০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুড়িগঙ্গার কালো পানিতে হাজার কোটি টাকা

  • আলোর মুখ দেখেনি যমুনার পানি বুড়িগঙ্গায় আনার প্রকল্প
  • প্রকল্পের নামে পানিতে ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা
  • দূষণ বর্জ্যে অক্সিজেনহীন বুড়িগঙ্গার পানি

বুড়িগঙ্গার পানির স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তার কোনো সমাধান আসেনি। বরঞ্চ দূষণ, বর্জ্যে দিন দিন কালো হয়েছে বুড়িগঙ্গার পানি। বুড়িগঙ্গার পানির স্বচ্ছতা ফেরাতে ২০০৬ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয় যমুনা নদীর পানি বুড়িগঙ্গায় এনে বাড়ানো হবে বুড়িগঙ্গার পানির মান। ২০১০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ‘বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চললেও বুড়িগঙ্গায় আনা সম্ভব হয়নি যমুনার পানি। মাঝ থেকে সরকারের গচ্চা গেছে ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকা চারপাশের নদীর পানি দূষণমুক্ত করতে যমুনা থেকে বুড়িগঙ্গা নদীতে পানি সরবরাহ করতে ২০০৬ সালে ‘বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬১০ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি অর্থায়নে ৯৪৪ কোটি ৯ লাখ ৭ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় সংবলিত ডিপিপিটি ২০১০ সালের ৪ জুন একনেক বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পের সার সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নদীর উৎস মুখে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি সমস্যা সমাধানের মূল লক্ষ্য। নিউ ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ নদী খননের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদী হতে ২৪৫ কিউসেক পানি সরবরাহ করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ১৪১ কিউসেক পানির প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে পানির দূষণ সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনা এবং নদীর নাব্য বৃদ্ধি করা যাবে। তাই ২০০৪ সালে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) সমীক্ষার মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ‘বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার (নিউ ধলেশ্বরী-পুংলি-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম)’ শীর্ষক এক প্রকল্প ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। ২০১০ সালের ৪ জুন প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। জানা যায়, ডিপিপি সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটি ২০১০ সালের জুন থেকে শুরু হয়ে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তা সম্ভব না হওয়ায় প্রথম দফায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। পরে তা আরো এক বছর বৃদ্ধি করে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় ধরা হয়। তাও ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে আরো সাড়ে চার বছর বৃদ্ধি করে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়।

সেটাও সম্ভব্য না হওয়ায় ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময় ধরা হয়। তাও ব্যর্থ হওয়ায় সর্বশেষ ২০২২ সালের জুন সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সবশেষ ২০২৩ সালে প্রকল্পের ইতি টান হয়। তবে হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও কাজরে কাজ হয়নি। যমুনার পানি তো আসেইনি, দুষণে বুড়িগঙ্গার পানি আরো কালো হয়েছে। কম করে হলেও ৫০ হাজার টন বিষাক্ত কঠিন ও তরল বর্জ্য মিশছে প্রতিদিন। স্যুয়ারেজ, শিল্প বর্জ্যের লাইনগুলো বিচ্ছিন্ন হয়নি একটিও। দূষণে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে; ক্রমশ হচ্ছে ভরাট ও দখল। যমুনা সেতু’র তিন কিলোমিটার ভাটিতে নতুন ধলেশ্বরীর উৎসমুখ হতে পানি নিউ ধলেশ্বরী, পুংলী, বংশাই, বংশী, তুরাগ হয়ে বুড়িগঙ্গায় ঢোকার কথা ছিল। কিন্তু, ড্রেজিংয়ের নামে প্রকল্পের অব্যবস্থাপনায় নদীর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এখানে ড্রেজিংয়ে ত্রুটি রয়েছে, অব্যবস্থাপনা রয়েছে; ঠিক তেমনিভাবে সদিচ্ছারও ঘাটতি রয়েছে। যার কারণে আমরা দেখি জলের টাকা জলেই যায়, পানি আর পৌঁছায় না ঢাকার বুড়িগঙ্গায়। বাংলাদেশ ওয়াটার ডেভলাপমেন্ট বোর্ডের ঢাকা ডাব্লিডি সার্কেল-১ প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বলেন, যতোখানি গভীরে এবং যতখানি চওড়ায় আসার কথা ছিল দুইটা কোনোভাবেই সমন্বয় করা যাচ্ছে না। যমুনা নদীতে প্রচুর পরিমাণে পলি রয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) গত মার্চে এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বুড়িগঙ্গা নদীর পানি এখন প্রায় অক্সিজেনশূন্য। নদীর প্রতি লিটার পানিতে এখন অক্সিজেনের মাত্রা শূন্য দশমিক এক ছয়, যার স্বাভাবিক মাত্রা চার। নদীর বর্তমান অবস্থায় কোনো জলজ প্রাণির বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। কারখানা ও পয়ঃবর্জ্য নির্বিচারে পড়ছে নদীতে।

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রির্সাচ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ এজাজ বলেন, প্রকল্পটার নকশা ও সমীক্ষাতেই ভুল ছিল। মূলত বুড়িগঙ্গায় পানি আসে বেশিরভাগ তুরাগ থেকে ও কিছু পানি আসে ধ্বলেশ্বরী থেকে। কিন্তু আপনি শুধু আপানার এলাকায় পরিষ্কার করলেন, কিন্তু যেখান থেকে পানি আসছে সেখানে পরিষ্কার করলেন না তাহলে তো সমাধান হবে না। বুড়িগঙ্গার দুইধারে যত কারকাখানাজনিত দূষণ হয়, গাজিপুরে যত কারাখানাজনিত দূষণ হয় আগে সেগুলো বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, আমাদের দেশে প্রকল্প মানেই কিছু মানুষকে সুবিধা দেওয়া হয়, লুটপাট হয়, মূল কাজ হয় না। নদী দিবসেও আমরা বুড়িগঙ্গা সফরে দেখেছি নদীর পানির মানের কোনো পরিবর্তন নেই। কলকরিখানার বর্জ্য, পয় বর্জ্য, ড্রেনের পানি সব বুড়িগঙ্গাতে আসছে। শুধু বুড়িগঙ্গার পানি না ঢাকার আশেপাশের সব নদীর এক অবস্থা। একদিকে প্রকল্প নিচ্ছেন কিন্তু যে কারণে নদী দূষণ হচ্ছে সেগুলে বন্ধ করছেন না।

বুড়িগঙ্গার কালো পানিতে হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় : ১১:১৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ এপ্রিল ২০২৪
  • আলোর মুখ দেখেনি যমুনার পানি বুড়িগঙ্গায় আনার প্রকল্প
  • প্রকল্পের নামে পানিতে ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা
  • দূষণ বর্জ্যে অক্সিজেনহীন বুড়িগঙ্গার পানি

বুড়িগঙ্গার পানির স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তার কোনো সমাধান আসেনি। বরঞ্চ দূষণ, বর্জ্যে দিন দিন কালো হয়েছে বুড়িগঙ্গার পানি। বুড়িগঙ্গার পানির স্বচ্ছতা ফেরাতে ২০০৬ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয় যমুনা নদীর পানি বুড়িগঙ্গায় এনে বাড়ানো হবে বুড়িগঙ্গার পানির মান। ২০১০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ‘বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চললেও বুড়িগঙ্গায় আনা সম্ভব হয়নি যমুনার পানি। মাঝ থেকে সরকারের গচ্চা গেছে ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকা চারপাশের নদীর পানি দূষণমুক্ত করতে যমুনা থেকে বুড়িগঙ্গা নদীতে পানি সরবরাহ করতে ২০০৬ সালে ‘বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬১০ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি অর্থায়নে ৯৪৪ কোটি ৯ লাখ ৭ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় সংবলিত ডিপিপিটি ২০১০ সালের ৪ জুন একনেক বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পের সার সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নদীর উৎস মুখে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি সমস্যা সমাধানের মূল লক্ষ্য। নিউ ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ নদী খননের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদী হতে ২৪৫ কিউসেক পানি সরবরাহ করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ১৪১ কিউসেক পানির প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে পানির দূষণ সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনা এবং নদীর নাব্য বৃদ্ধি করা যাবে। তাই ২০০৪ সালে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) সমীক্ষার মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ‘বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার (নিউ ধলেশ্বরী-পুংলি-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম)’ শীর্ষক এক প্রকল্প ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। ২০১০ সালের ৪ জুন প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। জানা যায়, ডিপিপি সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটি ২০১০ সালের জুন থেকে শুরু হয়ে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তা সম্ভব না হওয়ায় প্রথম দফায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। পরে তা আরো এক বছর বৃদ্ধি করে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় ধরা হয়। তাও ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে আরো সাড়ে চার বছর বৃদ্ধি করে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়।

সেটাও সম্ভব্য না হওয়ায় ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময় ধরা হয়। তাও ব্যর্থ হওয়ায় সর্বশেষ ২০২২ সালের জুন সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সবশেষ ২০২৩ সালে প্রকল্পের ইতি টান হয়। তবে হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও কাজরে কাজ হয়নি। যমুনার পানি তো আসেইনি, দুষণে বুড়িগঙ্গার পানি আরো কালো হয়েছে। কম করে হলেও ৫০ হাজার টন বিষাক্ত কঠিন ও তরল বর্জ্য মিশছে প্রতিদিন। স্যুয়ারেজ, শিল্প বর্জ্যের লাইনগুলো বিচ্ছিন্ন হয়নি একটিও। দূষণে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে; ক্রমশ হচ্ছে ভরাট ও দখল। যমুনা সেতু’র তিন কিলোমিটার ভাটিতে নতুন ধলেশ্বরীর উৎসমুখ হতে পানি নিউ ধলেশ্বরী, পুংলী, বংশাই, বংশী, তুরাগ হয়ে বুড়িগঙ্গায় ঢোকার কথা ছিল। কিন্তু, ড্রেজিংয়ের নামে প্রকল্পের অব্যবস্থাপনায় নদীর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এখানে ড্রেজিংয়ে ত্রুটি রয়েছে, অব্যবস্থাপনা রয়েছে; ঠিক তেমনিভাবে সদিচ্ছারও ঘাটতি রয়েছে। যার কারণে আমরা দেখি জলের টাকা জলেই যায়, পানি আর পৌঁছায় না ঢাকার বুড়িগঙ্গায়। বাংলাদেশ ওয়াটার ডেভলাপমেন্ট বোর্ডের ঢাকা ডাব্লিডি সার্কেল-১ প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বলেন, যতোখানি গভীরে এবং যতখানি চওড়ায় আসার কথা ছিল দুইটা কোনোভাবেই সমন্বয় করা যাচ্ছে না। যমুনা নদীতে প্রচুর পরিমাণে পলি রয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) গত মার্চে এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বুড়িগঙ্গা নদীর পানি এখন প্রায় অক্সিজেনশূন্য। নদীর প্রতি লিটার পানিতে এখন অক্সিজেনের মাত্রা শূন্য দশমিক এক ছয়, যার স্বাভাবিক মাত্রা চার। নদীর বর্তমান অবস্থায় কোনো জলজ প্রাণির বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। কারখানা ও পয়ঃবর্জ্য নির্বিচারে পড়ছে নদীতে।

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রির্সাচ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ এজাজ বলেন, প্রকল্পটার নকশা ও সমীক্ষাতেই ভুল ছিল। মূলত বুড়িগঙ্গায় পানি আসে বেশিরভাগ তুরাগ থেকে ও কিছু পানি আসে ধ্বলেশ্বরী থেকে। কিন্তু আপনি শুধু আপানার এলাকায় পরিষ্কার করলেন, কিন্তু যেখান থেকে পানি আসছে সেখানে পরিষ্কার করলেন না তাহলে তো সমাধান হবে না। বুড়িগঙ্গার দুইধারে যত কারকাখানাজনিত দূষণ হয়, গাজিপুরে যত কারাখানাজনিত দূষণ হয় আগে সেগুলো বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, আমাদের দেশে প্রকল্প মানেই কিছু মানুষকে সুবিধা দেওয়া হয়, লুটপাট হয়, মূল কাজ হয় না। নদী দিবসেও আমরা বুড়িগঙ্গা সফরে দেখেছি নদীর পানির মানের কোনো পরিবর্তন নেই। কলকরিখানার বর্জ্য, পয় বর্জ্য, ড্রেনের পানি সব বুড়িগঙ্গাতে আসছে। শুধু বুড়িগঙ্গার পানি না ঢাকার আশেপাশের সব নদীর এক অবস্থা। একদিকে প্রকল্প নিচ্ছেন কিন্তু যে কারণে নদী দূষণ হচ্ছে সেগুলে বন্ধ করছেন না।