০৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বেতন-বোনাসের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও আন্দোলনে শ্রমিকরা

 

 

গাজীপুরে বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও বার্ষিক ছুটির পাওনার দাবিতে একাধিক কারখানার শ্রমিকরা কারখানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। গতকাল ভোর থেকে মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে, সোমবার ভোরে একটি কারখানার শ্রমিকেরা এই কর্মসূচি শুরু করলেও গতকাল আরো কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

 

জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত সোমবার কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও বার্ষিক ছুটির পাওনা টাকার দাবিতে আন্দোলনে নামেন। কিন্তু গতকাল কেয়া গ্রুপের আরো কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন। দুই বছরের ছুটির টাকা ও ঈদ বোনাস এখনো পাননি শ্রমিকরা। এ কারণে গত সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে কিছু শ্রমিককে শুধু ঈদ বোনাস দেওয়া হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় অন্য শ্রমিকরা গতকাল সকাল থেকে কারখানার সামনে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, গত সোমবার আন্দোলনের মুখে বিকালে শুধু কেয়া স্পিনিং মিলের শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দেওয়া হয়। এর পরও তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যায়। ইফতারের পর স্পিনিং মিলের শ্রমিকদের সঙ্গে কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকেরা যোগ দিয়ে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। রাত ১১টার দিকে রাস্তা থেকে অবরোধ তুলে নেন তারা। কিন্তু মূল ফটকে নাইট শিফটের শ্রমিকরা অবস্থান নেন। গতকাল ভোর ৬টার দিকে সকালের শিফটের শ্রমিকেরা এসে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। তাদের দাবি, গত দুই বছরের ছুটির টাকা ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিতে হবে। স্পিনিং মিলের শ্রমিকদের বোনাস দিয়েছে। আমরা কী অপরাধ করেছি? আমাদের কেন বেতন বোনাস দিচ্ছে না? বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও বার্ষিক ছুটির টাকার দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শ্রমিক বলেন, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শুধু কেয়া স্পিনিং মিলের কিছু শ্রমিককে ঈদ বোনাস দেওয়া হয়। তাদের বকেয়া বেতন ও অর্জিত ছুটির পাওনা দেওয়া হয়নি। এ কারণে কেয়া গ্রুপের সব কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে নেমেছেন। সকাল থেকে কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড ছাড়াও একই দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন কেয়া স্পিনিং মিলস, কেয়া কটন, কেয়া ইয়ার্ন মিলস, কেয়া ডাইং অ্যান্ড নিটিং এবং কেয়া কসমেটিকস কারখানার শ্রমিকরাও।

 

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, কেয়া গ্রুপের বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বেতন, ছুটির টাকা ও বোনাসের দাবিতে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। অধিকাংশ শ্রমিক কারখানার ভেতরে কাজ বন্ধ করে বসে আছেন। কিছু শ্রমিক কারখানার বাইরে অবস্থান করছেন। মালিক ও শ্রমিক দুই পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। হয়তো মালিকপক্ষ আগামী ৭ তারিখের দিকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। তিনি কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। শ্রমিকেরা তার কথা শোনার পর শান্তভাবে অবস্থান গ্রহণ করেন। পরে তিনি মালিকপক্ষকেও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন। শ্রমিকদের দাবিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক। তারা বেতন, অর্জিত ছুটির টাকা ও বোনাস পাচ্ছেন না। এগুলো দ্রুত পরিশোধ করা উচিত। শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। তবে কারখানার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে জানার জন্য কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়াকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেও ব্যস্ততা দেখিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। বলেন, পরে কথা বলছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেতন-বোনাসের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও আন্দোলনে শ্রমিকরা

আপডেট সময় : ০৫:১৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪

 

 

গাজীপুরে বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও বার্ষিক ছুটির পাওনার দাবিতে একাধিক কারখানার শ্রমিকরা কারখানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। গতকাল ভোর থেকে মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে, সোমবার ভোরে একটি কারখানার শ্রমিকেরা এই কর্মসূচি শুরু করলেও গতকাল আরো কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

 

জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত সোমবার কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও বার্ষিক ছুটির পাওনা টাকার দাবিতে আন্দোলনে নামেন। কিন্তু গতকাল কেয়া গ্রুপের আরো কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন। দুই বছরের ছুটির টাকা ও ঈদ বোনাস এখনো পাননি শ্রমিকরা। এ কারণে গত সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে কিছু শ্রমিককে শুধু ঈদ বোনাস দেওয়া হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় অন্য শ্রমিকরা গতকাল সকাল থেকে কারখানার সামনে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, গত সোমবার আন্দোলনের মুখে বিকালে শুধু কেয়া স্পিনিং মিলের শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দেওয়া হয়। এর পরও তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যায়। ইফতারের পর স্পিনিং মিলের শ্রমিকদের সঙ্গে কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকেরা যোগ দিয়ে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। রাত ১১টার দিকে রাস্তা থেকে অবরোধ তুলে নেন তারা। কিন্তু মূল ফটকে নাইট শিফটের শ্রমিকরা অবস্থান নেন। গতকাল ভোর ৬টার দিকে সকালের শিফটের শ্রমিকেরা এসে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। তাদের দাবি, গত দুই বছরের ছুটির টাকা ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিতে হবে। স্পিনিং মিলের শ্রমিকদের বোনাস দিয়েছে। আমরা কী অপরাধ করেছি? আমাদের কেন বেতন বোনাস দিচ্ছে না? বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও বার্ষিক ছুটির টাকার দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শ্রমিক বলেন, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শুধু কেয়া স্পিনিং মিলের কিছু শ্রমিককে ঈদ বোনাস দেওয়া হয়। তাদের বকেয়া বেতন ও অর্জিত ছুটির পাওনা দেওয়া হয়নি। এ কারণে কেয়া গ্রুপের সব কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে নেমেছেন। সকাল থেকে কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড ছাড়াও একই দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন কেয়া স্পিনিং মিলস, কেয়া কটন, কেয়া ইয়ার্ন মিলস, কেয়া ডাইং অ্যান্ড নিটিং এবং কেয়া কসমেটিকস কারখানার শ্রমিকরাও।

 

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, কেয়া গ্রুপের বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বেতন, ছুটির টাকা ও বোনাসের দাবিতে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। অধিকাংশ শ্রমিক কারখানার ভেতরে কাজ বন্ধ করে বসে আছেন। কিছু শ্রমিক কারখানার বাইরে অবস্থান করছেন। মালিক ও শ্রমিক দুই পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। হয়তো মালিকপক্ষ আগামী ৭ তারিখের দিকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। তিনি কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। শ্রমিকেরা তার কথা শোনার পর শান্তভাবে অবস্থান গ্রহণ করেন। পরে তিনি মালিকপক্ষকেও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন। শ্রমিকদের দাবিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক। তারা বেতন, অর্জিত ছুটির টাকা ও বোনাস পাচ্ছেন না। এগুলো দ্রুত পরিশোধ করা উচিত। শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। তবে কারখানার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে জানার জন্য কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়াকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেও ব্যস্ততা দেখিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। বলেন, পরে কথা বলছি।