০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কেন-কীভাবে পড়বেন শবে কদরের নামাজ

‘লাইলতুল কদর’ আরবি শব্দ। শবে কদর হলো ‘লাইলাতুল কদর’-এর ফারসি পরিভাষা। কয়েক শতাব্দী মুঘল শাসন এবং উপমহাদেশে ফারসি রাজকীয় ভাষা থাকার কারণে ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিচার-আচারের বহু ফারসি শব্দ আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। ‘সালাতের’ পরিবর্তে নামাজ, ‘সাওমের’ পরিবর্তে রোজার মতো লাইলাতুল কদরের ফারসি পরিভাষা শবে কদর সাধারণ মানুষের কাছে তাই বেশি পরিচিত। ‘শব’ অর্থ রাত, আর আরবি ‘লাইলাতুন’ শব্দের অর্থও রাত বা রজনী। কদর অর্থ সম্মানিত, মহিমান্বিত। সুতরাং লাইলাতুল কদরের অর্থ সম্মানিত রজনী বা মহিমান্বিত রজনী।

পবিত্র কোরান ও সহিহ-হাদিস দ্বারা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত। পবিত্র কোরআন, নির্ভরযোগ্য হাদিস এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর লাইলাতুল কদরের জন্য গৃহীত কর্মতৎপরতা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ সম্মানিত রজনীর গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি কোরানকে কদরের রাতে নাজিল করেছি। তুমি কি জানো, কদরের রাত কি? কদরের রাত হাজার মাস হতে উত্তম-কল্যাণময়।’ (সূরা আল কদর : ১-৩)।

 

এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘রমজান এমন মাস যাতে কোরান নাজিল হয়েছে-’ (বাকারা : ১৮৫)। এ রাতটি রমজানের কোন তারিখে? রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি রহস্যময় কারণে তারিখটি সুনির্দিষ্ট করেননি। ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিজি কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে- হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘কদরের রাতকে রমজানের শেষ দশ রাতের কোনো বিজোড় রাতে খোঁজ কর’।
এ রাতের আরও একটি গুরুত্ব হলো এ পবিত্র রাতেই কোরান নাজিল হয়েছে। আর কোরানের সঙ্গেই মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। এ জন্য কদরের আর একটি অর্থ হলো- ভাগ্য। তাহলে লাইলাতুল কদরের অর্থ হয় ভাগ্যরজনী। যে মানুষ, যে সমাজ, যে জাতি, কোরানকে বাস্তব জীবন বিধান হিসেবে গ্রহণ করবে- তারা পার্থিব ও পরকালীন জীবনে সম্মানিত হবে।

প্রতিবছর ২৬ রমজানর দিবাগত রাতে ‘লাইলাতুল কদর’ পালন করা হয়। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ রাতটি কাটান। আল্লাহ মহিমান্বিত এই রাতে কোরান নাজিল করেছেন। এ রাতকে হাজার মাসের চেয়ে মর্যাদাবান ঘোষণা করেছেন তিনি।

শবে কদরের নামাজের নিয়ত-
‘নাওয়াইতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল লাইলাতিল কাদরি নাফলি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর।’
অর্থ: আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম আল্লাহু আকবর।

 

শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম-
শবে কদরের নামাজ দুই রাকাত করে চার রাকাত পড়তে হয়। এরপর যত ইচ্ছা নফল নামাজ পড়া যায়। এই নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একবার সূরা কদর ও তিনবার সূরা ইখলাস পড়তে হয়।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক

জনপ্রিয় সংবাদ

কেন-কীভাবে পড়বেন শবে কদরের নামাজ

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

‘লাইলতুল কদর’ আরবি শব্দ। শবে কদর হলো ‘লাইলাতুল কদর’-এর ফারসি পরিভাষা। কয়েক শতাব্দী মুঘল শাসন এবং উপমহাদেশে ফারসি রাজকীয় ভাষা থাকার কারণে ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিচার-আচারের বহু ফারসি শব্দ আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। ‘সালাতের’ পরিবর্তে নামাজ, ‘সাওমের’ পরিবর্তে রোজার মতো লাইলাতুল কদরের ফারসি পরিভাষা শবে কদর সাধারণ মানুষের কাছে তাই বেশি পরিচিত। ‘শব’ অর্থ রাত, আর আরবি ‘লাইলাতুন’ শব্দের অর্থও রাত বা রজনী। কদর অর্থ সম্মানিত, মহিমান্বিত। সুতরাং লাইলাতুল কদরের অর্থ সম্মানিত রজনী বা মহিমান্বিত রজনী।

পবিত্র কোরান ও সহিহ-হাদিস দ্বারা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত। পবিত্র কোরআন, নির্ভরযোগ্য হাদিস এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর লাইলাতুল কদরের জন্য গৃহীত কর্মতৎপরতা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ সম্মানিত রজনীর গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি কোরানকে কদরের রাতে নাজিল করেছি। তুমি কি জানো, কদরের রাত কি? কদরের রাত হাজার মাস হতে উত্তম-কল্যাণময়।’ (সূরা আল কদর : ১-৩)।

 

এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘রমজান এমন মাস যাতে কোরান নাজিল হয়েছে-’ (বাকারা : ১৮৫)। এ রাতটি রমজানের কোন তারিখে? রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি রহস্যময় কারণে তারিখটি সুনির্দিষ্ট করেননি। ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিজি কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে- হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘কদরের রাতকে রমজানের শেষ দশ রাতের কোনো বিজোড় রাতে খোঁজ কর’।
এ রাতের আরও একটি গুরুত্ব হলো এ পবিত্র রাতেই কোরান নাজিল হয়েছে। আর কোরানের সঙ্গেই মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। এ জন্য কদরের আর একটি অর্থ হলো- ভাগ্য। তাহলে লাইলাতুল কদরের অর্থ হয় ভাগ্যরজনী। যে মানুষ, যে সমাজ, যে জাতি, কোরানকে বাস্তব জীবন বিধান হিসেবে গ্রহণ করবে- তারা পার্থিব ও পরকালীন জীবনে সম্মানিত হবে।

প্রতিবছর ২৬ রমজানর দিবাগত রাতে ‘লাইলাতুল কদর’ পালন করা হয়। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ রাতটি কাটান। আল্লাহ মহিমান্বিত এই রাতে কোরান নাজিল করেছেন। এ রাতকে হাজার মাসের চেয়ে মর্যাদাবান ঘোষণা করেছেন তিনি।

শবে কদরের নামাজের নিয়ত-
‘নাওয়াইতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল লাইলাতিল কাদরি নাফলি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর।’
অর্থ: আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম আল্লাহু আকবর।

 

শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম-
শবে কদরের নামাজ দুই রাকাত করে চার রাকাত পড়তে হয়। এরপর যত ইচ্ছা নফল নামাজ পড়া যায়। এই নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একবার সূরা কদর ও তিনবার সূরা ইখলাস পড়তে হয়।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক