ভোলায় নেই কোন ঝড়, হয়নি ভূমিকম্প, হঠাৎ ধসে পড়লো প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সুইমিংপুলের ভবনের বিশাল একটি অংশ। এখন কোন হতাহত না হলেও পরবর্তীতে কি হত তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৬ জুলাই) বিকেল চারটার দিকে। এটি ধসে পড়ার পর ঠিকাদারের লোকজন ওই এলাকা কটন করে রাখেন। ঘটনাটি গোপন রাখার চেস্টা করা হয়েছে। মাঠের আশ-পাশ দিয়ে সংবাদ কর্মীতো দুরের কথা, হাটতে দেননি পথচারিদেরও। অনেক কৌশলে ধসের অংশের ছবি সংগ্রহ করতে হয়েছে সংবাদ কর্মীদের। অনেক তথ্যই গোপন রয়ে গেছে। এখন আর স্বাধীন সাংবাদিকতা করার কোন নিরাপত্তা নাই।
জানা গেছে, বাংলাদেশ যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ক্রিড়া পরিষদের অধীনে নির্মিত ভোলা শহরের সরকারি স্কুল মাঠ কনারে সুইমিংপুলটি নির্মান হচ্ছে। সেন্টারিং এর কাজে স্টিল শাটারিংয়ের পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার, স্টিলের বল্লী ব্যবহারের পরিবর্তে বাঁশের বল্লী ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিস্ট ঠিকাদারসহ এ কাজে অনিয়মকারী সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ভোলা জেলাস্থ গজনবী স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন, ইনডোর স্টেডিয়াম এবং সুইমিংপুল নির্মাণ কাজের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে জিওবি প্রকল্পের মাধ্যমে যুবক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৬৭.৭৮ লক্ষ টাকা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজটি পায় রাশেদুজ্জামান টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং এসএ খান (জিবি) কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরপর থেকে কাজ শুরু হলে একে একে উঠে আসে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। যেখানে প্রতিটি ঢালাইয়ে স্টিল শাটারিং ব্যবহার করার কথা থাকলেও এখানে দেখা গেছে কাঠ দিয়ে সেন্টারিং। স্টিলের বল্লীর ব্যবহারের স্থানে ব্যবহার হচ্ছে বাঁশের বল্লী। শুধু তাই নয়, ৩০ ফুট উঁচুতেও বাঁশের বল্লীর মাধ্যমে নিচ থেকে ঠেক দিয়ে কাঠের সেন্টারিং করে তার ওপর রীতিমতো ঢালের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর বাইরেও রর্ড, সিমেন্টসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মধ্য দিয়ে চলা সুইমিংপুলের কাজটি খুবই নিম্নমানের হওয়ায় ধসে পড়ে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া নির্মাণ কাজের নিচ দিয়েই সরকারি স্কুল মাঠের ওয়াকওয়ে হওয়া সত্ত্বেও নির্মাণ সাইটে নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা। সব সময় পথচারীরা হাঁটাচলার কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশেদুজ্জামান টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাইটে দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এরকম ঘটনার জন্য আমরা শঙ্কিত। কারণ নির্মাণ সময়ে ২০জন শ্রমিক উপরে ওঠে কাজ করেছিলো। তখন কোন ধরনের দূর্ঘটনার লক্ষণও ছিলো না। কিন্তু ৩ ঘন্টার পর এমনটি কেনো হলো তার উত্তর দিতে পারেনি তারা। সেন্টারিং বাঁশ ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে বিষয়টি তারা এড়িয়ে গিয়ে সংবাদ কর্মীদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করছেন। বিশাল অংকের কাজটি কোন প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার দেখা শুনা করছেন তার তথ্য সংবাদ লিখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের একটি ঘটনা ভোলার আপামর জনসাধারণকে ভাবিয়ে তুলেছে। প্রতিটি কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকায় একের পর এক অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোলা বাসির।





















