিদেশস্থ মিশনগুলো কাজ করছে : ড. হাছান মাহমুদ

দেশের চলমান কোটা আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতার ইস্যু নিয়ে বহির্বিশে^ অপপ্রচার চলছে বলে মনে করছে সরকার। তারা মনে করছে, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিদেশি কিছু গণমাধ্যম এবং কিছু সরকারবিরোধী প্রবাসী। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় বহির্বিশে^ অপপ্রচার রোধ করার জন্য নানা তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। এরইমধ্যে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোকে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়েও কয়েক দফা ব্রিফিং এবং নাশকতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করানো হয়েছে। তবে, কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে অবস্থানকারী বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তারা তাদের দেশে যে তথ্য পাঠাবে সংশ্লিষ্ট সরকার সেটাই সত্য বলে বিশ্বাস করবে।

দেশে ছাত্রদের অহিংস আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা, বেশ কিছু সরকারি স্থাপনা নজিরবিহীনভাবে হামলার ঘটনা, রংপুরে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীর উপর পুলিশের গুলি চালানো, আলজাজিরাসহ বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যমে বাংলাদেশে সহিংসতার ঘটনার বিবরণ প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ড. ইউনূসের বিদেশিদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিবৃতি প্রদান, কোটা আন্দোলন ঘিরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান, দুবাইয়ে কোটা আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় মামলা, বিচার ও ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্ত সবকিছুই বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি হুমকিতে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিদেশে অপপ্রচার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগ নিয়ে বিদেশে বাংলাদেশ নিয়ে মনগড়া কন্টেন্ট বানিয়ে গুজব ছড়ানোর অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিদেশস্থ মিশনগুলো কাজ করছে। মন্ত্রী বলেন, বিটিভি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ডাটা সেন্টার, সেতু ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পদ্মাসেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজা, মেট্রোরেল স্টেশনে হামলা হয়েছে, পোড়ানো হয়েছে। এগুলো রাষ্ট্রের অর্থাৎ জনগণের সম্পত্তির ওপর হামলা। এসব ফুটেজ ও তথ্য আমরা বিদেশে আমাদের মিশনের মাধ্যমে সেখানকার কমিউনিটি ও সরকারকে জানানোর ব্যবস্থা নিয়েছি।

ড. ইউনুসের সাম্প্রতিক বিবৃতিকে দেশবিরোধী বর্ণনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তিনি বিবৃতিতে কোথাও রাষ্ট্রের তথা জনগণের সম্পত্তির ওপর হামলার নিন্দা জানাননি বরং দেশের এই পরিস্থিতিতে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন যা দেশবিরোধী কাজের শামিল। অন্যদিকে, নিজ রাজ্যে ২১ জুলাইয়ের সভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে এলে তাকে আশ্রয় দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন, আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে চাইলে, প্রতিবেশী দেশ তাকে আশ্রয় দিতে বাধ্য। তিনি এক টুইটে লিখেছেন, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেছেন, তার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে বলতে চাই, তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার, ঘনিষ্ঠ এবং উষ্ণ। কিন্তু তার এই বক্তব্যে বিভ্রান্তির সুযোগ রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ভারত সরকারকে নোট দিয়ে জানিয়েছি।’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

বিদেশি মিশন প্রধান ও কূটনীতিকদের নিয়ে সম্প্রতি দুষ্কৃতকারীদের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডবলীলায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও পুড়ে যাওয়া ঢাকাস্থ চারটি স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি তাদের ধ্বংসস্তূপগুলো ঘুরে দেখান। পরবর্তীতে তিনি বলেন, আজকে (বৃহস্পতিবার) আমরা ডিপ্লোমেটিক মিশনগুলোর বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেতু ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মিরপুর ১০ মেট্রোরেল স্টেশন ও বিটিভি ভবনের মতো জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের পরিকল্পনা ছিল তাদের আরও কয়েক জায়গায় নিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ডেটা সেন্টার। কিন্তু রাস্তায় প্রচুর জ্যাম ও বৃষ্টির কারণে অনেক বেশি সময় লেগেছে। তবে তারা মিরপুরের মেট্রোরেলের ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছেন, সেখানে কিভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, এমনকি ফুটওভার ব্রিজও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেতু ভবনে যেভাবে তান্ডব চালানো হয়েছে, সেখানে ১২ তলা পর্যন্ত আগুন দিয়েছে। সাততলা পর্যন্ত তারা উঠে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
তিনি বলেন, বিটিভি হচ্ছে টেলিভিশনের আঁতুর ঘর। আজকে যারা টেলিভিশন চ্যানেলগুলো চালায় তাদের অনেকের হাতেখড়ি হয়েছে বিটিভিতে। এই অঞ্চলের এবং বাংলা ভাষার প্রথম টিভি চ্যানেল বিটিভি। ১৯৬৪ সালে এটি স্থাপিত হয়েছিল। ভারতে তখনও টেলিভিশন চ্যানেল হয়নি। সেখানে যেভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং কি পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ, সারি সারি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে আমাদের মিশনের সামনে একটি বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানিরা যোগ দিয়েছিল। বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। একইভাবে আমাদের বিভিন্ন মিশনের সামনে যে বিক্ষোভ হয়েছে সেখানে বিএনপি-জামায়াত চক্র পাকিস্তান কমিউনিটির সহায়তা নিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। সেই সহায়তা নিয়ে এসব জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে এবং গুজব ছড়াচ্ছে। আজকে কূটনীতিকরা যাওয়ার পর অনেকেই বলেছে ‘দিস ইজ শেইম, শেইম’। অনেকেই আমার কাছে তাদের অনুভূতি শেয়ার করেছে, সবাই বলেছে, ‘ইটস ইয়োর ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার, উই আর উইথ ইউ’।

মন্ত্রী বক্তব্যে কূটনৈতিক অঙ্গনে এ সময়কালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাও উঠে আসে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশি মিশনগুলোর কাছে নোট পাঠিয়েছিলাম যে, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এটি নিয়ে যেন বিদেশি দূতাবাসগুলো বা কূটনীতিকরা গণমাধ্যমে কোন বিবৃতি না পাঠায়। তারা সেটি মেনে চলেছে। বিভিন্ন দেশের ৪৯ জন কূটনীতিক এ পরিদর্শনে অংশ নেন। পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন এসময় উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত আর বাংলাদেশি শ্রমশক্তি না নেওয়ার কথাটি সম্পূর্ণ গুজব। আজকেও ইউএইর রাষ্ট্রদূত এটি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বাংলাদেশে সহিংসতা দেখতে চায় না ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার তার এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনার নিন্দা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আমরা বাংলাদেশে সহিংসতা দেখতে চাই না।

নিজ দপ্তরে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ জমায়েতকে সমর্থন করি। আমি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সমর্থন করি। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই প্রতিবাদগুলো শান্তিপূর্ণ হতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর সরকারের কোনো ধরনের সহিংসতা চালানো উচিত নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এ মুখপাত্র বলেন, কিন্তু আমি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলতে চাই, বাংলাদেশজুড়ে চলমান টেলিযোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ার খবরেও আমরা অনেক উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশজুড়ে চলমান টেলিযোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় সেখানে আমেরিকান নাগরিকরাসহ বাংলাদেশের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার সুযোগ বিঘ্নিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে বলবে আইসিসি, বদলাবে ভেন্যু

দেশের অস্থিরতা নিয়ে বহির্বিশ্বে অপপ্রচাররোধে তৎপর সরকার

আপডেট সময় : ০১:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪

◉ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে সতর্কতা
◉ ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের দফায় দফায় ব্রিফিং

⮞নেট বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা দেশে যোগাযোগ করতে পারছে না : ম্যাথু মিলার
⮞গুজব ছড়ানোর অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিদেশস্থ মিশনগুলো কাজ করছে : ড. হাছান মাহমুদ

দেশের চলমান কোটা আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতার ইস্যু নিয়ে বহির্বিশে^ অপপ্রচার চলছে বলে মনে করছে সরকার। তারা মনে করছে, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিদেশি কিছু গণমাধ্যম এবং কিছু সরকারবিরোধী প্রবাসী। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় বহির্বিশে^ অপপ্রচার রোধ করার জন্য নানা তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। এরইমধ্যে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোকে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়েও কয়েক দফা ব্রিফিং এবং নাশকতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করানো হয়েছে। তবে, কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে অবস্থানকারী বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তারা তাদের দেশে যে তথ্য পাঠাবে সংশ্লিষ্ট সরকার সেটাই সত্য বলে বিশ্বাস করবে।

দেশে ছাত্রদের অহিংস আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা, বেশ কিছু সরকারি স্থাপনা নজিরবিহীনভাবে হামলার ঘটনা, রংপুরে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীর উপর পুলিশের গুলি চালানো, আলজাজিরাসহ বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যমে বাংলাদেশে সহিংসতার ঘটনার বিবরণ প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ড. ইউনূসের বিদেশিদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিবৃতি প্রদান, কোটা আন্দোলন ঘিরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান, দুবাইয়ে কোটা আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় মামলা, বিচার ও ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্ত সবকিছুই বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি হুমকিতে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিদেশে অপপ্রচার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগ নিয়ে বিদেশে বাংলাদেশ নিয়ে মনগড়া কন্টেন্ট বানিয়ে গুজব ছড়ানোর অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিদেশস্থ মিশনগুলো কাজ করছে। মন্ত্রী বলেন, বিটিভি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ডাটা সেন্টার, সেতু ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পদ্মাসেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজা, মেট্রোরেল স্টেশনে হামলা হয়েছে, পোড়ানো হয়েছে। এগুলো রাষ্ট্রের অর্থাৎ জনগণের সম্পত্তির ওপর হামলা। এসব ফুটেজ ও তথ্য আমরা বিদেশে আমাদের মিশনের মাধ্যমে সেখানকার কমিউনিটি ও সরকারকে জানানোর ব্যবস্থা নিয়েছি।

ড. ইউনুসের সাম্প্রতিক বিবৃতিকে দেশবিরোধী বর্ণনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তিনি বিবৃতিতে কোথাও রাষ্ট্রের তথা জনগণের সম্পত্তির ওপর হামলার নিন্দা জানাননি বরং দেশের এই পরিস্থিতিতে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন যা দেশবিরোধী কাজের শামিল। অন্যদিকে, নিজ রাজ্যে ২১ জুলাইয়ের সভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে এলে তাকে আশ্রয় দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন, আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে চাইলে, প্রতিবেশী দেশ তাকে আশ্রয় দিতে বাধ্য। তিনি এক টুইটে লিখেছেন, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেছেন, তার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে বলতে চাই, তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার, ঘনিষ্ঠ এবং উষ্ণ। কিন্তু তার এই বক্তব্যে বিভ্রান্তির সুযোগ রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ভারত সরকারকে নোট দিয়ে জানিয়েছি।’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

বিদেশি মিশন প্রধান ও কূটনীতিকদের নিয়ে সম্প্রতি দুষ্কৃতকারীদের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডবলীলায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও পুড়ে যাওয়া ঢাকাস্থ চারটি স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি তাদের ধ্বংসস্তূপগুলো ঘুরে দেখান। পরবর্তীতে তিনি বলেন, আজকে (বৃহস্পতিবার) আমরা ডিপ্লোমেটিক মিশনগুলোর বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেতু ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মিরপুর ১০ মেট্রোরেল স্টেশন ও বিটিভি ভবনের মতো জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের পরিকল্পনা ছিল তাদের আরও কয়েক জায়গায় নিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ডেটা সেন্টার। কিন্তু রাস্তায় প্রচুর জ্যাম ও বৃষ্টির কারণে অনেক বেশি সময় লেগেছে। তবে তারা মিরপুরের মেট্রোরেলের ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছেন, সেখানে কিভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, এমনকি ফুটওভার ব্রিজও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেতু ভবনে যেভাবে তান্ডব চালানো হয়েছে, সেখানে ১২ তলা পর্যন্ত আগুন দিয়েছে। সাততলা পর্যন্ত তারা উঠে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
তিনি বলেন, বিটিভি হচ্ছে টেলিভিশনের আঁতুর ঘর। আজকে যারা টেলিভিশন চ্যানেলগুলো চালায় তাদের অনেকের হাতেখড়ি হয়েছে বিটিভিতে। এই অঞ্চলের এবং বাংলা ভাষার প্রথম টিভি চ্যানেল বিটিভি। ১৯৬৪ সালে এটি স্থাপিত হয়েছিল। ভারতে তখনও টেলিভিশন চ্যানেল হয়নি। সেখানে যেভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং কি পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ, সারি সারি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে আমাদের মিশনের সামনে একটি বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানিরা যোগ দিয়েছিল। বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। একইভাবে আমাদের বিভিন্ন মিশনের সামনে যে বিক্ষোভ হয়েছে সেখানে বিএনপি-জামায়াত চক্র পাকিস্তান কমিউনিটির সহায়তা নিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। সেই সহায়তা নিয়ে এসব জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে এবং গুজব ছড়াচ্ছে। আজকে কূটনীতিকরা যাওয়ার পর অনেকেই বলেছে ‘দিস ইজ শেইম, শেইম’। অনেকেই আমার কাছে তাদের অনুভূতি শেয়ার করেছে, সবাই বলেছে, ‘ইটস ইয়োর ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার, উই আর উইথ ইউ’।

মন্ত্রী বক্তব্যে কূটনৈতিক অঙ্গনে এ সময়কালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাও উঠে আসে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশি মিশনগুলোর কাছে নোট পাঠিয়েছিলাম যে, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এটি নিয়ে যেন বিদেশি দূতাবাসগুলো বা কূটনীতিকরা গণমাধ্যমে কোন বিবৃতি না পাঠায়। তারা সেটি মেনে চলেছে। বিভিন্ন দেশের ৪৯ জন কূটনীতিক এ পরিদর্শনে অংশ নেন। পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন এসময় উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত আর বাংলাদেশি শ্রমশক্তি না নেওয়ার কথাটি সম্পূর্ণ গুজব। আজকেও ইউএইর রাষ্ট্রদূত এটি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বাংলাদেশে সহিংসতা দেখতে চায় না ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার তার এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনার নিন্দা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আমরা বাংলাদেশে সহিংসতা দেখতে চাই না।

নিজ দপ্তরে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ জমায়েতকে সমর্থন করি। আমি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সমর্থন করি। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই প্রতিবাদগুলো শান্তিপূর্ণ হতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর সরকারের কোনো ধরনের সহিংসতা চালানো উচিত নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এ মুখপাত্র বলেন, কিন্তু আমি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলতে চাই, বাংলাদেশজুড়ে চলমান টেলিযোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ার খবরেও আমরা অনেক উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশজুড়ে চলমান টেলিযোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় সেখানে আমেরিকান নাগরিকরাসহ বাংলাদেশের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার সুযোগ বিঘ্নিত হয়েছে।