০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জননিরাপত্তায় অনন্য আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী

⏺দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
⏺সকল প্রকার নির্বাচন, সড়ক, জনপথ ও রেলপথ রক্ষা, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালন
⏺ শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা, মার্কেট এবং জাতীয় সংসদ ভবন, নৌ, বিমান ও স্থলবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধানে এ বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসনীয়

 

 

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে ১৯৪৮ সাল থেকে অদ্যাবধি দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মহান ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে এ বাহিনীর গৌরবময় অবদান রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান, নারীর ক্ষমতায়ন, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সব ধরনের নির্বাচন, সড়ক ও জনপথ রক্ষা, রেলপথ রক্ষা, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালন, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা, মার্কেট এবং জাতীয় সংসদ ভবন, নৌ, বিমান ও স্থলবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধানে এ বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ বাহিনীর ব্যাটালিয়ন সদস্যরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে। এছাড়াও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।

 

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সাফল্য নিয়ে প্রকাশিত ‘বদলে যাওয়ার ১৫ বছর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্রমতে, সুখী, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে দেশের সর্বত্র শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিধান করাই এ বাহিনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

 

গত ২০০৯ হতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আনসারের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। এর মধ্যে রয়েছেÑ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন : ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৫ জন অঙ্গীভূত আনসার ও ৬৮ হাজার ৮১৩ জন ব্যাটালিয়ন আনসার। শারদীয় দূর্গাপূজায় দায়িত্ব পালন : ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ২১২ জন অঙ্গীভূত আনসার। বিশ্ব ইজতেমায় দায়িত্ব পালন : ১৫০০ জন অঙ্গীভূত আনসার ও ৩২১৫ জন ব্যাটালিয়ন আনসার। বাণিজ্য মেলায় দায়িত্ব পালন : ৬৩৫ জন ব্যাটালিয়ন আনসার। মোবাইল কোর্টে দায়িত্ব পালন : ২৮ হাজার ৩২৮ জন ব্যাটালিয়ন আনসার।

 

২০১৩-২০১৪ সালে অপারেশন রেলরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ৮,৩২৮ জন সদস্য ৩৬টি জেলার ১,০৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

২০১৫ সালে ৮,৮৯৬ জন সদস্য ৩৭টি জেলার ১,১১২টি পয়েন্টে রেল নিরাপত্তা রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন
২০১৩-২০১৪ সালে সড়ক ও মহাসড়ক রক্ষা কার্যক্রমে ৯৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ১২ জন করে ১১,৯১৬ জন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তা রক্ষার সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

কেপিআইয়ের নিরাপত্তা : হাসপাতাল-সরকারি/বেসরকারি ৬৭টি হাসপাতালে ৩২৭১ জন অঙ্গীভূত আনসার; ব্যাংক-বিভিন্ন ব্যাংকের ২৫৩১টি শাখায় ৮২৫০ জন অঙ্গীভূত আনসার; পদ্মাসেতু-১৬৬ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-৩৬ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য ও ১১১ জন সাধারণ আনসার সদস্য; হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-ও ১১১১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য; চট্টগ্রাম বন্দর-১০৩২ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য; উপজেলা নির্বাহী অফিসার-এর নিরাপত্তায়-৪৯২০ জন অঙ্গীভূত সশস্ত্র আনসার; বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা-ভাষাণচরে ১০০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার ও উখিয়ায় ১৮৪ জন ব্যাটালিয়ন আনসার; বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন- ১৩২ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; কর্নফুলী টানেল, চট্টগ্রাম-১০০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাগেরহাট-১৫০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, কক্সবাজার-৩২ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স, মেহেরপুর-৭১ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরসমূহ-১৩৫ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য।

 

ব্যাটালিয়ন আনসারে কর্মকাণ্ড পার্বত্য এলাকায় : পার্বত্য এলাকায় ১৬টি পুরুষ ব্যাটালিয়ন আনসারের মোট ৬৪০৫ জন সদস্য তাদের দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও দেশের পার্বত্য এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবহিনীর সঙ্গে ১৪৭টি ক্যাম্পে ২৫৯৮ জন, বিজিবির সঙ্গে ২৪টি ক্যাম্পে ৪০৭ জন, পুলিশের সঙ্গে ৭টি ক্যাম্পে ১০০ জন এবং এই বাহিনীর একক ৬০টি ক্যাম্পে ৭৯২ জনসহ মোট ৬৪০৫ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যগণ মোট ৭৫,৭৬৫টি টহলে অংশগ্রহণ করেছে।

 

সমতল এলাকা : সমতল এলাকায় ২৬টি (এজিবিসহ) পুরুষ ও মহিলা ব্যাটালিয়ন আনসার মোট ৯৬৯৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে ১৩৪৯ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।

 

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন : দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি সাধারণ আনসার সদস্য মৌলিক প্রশিক্ষণে ৮৫,২৫৩ জন, অস্ত্রবিহীন গ্রামভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণে ১০,৫৩,২৮৬ জন, অস্ত্রবিহীন ভিডিপি/টিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণে ৬৩.২৫৬ জন, অস্ত্রসহ ভিডিপি ও হিল ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণে ১,৭০,৮৬১ জন এবং অস্ত্রসহ ইউনিয়ন/ওয়ার্ড দলনেতা-দলনেত্রী মৌলিক প্রশিক্ষণে ২৫,৭০৯ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

 

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৮টি কম্পিউটার, ০৩টি কারিগরি, ১১টি মোটর ড্রাইভিং, ০২টি সেলাই ও ফ্যাশন ডিজাইন ও ০৯টি সেলাই ও ফ্যাশন ডিজাইন (অতিরিক্ত নকশি কাঁথা তৈরি) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। উল্লিখিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ হতে ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ৪১,২০৫ জন, কারিগরি প্রশিক্ষণে ২৩,৬২২ জন, মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে ১১,৯৩৭ জন, নকশি কাঁথা তৈরি প্রশিক্ষণে ৩,৫৪২ জন, সেলাই ও ফ্যাশন ডিজাইন প্রশিক্ষণে ৬,১৪৩ জনসহ বাহিনীর প্রদত্ত ২৪টি আয়বর্ধক প্রশিক্ষণে সর্বমোট ১,১৮,৬৪৪ জন সদস্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের মধ্যে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে ৪৫%, ইলেকট্রিশিয়ান প্রশিক্ষণে ৬৪%, নকশি কাঁথা তৈরি প্রশিক্ষণে ৯০%, সেলাই ও ফ্যাশন ডিজাইন প্রশিক্ষণে ৮৮% প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলা ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা : দুর্যোগ কবলিত এলাকার জনগণ ও গবাদি পশু আশ্রয় কেন্দ্রে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া, আসন্ন দুর্যোগ সম্পর্কে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্যোগ পরবর্তীকালে উদ্ধারসহ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এ বাহিনী কাজ করে। ২০১৯ সালে ২৬টি জেলায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় ৫০০৪ জন, ২০১৯ সালে ১৪টি জেলায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় ৪২,০০০ জন, ২০২২ সালে উপকূলীয় জেলাসমূহে আঘাতহানা ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় ১০,০০০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য/সদস্যা অংশগ্রহণ করেন। ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় উপকূলীয় ১৫টি জেলায় এবং ২০২১ সালে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি জেলাগুলোতে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়। জুন, ২০২২ সালে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম ও নেত্রকোনা জেলার বন্যা কবলিত এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যগণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং বাহিনীর পক্ষ থেকে ০৫টি জেলায় বন্যায় দুর্গতদের ৬,২২৯টি পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

 

ঢাকার বঙ্গবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণ : ঢাকার বঙ্গবাজার ও নিউ সুপার মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৯ জন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদবির ১৯৭ জন আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্য এবং ৩২২ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্বপালন করেছে। ঢাকার গুলিস্তানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৪ জন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদবির ৮৪ জন আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন (এজিবি) সদস্য দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া সম্প্রতি মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, ঢাকার আগুন নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের ২ প্লাটুন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

 

রানা প্লাজা উদ্ধার অভিযান : ২০১৩ সালে সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধসের উদ্ধার অভিযানে ২৫০ জন সাধারণ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
করোনা মোকাবিলা : করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের চাহিদার ভিত্তিতে জরুরিভাবে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নকল্পে নমুনা সংগ্রহ বুথ (ঝধসঢ়ষব ঈড়ষষবপঃরড়হ ইড়ড়ঃয) স্থাপন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণসহ সারা দেশব্যাপী ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ২০২১ সাল হতে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫টি ধাপে সর্বমোট ১,৯৪,৭৪২ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যগণ টিকা (করোনা) কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১ জন সহকারী পরিচালকসহ মোট ২৯ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছে।

 

স্বাস্থ্য সেবা : ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৯টি রেঞ্জের তত্ত্বাবধানে ০১ দিনের ০৯টি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে মোট ১৩,৫৩১ জনকে ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আনসার সদস্যগণের বিনামূল্যে ৮০০০টি নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন, ৮০৯৬টি হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন ও জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধের ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।

 

ক্রীড়া : বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি ক্রীড়া দল ১৯৯২, ১৯৯৬, ২০০২, ২০১৩ এবং সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস-২০২০ এ পরপর পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০০৯ সাল হতে দুটি বাংলাদেশ গেমসসহ অদ্যাবধি জাতীয় পর্যায়ে ২০৩১টি স্বর্ণ, ১২৬৯টি রৌপ্য ও ৮৯৪টি তাম্র পদক অর্জনের মাধ্যমে ৩০০টি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, ৮২টি প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ, ২৩টি প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জন করে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আনসার ও ভিডিপি ক্রীড়াদল ২০১০ সালের সাউথ এশিয়ান গেমসসহ মোট ৪৬টি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৭২টি স্বর্ণ, ৬১টি রৌপ্য এবং ১০৪টি তাম্র পদক অর্জন করে।

কল্যাণমূলক কার্যক্রম গৃহ নির্মাণ : প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিটি গৃহহীনকে গৃহ প্রদানের মহতী উদ্যোগের মূলমন্ত্র ধারণ করে দুস্থ ও অসহায় ভিডিপি সদস্যদের জন্য ৩৫টি গৃহ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এরূপ আরো ৬৫টি গৃহ নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

ক্লাব সমিতি : সদস্যদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নসহ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রমে সহায়তার উদ্দেশে আনসার ও ভিডিপি ক্লাব-সমিতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বৃক্ষরোপণ, পরিবার পরিকল্পনা, যৌতুক ও মাদক নিরোধসহ নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্লাব-সমিতি কাজ করে। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির এরূপ ২২২টি ক্লাব সমিতি সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে।

অনুদান প্রদান : ২০০৯ হতে অদ্যাবধি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৮৭৭ জন মৃত্যুবরণকারী সদস্য-সদস্যাদের পরিবারকে ৪২ কোটি ৯৯ হাজার ৫০ হাজার টাকা এবং চিকিৎসাজনিত কারণে বাহিনীর ১৮,৩০৮ জন সদস্যকে ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৯ টাকার আর্থিক অনুদান প্রাপ্ত হয়েছেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সর্বত্র দেশমাতৃকার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীকে সহায়তা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সংগঠিতকরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সর্বোপরি বাংলাদেশ আনসারও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জননিরাপত্তা রক্ষায়, সন্ত্রাস দমন, জঙ্গিবাদ নির্মূল ও আর্থ-সামজিক উন্নয়নে দেশের একটি অনন্য বাহিনী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জননিরাপত্তায় অনন্য আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

⏺দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
⏺সকল প্রকার নির্বাচন, সড়ক, জনপথ ও রেলপথ রক্ষা, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালন
⏺ শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা, মার্কেট এবং জাতীয় সংসদ ভবন, নৌ, বিমান ও স্থলবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধানে এ বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসনীয়

 

 

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে ১৯৪৮ সাল থেকে অদ্যাবধি দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মহান ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে এ বাহিনীর গৌরবময় অবদান রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান, নারীর ক্ষমতায়ন, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সব ধরনের নির্বাচন, সড়ক ও জনপথ রক্ষা, রেলপথ রক্ষা, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালন, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা, মার্কেট এবং জাতীয় সংসদ ভবন, নৌ, বিমান ও স্থলবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধানে এ বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ বাহিনীর ব্যাটালিয়ন সদস্যরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে। এছাড়াও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।

 

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সাফল্য নিয়ে প্রকাশিত ‘বদলে যাওয়ার ১৫ বছর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্রমতে, সুখী, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে দেশের সর্বত্র শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিধান করাই এ বাহিনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

 

গত ২০০৯ হতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আনসারের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। এর মধ্যে রয়েছেÑ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন : ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৫ জন অঙ্গীভূত আনসার ও ৬৮ হাজার ৮১৩ জন ব্যাটালিয়ন আনসার। শারদীয় দূর্গাপূজায় দায়িত্ব পালন : ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ২১২ জন অঙ্গীভূত আনসার। বিশ্ব ইজতেমায় দায়িত্ব পালন : ১৫০০ জন অঙ্গীভূত আনসার ও ৩২১৫ জন ব্যাটালিয়ন আনসার। বাণিজ্য মেলায় দায়িত্ব পালন : ৬৩৫ জন ব্যাটালিয়ন আনসার। মোবাইল কোর্টে দায়িত্ব পালন : ২৮ হাজার ৩২৮ জন ব্যাটালিয়ন আনসার।

 

২০১৩-২০১৪ সালে অপারেশন রেলরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ৮,৩২৮ জন সদস্য ৩৬টি জেলার ১,০৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

২০১৫ সালে ৮,৮৯৬ জন সদস্য ৩৭টি জেলার ১,১১২টি পয়েন্টে রেল নিরাপত্তা রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন
২০১৩-২০১৪ সালে সড়ক ও মহাসড়ক রক্ষা কার্যক্রমে ৯৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ১২ জন করে ১১,৯১৬ জন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তা রক্ষার সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

কেপিআইয়ের নিরাপত্তা : হাসপাতাল-সরকারি/বেসরকারি ৬৭টি হাসপাতালে ৩২৭১ জন অঙ্গীভূত আনসার; ব্যাংক-বিভিন্ন ব্যাংকের ২৫৩১টি শাখায় ৮২৫০ জন অঙ্গীভূত আনসার; পদ্মাসেতু-১৬৬ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-৩৬ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য ও ১১১ জন সাধারণ আনসার সদস্য; হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-ও ১১১১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য; চট্টগ্রাম বন্দর-১০৩২ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য; উপজেলা নির্বাহী অফিসার-এর নিরাপত্তায়-৪৯২০ জন অঙ্গীভূত সশস্ত্র আনসার; বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা-ভাষাণচরে ১০০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার ও উখিয়ায় ১৮৪ জন ব্যাটালিয়ন আনসার; বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন- ১৩২ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; কর্নফুলী টানেল, চট্টগ্রাম-১০০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাগেরহাট-১৫০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, কক্সবাজার-৩২ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স, মেহেরপুর-৭১ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য; প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরসমূহ-১৩৫ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য।

 

ব্যাটালিয়ন আনসারে কর্মকাণ্ড পার্বত্য এলাকায় : পার্বত্য এলাকায় ১৬টি পুরুষ ব্যাটালিয়ন আনসারের মোট ৬৪০৫ জন সদস্য তাদের দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও দেশের পার্বত্য এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবহিনীর সঙ্গে ১৪৭টি ক্যাম্পে ২৫৯৮ জন, বিজিবির সঙ্গে ২৪টি ক্যাম্পে ৪০৭ জন, পুলিশের সঙ্গে ৭টি ক্যাম্পে ১০০ জন এবং এই বাহিনীর একক ৬০টি ক্যাম্পে ৭৯২ জনসহ মোট ৬৪০৫ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যগণ মোট ৭৫,৭৬৫টি টহলে অংশগ্রহণ করেছে।

 

সমতল এলাকা : সমতল এলাকায় ২৬টি (এজিবিসহ) পুরুষ ও মহিলা ব্যাটালিয়ন আনসার মোট ৯৬৯৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে ১৩৪৯ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।

 

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন : দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি সাধারণ আনসার সদস্য মৌলিক প্রশিক্ষণে ৮৫,২৫৩ জন, অস্ত্রবিহীন গ্রামভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণে ১০,৫৩,২৮৬ জন, অস্ত্রবিহীন ভিডিপি/টিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণে ৬৩.২৫৬ জন, অস্ত্রসহ ভিডিপি ও হিল ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণে ১,৭০,৮৬১ জন এবং অস্ত্রসহ ইউনিয়ন/ওয়ার্ড দলনেতা-দলনেত্রী মৌলিক প্রশিক্ষণে ২৫,৭০৯ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

 

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৮টি কম্পিউটার, ০৩টি কারিগরি, ১১টি মোটর ড্রাইভিং, ০২টি সেলাই ও ফ্যাশন ডিজাইন ও ০৯টি সেলাই ও ফ্যাশন ডিজাইন (অতিরিক্ত নকশি কাঁথা তৈরি) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। উল্লিখিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ হতে ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ৪১,২০৫ জন, কারিগরি প্রশিক্ষণে ২৩,৬২২ জন, মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে ১১,৯৩৭ জন, নকশি কাঁথা তৈরি প্রশিক্ষণে ৩,৫৪২ জন, সেলাই ও ফ্যাশন ডিজাইন প্রশিক্ষণে ৬,১৪৩ জনসহ বাহিনীর প্রদত্ত ২৪টি আয়বর্ধক প্রশিক্ষণে সর্বমোট ১,১৮,৬৪৪ জন সদস্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের মধ্যে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে ৪৫%, ইলেকট্রিশিয়ান প্রশিক্ষণে ৬৪%, নকশি কাঁথা তৈরি প্রশিক্ষণে ৯০%, সেলাই ও ফ্যাশন ডিজাইন প্রশিক্ষণে ৮৮% প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলা ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা : দুর্যোগ কবলিত এলাকার জনগণ ও গবাদি পশু আশ্রয় কেন্দ্রে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া, আসন্ন দুর্যোগ সম্পর্কে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্যোগ পরবর্তীকালে উদ্ধারসহ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এ বাহিনী কাজ করে। ২০১৯ সালে ২৬টি জেলায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় ৫০০৪ জন, ২০১৯ সালে ১৪টি জেলায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় ৪২,০০০ জন, ২০২২ সালে উপকূলীয় জেলাসমূহে আঘাতহানা ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় ১০,০০০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য/সদস্যা অংশগ্রহণ করেন। ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় উপকূলীয় ১৫টি জেলায় এবং ২০২১ সালে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি জেলাগুলোতে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়। জুন, ২০২২ সালে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম ও নেত্রকোনা জেলার বন্যা কবলিত এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যগণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং বাহিনীর পক্ষ থেকে ০৫টি জেলায় বন্যায় দুর্গতদের ৬,২২৯টি পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

 

ঢাকার বঙ্গবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণ : ঢাকার বঙ্গবাজার ও নিউ সুপার মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৯ জন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদবির ১৯৭ জন আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্য এবং ৩২২ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্বপালন করেছে। ঢাকার গুলিস্তানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৪ জন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদবির ৮৪ জন আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন (এজিবি) সদস্য দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া সম্প্রতি মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, ঢাকার আগুন নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের ২ প্লাটুন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

 

রানা প্লাজা উদ্ধার অভিযান : ২০১৩ সালে সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধসের উদ্ধার অভিযানে ২৫০ জন সাধারণ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
করোনা মোকাবিলা : করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের চাহিদার ভিত্তিতে জরুরিভাবে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নকল্পে নমুনা সংগ্রহ বুথ (ঝধসঢ়ষব ঈড়ষষবপঃরড়হ ইড়ড়ঃয) স্থাপন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণসহ সারা দেশব্যাপী ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ২০২১ সাল হতে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫টি ধাপে সর্বমোট ১,৯৪,৭৪২ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যগণ টিকা (করোনা) কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১ জন সহকারী পরিচালকসহ মোট ২৯ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছে।

 

স্বাস্থ্য সেবা : ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৯টি রেঞ্জের তত্ত্বাবধানে ০১ দিনের ০৯টি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে মোট ১৩,৫৩১ জনকে ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আনসার সদস্যগণের বিনামূল্যে ৮০০০টি নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন, ৮০৯৬টি হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন ও জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধের ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।

 

ক্রীড়া : বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি ক্রীড়া দল ১৯৯২, ১৯৯৬, ২০০২, ২০১৩ এবং সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস-২০২০ এ পরপর পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০০৯ সাল হতে দুটি বাংলাদেশ গেমসসহ অদ্যাবধি জাতীয় পর্যায়ে ২০৩১টি স্বর্ণ, ১২৬৯টি রৌপ্য ও ৮৯৪টি তাম্র পদক অর্জনের মাধ্যমে ৩০০টি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, ৮২টি প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ, ২৩টি প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জন করে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আনসার ও ভিডিপি ক্রীড়াদল ২০১০ সালের সাউথ এশিয়ান গেমসসহ মোট ৪৬টি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৭২টি স্বর্ণ, ৬১টি রৌপ্য এবং ১০৪টি তাম্র পদক অর্জন করে।

কল্যাণমূলক কার্যক্রম গৃহ নির্মাণ : প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিটি গৃহহীনকে গৃহ প্রদানের মহতী উদ্যোগের মূলমন্ত্র ধারণ করে দুস্থ ও অসহায় ভিডিপি সদস্যদের জন্য ৩৫টি গৃহ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এরূপ আরো ৬৫টি গৃহ নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

ক্লাব সমিতি : সদস্যদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নসহ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রমে সহায়তার উদ্দেশে আনসার ও ভিডিপি ক্লাব-সমিতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বৃক্ষরোপণ, পরিবার পরিকল্পনা, যৌতুক ও মাদক নিরোধসহ নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্লাব-সমিতি কাজ করে। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির এরূপ ২২২টি ক্লাব সমিতি সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে।

অনুদান প্রদান : ২০০৯ হতে অদ্যাবধি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৮৭৭ জন মৃত্যুবরণকারী সদস্য-সদস্যাদের পরিবারকে ৪২ কোটি ৯৯ হাজার ৫০ হাজার টাকা এবং চিকিৎসাজনিত কারণে বাহিনীর ১৮,৩০৮ জন সদস্যকে ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৯ টাকার আর্থিক অনুদান প্রাপ্ত হয়েছেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সর্বত্র দেশমাতৃকার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীকে সহায়তা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সংগঠিতকরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সর্বোপরি বাংলাদেশ আনসারও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জননিরাপত্তা রক্ষায়, সন্ত্রাস দমন, জঙ্গিবাদ নির্মূল ও আর্থ-সামজিক উন্নয়নে দেশের একটি অনন্য বাহিনী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।