০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চবির চারুকলা ইন্সটিটিউটের হলে আটকে রেখে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইন্সটিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতন ও পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত রাখার অভিযোগ উঠেছে কয়েজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী স্বাগত দাস চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার স্বাগত দাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রোববার (২৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের রশিদ চৌধুরী আবাসিক হলে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রক্টর বরাবর চিঠি দেন ভুক্তভোগী স্বাগত দাস। এ ঘটনায় মারধরের শিকার চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০২০-২১ সেশনের তুষার দে নামে আরেকজন শিক্ষার্থীও প্রক্টর বরাবর চিঠি দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন, চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০২-২১ সেশনের আলমাস মাহফুজ রাফিদ (মূল যেতা), ফরহাদ হোসেন সুমন, সাগর রয় অনিক ও মেহেদী হাসান। অভিযুক্ত ৪ জনই চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, আজ ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮ টায় শহরে চারুকলা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আমি বাস থেকে নামার পর আলমাস (২০-২১) আমাকে জোরপূর্বক রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ১নং রুমে নিয়ে আটকে রাখে। ওই রুমে চারজন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধর শুরু করে। পালাক্রমে আলমাস , সুমন মেহেদী, সাগর। সবাই চারুকলা (২০-২১) সেশনের শিক্ষার্থী।
এতে আরোও উল্লেখ করা হয়, আমাকে মারধর শেষে আলমাস হাতে ও গলায় জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। তারা আমাকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করে এবং আমার বর্ষ ‘ফিগার স্টাডি’ কোর্স-১০৩ পরীক্ষা দিতে দেয় নি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাই, এবং আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী স্বাগত দাস  বলেন, আমি পরীক্ষা দিতে সকালে শহরে চারুকলা ইন্সটিটিউটে যাই। ইন্সটিটিউটের সামনে বাস থেকে নামার পরে আলমাস ও তার সাথের কয়েকজন মিলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং আমাকে একটি রুমে আটকে রাখে। আমি সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসতে চাইলে তারা আমাকে মারধর শুরু করে এবং সিগারেট দিয়ে আমার হাত এবং গলা পুড়িয়ে ফেলে।
ভুক্তভোগী আরোও জানান, পরবর্তীতে তুষার দে (২০-২১) নামের আরেক ভাই এসে আমাকে বাঁচাতে চাইলে উনাকেও তারা মারধর শুরু করে। তাঁকে কেন মারধর করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমাকে কেন মারধর করেছে আমি জানিনা। তাদের সাথে আমার পূর্বের কোন শত্রুতা নেই তবে আমাদের ‘সিএফসি’ ও ‘ভিএক্স’ গ্রুপের মধ্যে ঝামেলার জন্যই হয়তো আমাকে মারধর করেছে। আর আলমাস, উনি আমার ডিপার্ট্মেন্টের সিনিয়র। উনার সাথে আমি একই মেসে থেকেছি। তবুও কেন তারা আমাকে মেরেছে আমি জানিনা।
ভুক্তভোগী স্বাগত দাসকে বাঁচাতে আসা চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০২০-২১ সেশনের তুষার দে  বলেন, স্বাগতকে মারছে দেখে আমি তাঁকে সেইফ করতে গেলে আমাকেও মুখে ঘুসি মারে আলমাস। আমার সাথেও তারা হাতাহাতি করে। আমি প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মূল হোতা আলমাস মাহফুজ রাফিদকে মোটোফোনে বারংবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি সারা দেননি।
যদিও রুমে আটকে রাখা ও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আরেক অভিযুক্ত অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন সুমন। তিনি বলেন, এমন একটি ঘটনা ঘটেছে সকালে। তবে এর সাথে আমি জড়িত নই। আমার ব্যাচমেট আলমাস ও জুনিয়র স্বাগতের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মেহেদী হাসান নামের আরেক অভিযুক্ত। তিনি বলেন, এটা স্বাগত (ভুক্তভোগী) ও আলমাসের (অভিযুক্ত) মধ্যেকার ঘটনা। তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা থেকেই এমন হয়েছে। মারধরের সাথে আমি সম্পৃক্ত নই।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক ও ভিএক্স গ্রুপের নেতা মাহির মোহাম্মদ মাহফুজ বলেন, আমি পারিবারিক কিছু কাজে ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। যদি এরকম ঘটে থাকে সে যেই গ্রুপের হোক না কেন তার বিচার হতে হবে।
মারধরের বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সাদাফ খান বলেন, প্রশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে এই ন্যাকারজনক কর্মকান্ডের বিচার করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন বাদি হয়ে মামলা করতে হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছি এবং প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এ বিষয়ে চারুকলা ইন্সটিটিউটের পরিচালক সুফিয়া বেগম বলেন, যখন ঘটনাটি ঘটে তখন আমি মূল ক্যাম্পাসে একটি প্রোগ্রামে ছিলাম। আমি তাকে (ভুক্তভোগী) প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিতে বলেছি। এরকম কিছু ঘটে থাকলে মূল অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তি আওতায় আনতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. অহিদুল আলম বলেন, এটি একটি বিবেক বিবর্জিত কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়ায় একটি ন্যক্কারজনক কাজ। আগামীকাল প্রক্টর অফিসে এ নিয়ে মিটিংয়ে আলোচনা ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

বৃহস্পতিবার রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

চবির চারুকলা ইন্সটিটিউটের হলে আটকে রেখে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ 

আপডেট সময় : ০৮:৩২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইন্সটিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতন ও পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত রাখার অভিযোগ উঠেছে কয়েজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী স্বাগত দাস চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার স্বাগত দাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রোববার (২৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের রশিদ চৌধুরী আবাসিক হলে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রক্টর বরাবর চিঠি দেন ভুক্তভোগী স্বাগত দাস। এ ঘটনায় মারধরের শিকার চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০২০-২১ সেশনের তুষার দে নামে আরেকজন শিক্ষার্থীও প্রক্টর বরাবর চিঠি দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন, চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০২-২১ সেশনের আলমাস মাহফুজ রাফিদ (মূল যেতা), ফরহাদ হোসেন সুমন, সাগর রয় অনিক ও মেহেদী হাসান। অভিযুক্ত ৪ জনই চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, আজ ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮ টায় শহরে চারুকলা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আমি বাস থেকে নামার পর আলমাস (২০-২১) আমাকে জোরপূর্বক রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ১নং রুমে নিয়ে আটকে রাখে। ওই রুমে চারজন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধর শুরু করে। পালাক্রমে আলমাস , সুমন মেহেদী, সাগর। সবাই চারুকলা (২০-২১) সেশনের শিক্ষার্থী।
এতে আরোও উল্লেখ করা হয়, আমাকে মারধর শেষে আলমাস হাতে ও গলায় জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। তারা আমাকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করে এবং আমার বর্ষ ‘ফিগার স্টাডি’ কোর্স-১০৩ পরীক্ষা দিতে দেয় নি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাই, এবং আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী স্বাগত দাস  বলেন, আমি পরীক্ষা দিতে সকালে শহরে চারুকলা ইন্সটিটিউটে যাই। ইন্সটিটিউটের সামনে বাস থেকে নামার পরে আলমাস ও তার সাথের কয়েকজন মিলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং আমাকে একটি রুমে আটকে রাখে। আমি সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসতে চাইলে তারা আমাকে মারধর শুরু করে এবং সিগারেট দিয়ে আমার হাত এবং গলা পুড়িয়ে ফেলে।
ভুক্তভোগী আরোও জানান, পরবর্তীতে তুষার দে (২০-২১) নামের আরেক ভাই এসে আমাকে বাঁচাতে চাইলে উনাকেও তারা মারধর শুরু করে। তাঁকে কেন মারধর করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমাকে কেন মারধর করেছে আমি জানিনা। তাদের সাথে আমার পূর্বের কোন শত্রুতা নেই তবে আমাদের ‘সিএফসি’ ও ‘ভিএক্স’ গ্রুপের মধ্যে ঝামেলার জন্যই হয়তো আমাকে মারধর করেছে। আর আলমাস, উনি আমার ডিপার্ট্মেন্টের সিনিয়র। উনার সাথে আমি একই মেসে থেকেছি। তবুও কেন তারা আমাকে মেরেছে আমি জানিনা।
ভুক্তভোগী স্বাগত দাসকে বাঁচাতে আসা চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০২০-২১ সেশনের তুষার দে  বলেন, স্বাগতকে মারছে দেখে আমি তাঁকে সেইফ করতে গেলে আমাকেও মুখে ঘুসি মারে আলমাস। আমার সাথেও তারা হাতাহাতি করে। আমি প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মূল হোতা আলমাস মাহফুজ রাফিদকে মোটোফোনে বারংবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি সারা দেননি।
যদিও রুমে আটকে রাখা ও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আরেক অভিযুক্ত অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন সুমন। তিনি বলেন, এমন একটি ঘটনা ঘটেছে সকালে। তবে এর সাথে আমি জড়িত নই। আমার ব্যাচমেট আলমাস ও জুনিয়র স্বাগতের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মেহেদী হাসান নামের আরেক অভিযুক্ত। তিনি বলেন, এটা স্বাগত (ভুক্তভোগী) ও আলমাসের (অভিযুক্ত) মধ্যেকার ঘটনা। তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা থেকেই এমন হয়েছে। মারধরের সাথে আমি সম্পৃক্ত নই।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক ও ভিএক্স গ্রুপের নেতা মাহির মোহাম্মদ মাহফুজ বলেন, আমি পারিবারিক কিছু কাজে ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। যদি এরকম ঘটে থাকে সে যেই গ্রুপের হোক না কেন তার বিচার হতে হবে।
মারধরের বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সাদাফ খান বলেন, প্রশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে এই ন্যাকারজনক কর্মকান্ডের বিচার করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন বাদি হয়ে মামলা করতে হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছি এবং প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এ বিষয়ে চারুকলা ইন্সটিটিউটের পরিচালক সুফিয়া বেগম বলেন, যখন ঘটনাটি ঘটে তখন আমি মূল ক্যাম্পাসে একটি প্রোগ্রামে ছিলাম। আমি তাকে (ভুক্তভোগী) প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিতে বলেছি। এরকম কিছু ঘটে থাকলে মূল অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তি আওতায় আনতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. অহিদুল আলম বলেন, এটি একটি বিবেক বিবর্জিত কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়ায় একটি ন্যক্কারজনক কাজ। আগামীকাল প্রক্টর অফিসে এ নিয়ে মিটিংয়ে আলোচনা ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।